শিরোনাম :
যুদ্ধের ধাক্কায় ২০২৬ সালে বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য বাড়তে পারে ২৩ শতাংশ এশিয়া কাপ আর্চারিতে বাংলাদেশের আরও একটি সোনালি দিন ‘নেতার পক্ষ ছেড়েছিল, শোধ নিতে ছেলের প্রাণটাই কেড়ে নিল’ রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে আগুনে একই পরিবারের শিশুসহ পাঁচজন দগ্ধ টোকিওতে কারিগরি ত্রুটিতে থেমে গেল প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইট সাদমানের সেঞ্চুরি, ধস ও তাইজুলের জোড়া আঘাতে নাটকীয় দ্বিতীয় দিন হাম, ডেঙ্গুতে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না ফাস্ট ফুডের মোহে স্বাস্থ্যহানি: শিশুদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় এখনই চাই রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ রাতে মাকে ফোনে জানায় বাসায় ফিরছি, কিন্তু আর ফেরা হলো না তাহসিফের তুরাগ নদে উদ্ধার তাহসিফের মরদেহ, ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে: স্বরাষ্ট মন্ত্রী

তালের পিঠা-পুলি খেয়ে বুক জ্বালা? হজমের সমস্যা এড়ানোর সহজ উপায়

ভাদ্র মাস মানেই বাংলাদেশের ঘরে ঘরে তালের গন্ধ। গাছ থেকে পাকা তাল পেড়ে তার ক্বাথ বা রস বের করে তাতে চালের গুঁড়ো, ময়দা, গুড় বা নারকেল মিশিয়ে তৈরি হয় তালের বড়া, তালের পিঠা, তালের ক্ষীর কিংবা তালের মালপোয়ার মতো নানা মুখরোচক খাবার। গ্রামবাংলার পাশাপাশি শহরের বাজারেও এখন মৌসুমি এসব পদ পাওয়া যায় সহজেই। কিন্তু সমস্যা বাধে তখনই, যখন প্রিয় এই খাবার খাওয়ার পরপরই অনেকে বুক জ্বালাপোড়া বা পেট ফাঁপার মতো অস্বস্তিতে ভোগেন।
তাল কি আসলেই ক্ষতিকর?
বিশেষজ্ঞদের মতে, তাল নিজে থেকে মোটেও ক্ষতিকর ফল নয়; বরং পুষ্টিগুণে ভরপুর। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, বি ও সি-এর পাশাপাশি ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও আয়রনের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। পরিমিত পরিমাণে তালের রস খেলে তা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও ভূমিকা রাখে।
তাহলে সমস্যা হয় কেন?
মূল সমস্যাটা তাল নয়, বরং তা রান্নার পদ্ধতিতে। তালের ক্বাথের সঙ্গে গুড়, আটা বা ময়দা মিশিয়ে ডুবো তেলে ভেজে তৈরি করা বড়ায় থাকে অতিরিক্ত তেল ও চর্বি, যা হজমপ্রক্রিয়া ধীর করে দেয় এবং পাকস্থলীর অ্যাসিড উপরের দিকে ঠেলে দেয়। এ ছাড়া বেশি চিনি বা গুড়ের ব্যবহারও গ্যাস ও অ্যাসিডিটির অন্যতম কারণ। তালের কাঁচা রস ঠিকমতো জ্বাল না দিলে তার কষা ভাব থেকেও পেটে জ্বালাপোড়া হতে পারে। আবার তালের ক্বাথ বেশ ভারী হওয়ায় তা হজম হতে সময় নেয়, তাই রাতে খেলে অস্বস্তি বাড়ার আশঙ্কা থাকে।
সমস্যা এড়াতে করণীয়
তালের রস বের করার পর তা অল্প আঁচে মিনিট দশেক ফুটিয়ে কষ ঝরিয়ে নিলে গ্যাস্ট্রিকের ঝুঁকি অনেকটাই কমে। ময়দার বদলে চালের গুঁড়ো বা সুজি এবং চিনির বদলে গুড় ব্যবহার করা ভালো। ভাজার পর টিস্যু পেপার বা পাতলা কাপড়ে বড়া রেখে বাড়তি তেল ঝরিয়ে নিলেও উপকার মেলে। খালি পেটে বা রাতে ঘুমানোর ঠিক আগে ভাজাপোড়া তালের খাবার না খাওয়াই ভালো; বরং দুপুর বা বিকেলের দিকে খাওয়া নিরাপদ। একসঙ্গে অনেকগুলো বড়া না খেয়ে চার-পাঁচটির মধ্যে সীমিত রাখা উচিত। যাঁদের ঘন ঘন গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়, তাঁরা ভাজা বড়ার বদলে তালের পিঠা বা তালের ক্ষীরের মতো তুলনামূলক হালকা পদ বেছে নিতে পারেন, কিংবা কম তেলে তালের রুটিও বানানো যায়।
মৌসুমি এই স্বাদ থেকে বঞ্চিত না হয়ে একটু সতর্কতার সঙ্গে খেলেই তাল হয়ে উঠতে পারে নিরাপদ ও উপাদেয়— আর পেটের অস্বস্তি নিয়ে দুশ্চিন্তাও কমে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধের ধাক্কায় ২০২৬ সালে বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য বাড়তে পারে ২৩ শতাংশ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

তুরাগ নদে উদ্ধার তাহসিফের মরদেহ, ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে: স্বরাষ্ট মন্ত্রী

২৯ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

তালের পিঠা-পুলি খেয়ে বুক জ্বালা? হজমের সমস্যা এড়ানোর সহজ উপায়

আপডেট সময় ০৭:১৭:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

ভাদ্র মাস মানেই বাংলাদেশের ঘরে ঘরে তালের গন্ধ। গাছ থেকে পাকা তাল পেড়ে তার ক্বাথ বা রস বের করে তাতে চালের গুঁড়ো, ময়দা, গুড় বা নারকেল মিশিয়ে তৈরি হয় তালের বড়া, তালের পিঠা, তালের ক্ষীর কিংবা তালের মালপোয়ার মতো নানা মুখরোচক খাবার। গ্রামবাংলার পাশাপাশি শহরের বাজারেও এখন মৌসুমি এসব পদ পাওয়া যায় সহজেই। কিন্তু সমস্যা বাধে তখনই, যখন প্রিয় এই খাবার খাওয়ার পরপরই অনেকে বুক জ্বালাপোড়া বা পেট ফাঁপার মতো অস্বস্তিতে ভোগেন।
তাল কি আসলেই ক্ষতিকর?
বিশেষজ্ঞদের মতে, তাল নিজে থেকে মোটেও ক্ষতিকর ফল নয়; বরং পুষ্টিগুণে ভরপুর। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, বি ও সি-এর পাশাপাশি ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও আয়রনের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। পরিমিত পরিমাণে তালের রস খেলে তা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও ভূমিকা রাখে।
তাহলে সমস্যা হয় কেন?
মূল সমস্যাটা তাল নয়, বরং তা রান্নার পদ্ধতিতে। তালের ক্বাথের সঙ্গে গুড়, আটা বা ময়দা মিশিয়ে ডুবো তেলে ভেজে তৈরি করা বড়ায় থাকে অতিরিক্ত তেল ও চর্বি, যা হজমপ্রক্রিয়া ধীর করে দেয় এবং পাকস্থলীর অ্যাসিড উপরের দিকে ঠেলে দেয়। এ ছাড়া বেশি চিনি বা গুড়ের ব্যবহারও গ্যাস ও অ্যাসিডিটির অন্যতম কারণ। তালের কাঁচা রস ঠিকমতো জ্বাল না দিলে তার কষা ভাব থেকেও পেটে জ্বালাপোড়া হতে পারে। আবার তালের ক্বাথ বেশ ভারী হওয়ায় তা হজম হতে সময় নেয়, তাই রাতে খেলে অস্বস্তি বাড়ার আশঙ্কা থাকে।
সমস্যা এড়াতে করণীয়
তালের রস বের করার পর তা অল্প আঁচে মিনিট দশেক ফুটিয়ে কষ ঝরিয়ে নিলে গ্যাস্ট্রিকের ঝুঁকি অনেকটাই কমে। ময়দার বদলে চালের গুঁড়ো বা সুজি এবং চিনির বদলে গুড় ব্যবহার করা ভালো। ভাজার পর টিস্যু পেপার বা পাতলা কাপড়ে বড়া রেখে বাড়তি তেল ঝরিয়ে নিলেও উপকার মেলে। খালি পেটে বা রাতে ঘুমানোর ঠিক আগে ভাজাপোড়া তালের খাবার না খাওয়াই ভালো; বরং দুপুর বা বিকেলের দিকে খাওয়া নিরাপদ। একসঙ্গে অনেকগুলো বড়া না খেয়ে চার-পাঁচটির মধ্যে সীমিত রাখা উচিত। যাঁদের ঘন ঘন গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়, তাঁরা ভাজা বড়ার বদলে তালের পিঠা বা তালের ক্ষীরের মতো তুলনামূলক হালকা পদ বেছে নিতে পারেন, কিংবা কম তেলে তালের রুটিও বানানো যায়।
মৌসুমি এই স্বাদ থেকে বঞ্চিত না হয়ে একটু সতর্কতার সঙ্গে খেলেই তাল হয়ে উঠতে পারে নিরাপদ ও উপাদেয়— আর পেটের অস্বস্তি নিয়ে দুশ্চিন্তাও কমে।

Share this news as a Photo Card