প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপের সৌজন্য সাক্ষাৎ গ্রহণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে তিনি বলেন, বিএনপি শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্রই ফিরিয়ে আনেনি, বরং সংসদীয় গণতন্ত্রও এই দলের হাত ধরেই দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন সাক্ষাতের বিষয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রশংসা করে আন্দা ফিলিপ বলেন, জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত উপস্থিতি সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর দৃঢ় অঙ্গীকারের বার্তা বহন করে। জবাবে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পারায় তিনি গভীরভাবে আনন্দিত। তিনি স্মরণ করেন, দলের অসংখ্য নেতাকর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন এবং প্রায় ৪০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক ধারা সুগম হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও সরকার গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একটি কার্যকর ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের টেকসই অগ্রগতি সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা ও জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তারেক রহমান।
আইপিইউ সেক্রেটারি জানান, তিনি বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার পড়েছেন এবং শিক্ষা খাতে গৃহীত উদ্যোগ ও কমিউনিটিভিত্তিক কর্মসূচির প্রশংসা করেন। বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রার প্রশংসা করে তিনি বলেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা আরও দৃঢ় হবে। তানজানিয়ায় অনুষ্ঠেয় আইপিইউর ১৫৩তম সম্মেলনে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকারের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আইপিইউর সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সাক্ষাতে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তরুণ ও নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আন্দা ফিলিপ তাঁদের উদ্যম ও আগ্রহের প্রশংসা করেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন তাঁর সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। নারীদের জন্য অনার্স পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং নারী শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের মূল লক্ষ্য নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
শামসুল হক মামুন, ঢাকা 









