ঢাকা ০৭:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অসময়ে ঘন কুয়াশায় মোংলায় নৌযান ও গাড়ি চলাচল চরমভাবে বিঘ্নিত 

মোংলা বন্দরসহ পাশ্ববর্তী উপকূলীয় এলাকায় আজ হঠাৎ জেঁকে বসা অসময়ের ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘন কুয়াশার চাদরে চারপাশ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ায় মোংলা বন্দরের পশুর নদীসহ বিভিন্ন রুটে নৌযান চলাচল এবং মোংলা-খুলনা মহাসড়কে গাড়ি চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

নৌ ও সড়ক পথে গাড়ী চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় দেয়া দিয়েছে  স্থবিরতা। আজ ভোর থেকেই পশুর নদীতে কুয়াশার তীব্রতা এতটাই বৃদ্ধি পায় যে, কয়েক হাত দূরের কোনো কিছু দেখাও অসম্ভব হয়ে পড়ে। এর ফলে কূলকিনারা দেখতে না পাওয়ায় মাঝনদীতে আটকা পড়ে বহু ছোট-বড় নৌযান ও পণ্যবাহী কার্গো। বিশেষ করে মোংলা বন্দরের হাড়বাড়িয়া ও ফেয়ারওয়ে এলাকায় অবস্থানরত বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে পণ্য খালাস ও পরিবহনের কাজ সাময়িকভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে। দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে লঞ্চ ও ট্রলার চলাচল সীমিত রাখা হয়েছে এবং বড় জাহাজগুলোকে সাবধানে চলাচল করছে।

নৌপথের পাশাপাশি সড়কপথেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। মোংলা-খুলনা মহাসড়কসহ স্থানীয় সড়কগুলোতে হেডলাইট জ্বালিয়ে অত্যন্ত ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় দীর্ঘ সময় গাড়ি আটকে থাকায় যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। বিশেষ করে দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

সাধারণত শীতকাল ছাড়া এ ধরণের ঘন কুয়াশা দেখা যায় না বলে স্থানীয়রা একে ‘অসময়ের কুয়াশা’ হিসেবে অভিহিত করছেন। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের কারণে ফেরি চলাচলও বেশ কিছু সময় বন্ধ রাখতে হয়, যার ফলে নদীর দুই পাড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘন কুয়াশার কারণে বন্দরের অপারেশনাল কাজ কিছুটা ধীর হয়ে গেলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সাথে সাথেই তা পুনরায় পুরোদমে শুরু হয়। অন্যদিকে, বন বিভাগ ও কোস্ট গার্ডের টহল টিমগুলোকেও ঘন কুয়াশায় নৌ-রুটে চলাচলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে দেখা গেছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, বাতাসের আদ্রতা ও তাপমাত্রার আকস্মিক পার্থক্যের কারণেই এই ঘন কুয়াশার সৃষ্টি হয়েছে, যা রোদ উঠলে দ্রুত কেটে যেতে পারে।

ট্যাগস

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষিণ আফ্রিকায় রাণীশংকৈলের তরুণকে গুলি করে হত্যা

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

অসময়ে ঘন কুয়াশায় মোংলায় নৌযান ও গাড়ি চলাচল চরমভাবে বিঘ্নিত 

আপডেট সময় ০৫:৪৩:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

মোংলা বন্দরসহ পাশ্ববর্তী উপকূলীয় এলাকায় আজ হঠাৎ জেঁকে বসা অসময়ের ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘন কুয়াশার চাদরে চারপাশ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ায় মোংলা বন্দরের পশুর নদীসহ বিভিন্ন রুটে নৌযান চলাচল এবং মোংলা-খুলনা মহাসড়কে গাড়ি চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

নৌ ও সড়ক পথে গাড়ী চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় দেয়া দিয়েছে  স্থবিরতা। আজ ভোর থেকেই পশুর নদীতে কুয়াশার তীব্রতা এতটাই বৃদ্ধি পায় যে, কয়েক হাত দূরের কোনো কিছু দেখাও অসম্ভব হয়ে পড়ে। এর ফলে কূলকিনারা দেখতে না পাওয়ায় মাঝনদীতে আটকা পড়ে বহু ছোট-বড় নৌযান ও পণ্যবাহী কার্গো। বিশেষ করে মোংলা বন্দরের হাড়বাড়িয়া ও ফেয়ারওয়ে এলাকায় অবস্থানরত বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে পণ্য খালাস ও পরিবহনের কাজ সাময়িকভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে। দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে লঞ্চ ও ট্রলার চলাচল সীমিত রাখা হয়েছে এবং বড় জাহাজগুলোকে সাবধানে চলাচল করছে।

নৌপথের পাশাপাশি সড়কপথেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। মোংলা-খুলনা মহাসড়কসহ স্থানীয় সড়কগুলোতে হেডলাইট জ্বালিয়ে অত্যন্ত ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় দীর্ঘ সময় গাড়ি আটকে থাকায় যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। বিশেষ করে দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

সাধারণত শীতকাল ছাড়া এ ধরণের ঘন কুয়াশা দেখা যায় না বলে স্থানীয়রা একে ‘অসময়ের কুয়াশা’ হিসেবে অভিহিত করছেন। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের কারণে ফেরি চলাচলও বেশ কিছু সময় বন্ধ রাখতে হয়, যার ফলে নদীর দুই পাড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘন কুয়াশার কারণে বন্দরের অপারেশনাল কাজ কিছুটা ধীর হয়ে গেলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সাথে সাথেই তা পুনরায় পুরোদমে শুরু হয়। অন্যদিকে, বন বিভাগ ও কোস্ট গার্ডের টহল টিমগুলোকেও ঘন কুয়াশায় নৌ-রুটে চলাচলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে দেখা গেছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, বাতাসের আদ্রতা ও তাপমাত্রার আকস্মিক পার্থক্যের কারণেই এই ঘন কুয়াশার সৃষ্টি হয়েছে, যা রোদ উঠলে দ্রুত কেটে যেতে পারে।