ঢাকা ০৯:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সহজ ম্যাচ হেরে গেল বাংলাদেশ

উইকেট ধীরগতির হবে, বল নিচু হয়ে আসবে। এসব জানা ছিল ক্রিকেটারদের। আড়াইশ রান বড় লক্ষ্য নয়। তবে, মিরপুরের এই উইকেটে ২৪৮ রানের লক্ষ্য চ্যালেঞ্জিং। বাংলাদেশ যেভাবে খেলছিল, সেটি তাড়া করে জয়ের আশাতেই ছিলেন ভক্তরা। কিন্তু, ক্রিকেটাররা খেলেছেন গা এলিয়ে। তাতে রানরেট পাল্লা দিয়ে বেড়েছে, চাপ বেড়েছে। যে চাপ সামাল দিয়ে ম্যাচ আর বের করা হয়নি।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) মাঠে নামে বাংলাদেশ। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের ২৬ রানে হারিয়েছে কিউইরা।

টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৪৭ রান করেছে নিউজিল্যান্ড। জবাবে ৪৮.৩ ওভারে ২২১ রানে অলআউট বাংলাদেশ।

চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বড় খেয়েছে বাংলাদেশ। দলীয় ২১ রানের মাথায় দুই উইকেট হারিয়েছে স্বাগতিকরা। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে নাথান স্মিথের বলে এগিয়ে এসে বড় শট খেলার চেষ্টা করেন তামিম। কিন্তু ব্যাটে-বলে কোনো সংযোগ হয়নি। বল সোজা গিয়ে আঘাত হানে স্টাম্পে। এরপর তিন নম্বরে ব্যাটিং নেমে গোল্ডেন ডাক মেরে ফেরেন নাজমুল হোসেন শান্ত। স্মিথের সুইং করে ভেতরে ঢোকা বলের কোনো উত্তর খুঁজে পাননি শান্ত।

ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলার দায়িত্ব নেন লিটন দাস। একটু একটু করে রান এগিয়ে নিচ্ছিলেন তিনি। ৬৮ বলে ৪৬ রান করে ডিন ফক্সক্রফটের বলে বোল্ড হন লিটন। পঞ্চম উইকেটে আফিফ হোসেনকে নিয়ে জুটি গড়েন তাওহিদ হৃদয়।

৫২ রানের জুটি ভাঙে আফিফের বিদায়ে। ৪৯ বলে ২৭ রান আসে আফিফের ব্যাট থেকে। এর পরের গল্পে পুরোনো চিত্র। মেহেদী হাসান মিরাজ, রিশাদ হোসেনরা উইকেট বিলিয়েছেন। আসা-যাওয়ার মিছিলে বাড়ছিল রানরেট, সমান্তরালে চাপ। একপ্রান্তে হৃদয় ফিফটি তুলে নেন। শেষ ব্যাটার হিসেবে বিদায়ের আগে ৬০ বলে ৫৫ রান করেন। বাকিদের ব্যর্থতায় বৃথা গেছে তার ইনিংস।

নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ব্লেয়ার টিকনার চারটি এবং নাথান স্মিথ নেন তিন উইকেট।

বল হাতে সপ্তম ওভারে বাংলাদেশকে উইকেটের মুখ দেখান পেসার শরিফুল। ২৩ বলে ৭ রান করে শরিফুলের ডেলিভারিতে বোল্ড হন কিউই ওপেনার নিক কেলি। কেলির অফস্ট্যাম্প উড়িয়ে দেন বাংলাদেশি এই পেসার।

তিন নম্বরে নামা উইল ইয়ংকে তানজিদ হাসান তামিমের ক্যাচ বানিয়ে ফেরত পাঠান রিশাদ হোসেন। ২২তম ওভারে রিশাদের প্রথম বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে স্লিপে তানজিদের হাতে ক্যাচ তুলে দেন উইল ইয়াং। এবার তিনি মিস করেননি। ৪২ বলে ৩০ রান করে ফেরেন ইয়াং। ভাঙে ৭৩ রানের জুটি।

২৭তম ওভারে টম লাথামকে ফিরিয়ে নিউজিল্যান্ডের তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটান অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। তার নিচু হয়ে ভেতরে ঢোকা বল ব্যাকফুটে গিয়েও আটকাতে পারেননি লাথাম। বোল্ড হয়ে ফেরার আগে করেন ১৫ বলে ১৪ রান।

পরের ওভারে এসে নিজের দ্বিতীয় আর নিউজিল্যান্ডের চতুর্থ উইকেট তুলে নেন রিশাদ হোসেন। ইনিংসের সূচনা করতে নেমে একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন হেনরি নিকোলস। হাফসেঞ্চুরিও তুলে নিয়েছিলেন তিনি। ২৮তম ওভারের পঞ্চম বলে রিশাদকে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে মাথার ওপর ক্যাচ তোলেন নিকোলস। সহজ ক্যাচ নেন উইকেটকিপার লিটন। ৯ চারে ৮৩ বলে ৬৮ রান করে ফেরেন নিকোলস।

এরপর দলের হাল ধরার চেষ্টায় ছিলেন ডেন ফক্সক্রফট আর মোহাম্মদ আব্বাস। ৪৭ বলে তাদের ৩৪ রানের জুটি ভাঙেন শরিফুল। উইকেটের পেছনে লিটনের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ৩০ বলে ১৪ রান করেন আব্বাস।

বল হাতে ঝড় তোলেন আরেক পেসার তাসকিন আহমেদ। তার দুই শিকারের দুটিই বোল্ড। প্রথমে ফেরান জস ক্লার্কসনকে। ১৬ বলে ৮ করেন ক্লার্কসন। অষ্টম ব্যাটার হিসেবে ব্লেয়ার টিকনারকে বোল্ড করেন তাসকিন, টিকনার করেন ১০ বলে ৭ রান।

তাসকিনের দুই উইকেটের মাঝে ম্যাচে নিজের একমাত্র শিকার করেন নাহিদ রানা। ৫৮ বলে ৫৯ রান করে বিপজ্জনক হয়ে ওঠা ডিন ফক্সক্রফটকে দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেন নাহিদ তার স্লো ইয়র্কারে পরাস্ত হন কিউই ব্যাটার।

বাংলাদেশের পক্ষে করে উইকেট নেন তাসকিন, শরিফুল ও রিশাদ। মিরাজ ও নাহিদ রানা নেন একটি করে উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

নিউজিল্যান্ড : ৫০ ওভারে ২৪৭/৮ (নিকোলস ৬৮, কেলি ৭, ইয়াং ৩০, লাথাম ১৪, আব্বাস ১৪, ফক্সক্রফট ৫৯, ক্লার্কসন ৮, টিকনার ৭, স্মিথ ২১*, লিননক্স ১*; তাসকিন ১০-০-৫০-২, শরিফুল ১০-২-২৭-২, মিরাজ ১০-১-৫৪-১, নাহিদ ১০-০-৬৫-১, রিশাদ ১০-০-৪৪-২)

বাংলাদেশ : ৪৮.৩ ওভারে ২২১/১০ (সাইফ ৫৭, তামিম ২, শান্ত ০, লিটন ৪৬, আফিফ ২৭, মিরাজ ৬, রিশাদ ৪, শরিফুল ০, তাসকিন ২, হৃদয় ৫৫, নাহিদ ০*; ও’রুর্ক ৯-০-৫১-১, স্মিথ ৯.৩-১-৪৫-৩, টিকনার ১০-০-৪০-০৪, ক্লার্কসন ৪-০-২৭-০, লিননক্স ১০-০-৩২-১, ফ্রক্সক্রফট ৬-০-২৫-১)

ফলাফল : নিউজিল্যান্ড ২৬ রানে জয়ী।

ট্যাগস

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ ম্যাচ হেরে গেল বাংলাদেশ

আপডেট সময় ০৮:৫৯:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

উইকেট ধীরগতির হবে, বল নিচু হয়ে আসবে। এসব জানা ছিল ক্রিকেটারদের। আড়াইশ রান বড় লক্ষ্য নয়। তবে, মিরপুরের এই উইকেটে ২৪৮ রানের লক্ষ্য চ্যালেঞ্জিং। বাংলাদেশ যেভাবে খেলছিল, সেটি তাড়া করে জয়ের আশাতেই ছিলেন ভক্তরা। কিন্তু, ক্রিকেটাররা খেলেছেন গা এলিয়ে। তাতে রানরেট পাল্লা দিয়ে বেড়েছে, চাপ বেড়েছে। যে চাপ সামাল দিয়ে ম্যাচ আর বের করা হয়নি।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) মাঠে নামে বাংলাদেশ। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের ২৬ রানে হারিয়েছে কিউইরা।

টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৪৭ রান করেছে নিউজিল্যান্ড। জবাবে ৪৮.৩ ওভারে ২২১ রানে অলআউট বাংলাদেশ।

চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বড় খেয়েছে বাংলাদেশ। দলীয় ২১ রানের মাথায় দুই উইকেট হারিয়েছে স্বাগতিকরা। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে নাথান স্মিথের বলে এগিয়ে এসে বড় শট খেলার চেষ্টা করেন তামিম। কিন্তু ব্যাটে-বলে কোনো সংযোগ হয়নি। বল সোজা গিয়ে আঘাত হানে স্টাম্পে। এরপর তিন নম্বরে ব্যাটিং নেমে গোল্ডেন ডাক মেরে ফেরেন নাজমুল হোসেন শান্ত। স্মিথের সুইং করে ভেতরে ঢোকা বলের কোনো উত্তর খুঁজে পাননি শান্ত।

ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলার দায়িত্ব নেন লিটন দাস। একটু একটু করে রান এগিয়ে নিচ্ছিলেন তিনি। ৬৮ বলে ৪৬ রান করে ডিন ফক্সক্রফটের বলে বোল্ড হন লিটন। পঞ্চম উইকেটে আফিফ হোসেনকে নিয়ে জুটি গড়েন তাওহিদ হৃদয়।

৫২ রানের জুটি ভাঙে আফিফের বিদায়ে। ৪৯ বলে ২৭ রান আসে আফিফের ব্যাট থেকে। এর পরের গল্পে পুরোনো চিত্র। মেহেদী হাসান মিরাজ, রিশাদ হোসেনরা উইকেট বিলিয়েছেন। আসা-যাওয়ার মিছিলে বাড়ছিল রানরেট, সমান্তরালে চাপ। একপ্রান্তে হৃদয় ফিফটি তুলে নেন। শেষ ব্যাটার হিসেবে বিদায়ের আগে ৬০ বলে ৫৫ রান করেন। বাকিদের ব্যর্থতায় বৃথা গেছে তার ইনিংস।

নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ব্লেয়ার টিকনার চারটি এবং নাথান স্মিথ নেন তিন উইকেট।

বল হাতে সপ্তম ওভারে বাংলাদেশকে উইকেটের মুখ দেখান পেসার শরিফুল। ২৩ বলে ৭ রান করে শরিফুলের ডেলিভারিতে বোল্ড হন কিউই ওপেনার নিক কেলি। কেলির অফস্ট্যাম্প উড়িয়ে দেন বাংলাদেশি এই পেসার।

তিন নম্বরে নামা উইল ইয়ংকে তানজিদ হাসান তামিমের ক্যাচ বানিয়ে ফেরত পাঠান রিশাদ হোসেন। ২২তম ওভারে রিশাদের প্রথম বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে স্লিপে তানজিদের হাতে ক্যাচ তুলে দেন উইল ইয়াং। এবার তিনি মিস করেননি। ৪২ বলে ৩০ রান করে ফেরেন ইয়াং। ভাঙে ৭৩ রানের জুটি।

২৭তম ওভারে টম লাথামকে ফিরিয়ে নিউজিল্যান্ডের তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটান অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। তার নিচু হয়ে ভেতরে ঢোকা বল ব্যাকফুটে গিয়েও আটকাতে পারেননি লাথাম। বোল্ড হয়ে ফেরার আগে করেন ১৫ বলে ১৪ রান।

পরের ওভারে এসে নিজের দ্বিতীয় আর নিউজিল্যান্ডের চতুর্থ উইকেট তুলে নেন রিশাদ হোসেন। ইনিংসের সূচনা করতে নেমে একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন হেনরি নিকোলস। হাফসেঞ্চুরিও তুলে নিয়েছিলেন তিনি। ২৮তম ওভারের পঞ্চম বলে রিশাদকে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে মাথার ওপর ক্যাচ তোলেন নিকোলস। সহজ ক্যাচ নেন উইকেটকিপার লিটন। ৯ চারে ৮৩ বলে ৬৮ রান করে ফেরেন নিকোলস।

এরপর দলের হাল ধরার চেষ্টায় ছিলেন ডেন ফক্সক্রফট আর মোহাম্মদ আব্বাস। ৪৭ বলে তাদের ৩৪ রানের জুটি ভাঙেন শরিফুল। উইকেটের পেছনে লিটনের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ৩০ বলে ১৪ রান করেন আব্বাস।

বল হাতে ঝড় তোলেন আরেক পেসার তাসকিন আহমেদ। তার দুই শিকারের দুটিই বোল্ড। প্রথমে ফেরান জস ক্লার্কসনকে। ১৬ বলে ৮ করেন ক্লার্কসন। অষ্টম ব্যাটার হিসেবে ব্লেয়ার টিকনারকে বোল্ড করেন তাসকিন, টিকনার করেন ১০ বলে ৭ রান।

তাসকিনের দুই উইকেটের মাঝে ম্যাচে নিজের একমাত্র শিকার করেন নাহিদ রানা। ৫৮ বলে ৫৯ রান করে বিপজ্জনক হয়ে ওঠা ডিন ফক্সক্রফটকে দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেন নাহিদ তার স্লো ইয়র্কারে পরাস্ত হন কিউই ব্যাটার।

বাংলাদেশের পক্ষে করে উইকেট নেন তাসকিন, শরিফুল ও রিশাদ। মিরাজ ও নাহিদ রানা নেন একটি করে উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

নিউজিল্যান্ড : ৫০ ওভারে ২৪৭/৮ (নিকোলস ৬৮, কেলি ৭, ইয়াং ৩০, লাথাম ১৪, আব্বাস ১৪, ফক্সক্রফট ৫৯, ক্লার্কসন ৮, টিকনার ৭, স্মিথ ২১*, লিননক্স ১*; তাসকিন ১০-০-৫০-২, শরিফুল ১০-২-২৭-২, মিরাজ ১০-১-৫৪-১, নাহিদ ১০-০-৬৫-১, রিশাদ ১০-০-৪৪-২)

বাংলাদেশ : ৪৮.৩ ওভারে ২২১/১০ (সাইফ ৫৭, তামিম ২, শান্ত ০, লিটন ৪৬, আফিফ ২৭, মিরাজ ৬, রিশাদ ৪, শরিফুল ০, তাসকিন ২, হৃদয় ৫৫, নাহিদ ০*; ও’রুর্ক ৯-০-৫১-১, স্মিথ ৯.৩-১-৪৫-৩, টিকনার ১০-০-৪০-০৪, ক্লার্কসন ৪-০-২৭-০, লিননক্স ১০-০-৩২-১, ফ্রক্সক্রফট ৬-০-২৫-১)

ফলাফল : নিউজিল্যান্ড ২৬ রানে জয়ী।