শিরোনাম :
দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে হরমুজ প্রণালিতে সৌদি ট্যাংকারে ইরানি হামলা, নিহত দুই নাবিক আসিফ সহ চারজনের নিয়োগ, বদলি ও কেনাকাটায় ব্যাপক দুর্নীতি: অনুসন্ধানে দুদক ভারত সফর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে : দীনেশ বেতন বৃদ্ধিতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা বিদ্যুৎ মন্ত্রী টুকুকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন রাষ্ট্রপতি বিপিএল ফিক্সিংয়ে এবার বিসিবির পরিচালক সমালোচনার মুখে স্থগিত আইয়ুব বাচ্চুর ‘উত্তরাধিকার’ ট্রিবিউট প্রকল্প বহুদলীয় গণতন্ত্রই নয়, সংসদীয় গণতন্ত্রও এনেছে বিএনপি : প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক জোরদারের আশা স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর

শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ: শেখ হাসিনাসহ ৩০ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩০ জন আসামিকে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এই নির্দেশনা সংবলিত বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রকাশ করারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) প্রসিকিউশনের আবেদনের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক বেঞ্চ এই আদেশ দেন। এদিন সকালে কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে প্রিজনভ্যানে করে গ্রেফতারকৃত আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
যাদের সশরীরে হাজির করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি ও আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক পুলিশপ্রধান একেএম শহীদুল হক, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল জলিল মণ্ডল এবং ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির প্রধান শাহরিয়ার কবিরসহ একজন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব। শারীরিক অসুস্থতার কারণে একজন সাংবাদিককে আদালতে তোলা সম্ভব হয়নি।
মামলার অধিকাংশ আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। এই তালিকায় শেখ হাসিনা ছাড়াও রয়েছেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, ক্ষমতাসীন দলের একাধিক শীর্ষ নেতা, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মৃণাল কান্তি দাস, সাবেক যুবসংগঠনের নেতা ওমর ফারুক চৌধুরী এবং সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ। এছাড়া তালিকায় রয়েছেন একটি ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র, একাধিক সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক, সাবেক র‍্যাব মহাপরিচালক, সাবেক সেনাপ্রধান, রাজধানীর পুলিশ প্রশাসনের একাধিক সাবেক কর্মকর্তা এবং ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট থানার দায়িত্বে থাকা একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, গত ১৬ আগস্ট এই মামলায় ১১ জন আসামিকে হাজির করার তারিখ নির্ধারিত ছিল। তবে দুইজনের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট ইস্যু না হওয়া এবং পলাতকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন না আসায় সময় চেয়ে আবেদন করে প্রসিকিউশন পক্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবারের দিনটি নির্ধারণ করে ট্রাইব্যুনাল।
গত ২৭ জুলাই এই মামলায় মোট ৪১ জন আসামির বিরুদ্ধে দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল-২। সেসময় পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং গ্রেফতারকৃতদের আদালতে হাজিরের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
মামলায় দুটি পৃথক অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে আনা হয়েছে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি। মানবতাবিরোধী অপরাধ সংক্রান্ত এই মামলাটি দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জবাবদিহিতার প্রশ্ন সরাসরি সামনে এসেছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আসামিরা আত্মসমর্পণ না করলে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া অনুপস্থিতিতেই এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। ট্রাইব্যুনালের এই আদেশ পরবর্তী শুনানির গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সান্তাহারে তারেক রহমান-এর ১৯ তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক জোরদারের আশা স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর

০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ: শেখ হাসিনাসহ ৩০ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

আপডেট সময় ০১:২৮:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩০ জন আসামিকে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এই নির্দেশনা সংবলিত বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রকাশ করারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) প্রসিকিউশনের আবেদনের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক বেঞ্চ এই আদেশ দেন। এদিন সকালে কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে প্রিজনভ্যানে করে গ্রেফতারকৃত আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
যাদের সশরীরে হাজির করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি ও আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক পুলিশপ্রধান একেএম শহীদুল হক, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল জলিল মণ্ডল এবং ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির প্রধান শাহরিয়ার কবিরসহ একজন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব। শারীরিক অসুস্থতার কারণে একজন সাংবাদিককে আদালতে তোলা সম্ভব হয়নি।
মামলার অধিকাংশ আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। এই তালিকায় শেখ হাসিনা ছাড়াও রয়েছেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, ক্ষমতাসীন দলের একাধিক শীর্ষ নেতা, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মৃণাল কান্তি দাস, সাবেক যুবসংগঠনের নেতা ওমর ফারুক চৌধুরী এবং সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ। এছাড়া তালিকায় রয়েছেন একটি ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র, একাধিক সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক, সাবেক র‍্যাব মহাপরিচালক, সাবেক সেনাপ্রধান, রাজধানীর পুলিশ প্রশাসনের একাধিক সাবেক কর্মকর্তা এবং ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট থানার দায়িত্বে থাকা একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, গত ১৬ আগস্ট এই মামলায় ১১ জন আসামিকে হাজির করার তারিখ নির্ধারিত ছিল। তবে দুইজনের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট ইস্যু না হওয়া এবং পলাতকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন না আসায় সময় চেয়ে আবেদন করে প্রসিকিউশন পক্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবারের দিনটি নির্ধারণ করে ট্রাইব্যুনাল।
গত ২৭ জুলাই এই মামলায় মোট ৪১ জন আসামির বিরুদ্ধে দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল-২। সেসময় পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং গ্রেফতারকৃতদের আদালতে হাজিরের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
মামলায় দুটি পৃথক অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে আনা হয়েছে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি। মানবতাবিরোধী অপরাধ সংক্রান্ত এই মামলাটি দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জবাবদিহিতার প্রশ্ন সরাসরি সামনে এসেছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আসামিরা আত্মসমর্পণ না করলে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া অনুপস্থিতিতেই এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। ট্রাইব্যুনালের এই আদেশ পরবর্তী শুনানির গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card