শিরোনাম :
ইউরোপের সাথে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রাশিয়া: পুতিন যুদ্ধের ধাক্কায় ২০২৬ সালে বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য বাড়তে পারে ২৩ শতাংশ এশিয়া কাপ আর্চারিতে বাংলাদেশের আরও একটি সোনালি দিন ‘নেতার পক্ষ ছেড়েছিল, শোধ নিতে ছেলের প্রাণটাই কেড়ে নিল’ রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে আগুনে একই পরিবারের শিশুসহ পাঁচজন দগ্ধ টোকিওতে কারিগরি ত্রুটিতে থেমে গেল প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইট সাদমানের সেঞ্চুরি, ধস ও তাইজুলের জোড়া আঘাতে নাটকীয় দ্বিতীয় দিন হাম, ডেঙ্গুতে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না ফাস্ট ফুডের মোহে স্বাস্থ্যহানি: শিশুদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় এখনই চাই রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ রাতে মাকে ফোনে জানায় বাসায় ফিরছি, কিন্তু আর ফেরা হলো না তাহসিফের

ইউরোপের সাথে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রাশিয়া: পুতিন

ইউরোপের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের মুখোমুখি হতে হলে রাশিয়া প্রস্তুত আছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে মস্কো এ ধরনের কোনো সংঘাত চায় না, সেটাও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডের নেতাদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার পর তিনি এ মন্তব্য করেন।
পুতিন যা বললেন
পুতিনের ভাষ্য, ‘আমরা প্রস্তুত, কিন্তু ইউরোপের সঙ্গে কোনো যুদ্ধ চাই না। তবে তাদের কেউ যদি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে চায়, তাহলে তারা তা নিতে পারে।’
ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের যেকোনো উদ্যোগকে তিনি সমর্থন করেন বলেও জানান রুশ প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে সতর্ক করে তিনি বলেন, ইউরোপের সঙ্গে উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে গড়ালে কোনো পক্ষই জয়ী হবে না। ইউরোপীয় দেশগুলোকে এ বিষয়টি মনে রাখারও আহ্বান জানান তিনি।
পুতিন আরও বলেন, রাশিয়াকে কৌশলগত পরাজয়ের দিকে ঠেলে দেওয়ার যে লক্ষ্য পশ্চিমা দেশগুলোর ছিল, তা তারা অর্জন করতে পারেনি।
ফোনালাপের প্রেক্ষাপট
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার স্টাব এবং নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন পুতিন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই যোগাযোগের উদ্যোগ নিয়েছিলেন ইউরোপীয় নেতারাই। আলোচনাটিকে তিনি সঠিক পথে এগোনোর একটি পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আগের অবস্থান
এমন অবস্থান পুতিন আগেও জানিয়েছেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি বলেছিলেন, ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধের কোনো পরিকল্পনা রাশিয়ার নেই। তবে ইউরোপ যদি হঠাৎ যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে মস্কো এখনই তার জবাব দিতে প্রস্তুত।
২০৩০ সালকে ঘিরে আলোচনা
পুতিনের সর্বশেষ মন্তব্য এসেছে এমন সময়, যখন ২০৩০ সালের মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে পশ্চিমা দেশগুলো। ব্রিটেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং সতর্ক করেছেন, ওই সময়ের মধ্যে দেশটির শত্রুরা হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও হাইব্রিড হামলার অভিযোগ
এদিকে গ্রীষ্মে ফাঁস হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ন্যাটোর দৃঢ়তা যাচাই করতে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জোটটির পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে হামলা চালাতে পারে রাশিয়া। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, বাল্টিক অঞ্চলের কোনো একটি দেশে সীমিত পরিসরে স্থল অভিযান কিংবা পূর্ব ইউরোপজুড়ে সাইবার হামলার মাধ্যমে উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারেন পুতিন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুদ্ধ না চাওয়ার কথা বললেও কয়েক মাস ধরে নানা ধরনের পরোক্ষ বা হাইব্রিড হামলার মাধ্যমে ইউরোপীয় দেশ ও ন্যাটোকে যাচাই করে আসছে রাশিয়া। এর মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোতে ড্রোন বিস্ফোরণের ঘটনাও রয়েছে।
শান্তি আলোচনা ও ন্যাটো প্রসঙ্গ
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ চলতি সপ্তাহে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে পরবর্তী দফার শান্তি আলোচনাকে কাজে লাগিয়ে পূর্ব ইউরোপে ন্যাটোর সম্প্রসারণ নিয়ে ছাড় আদায়ের পরিকল্পনা করছে রাশিয়া। পুতিন ন্যাটোর সম্প্রসারণকে এই যুদ্ধের ‘মূল কারণ’ বলে অভিহিত করেছেন।
টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপে ন্যাটোর উপস্থিতি কমানোর দাবিও তুলতে পারেন পুতিন। এর অংশ হিসেবে পোল্যান্ড, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া ও ফিনল্যান্ড থেকে ন্যাটোর সেনা সরানোর দাবি উঠতে পারে।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

Share this news as a Photo Card

ট্যাগস

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউরোপের সাথে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রাশিয়া: পুতিন

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

রাতে মাকে ফোনে জানায় বাসায় ফিরছি, কিন্তু আর ফেরা হলো না তাহসিফের

২৯ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

ইউরোপের সাথে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রাশিয়া: পুতিন

আপডেট সময় ১২:১৩:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

ইউরোপের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের মুখোমুখি হতে হলে রাশিয়া প্রস্তুত আছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে মস্কো এ ধরনের কোনো সংঘাত চায় না, সেটাও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডের নেতাদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার পর তিনি এ মন্তব্য করেন।
পুতিন যা বললেন
পুতিনের ভাষ্য, ‘আমরা প্রস্তুত, কিন্তু ইউরোপের সঙ্গে কোনো যুদ্ধ চাই না। তবে তাদের কেউ যদি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে চায়, তাহলে তারা তা নিতে পারে।’
ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের যেকোনো উদ্যোগকে তিনি সমর্থন করেন বলেও জানান রুশ প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে সতর্ক করে তিনি বলেন, ইউরোপের সঙ্গে উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে গড়ালে কোনো পক্ষই জয়ী হবে না। ইউরোপীয় দেশগুলোকে এ বিষয়টি মনে রাখারও আহ্বান জানান তিনি।
পুতিন আরও বলেন, রাশিয়াকে কৌশলগত পরাজয়ের দিকে ঠেলে দেওয়ার যে লক্ষ্য পশ্চিমা দেশগুলোর ছিল, তা তারা অর্জন করতে পারেনি।
ফোনালাপের প্রেক্ষাপট
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার স্টাব এবং নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন পুতিন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই যোগাযোগের উদ্যোগ নিয়েছিলেন ইউরোপীয় নেতারাই। আলোচনাটিকে তিনি সঠিক পথে এগোনোর একটি পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আগের অবস্থান
এমন অবস্থান পুতিন আগেও জানিয়েছেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি বলেছিলেন, ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধের কোনো পরিকল্পনা রাশিয়ার নেই। তবে ইউরোপ যদি হঠাৎ যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে মস্কো এখনই তার জবাব দিতে প্রস্তুত।
২০৩০ সালকে ঘিরে আলোচনা
পুতিনের সর্বশেষ মন্তব্য এসেছে এমন সময়, যখন ২০৩০ সালের মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে পশ্চিমা দেশগুলো। ব্রিটেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং সতর্ক করেছেন, ওই সময়ের মধ্যে দেশটির শত্রুরা হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও হাইব্রিড হামলার অভিযোগ
এদিকে গ্রীষ্মে ফাঁস হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ন্যাটোর দৃঢ়তা যাচাই করতে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জোটটির পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে হামলা চালাতে পারে রাশিয়া। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, বাল্টিক অঞ্চলের কোনো একটি দেশে সীমিত পরিসরে স্থল অভিযান কিংবা পূর্ব ইউরোপজুড়ে সাইবার হামলার মাধ্যমে উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারেন পুতিন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুদ্ধ না চাওয়ার কথা বললেও কয়েক মাস ধরে নানা ধরনের পরোক্ষ বা হাইব্রিড হামলার মাধ্যমে ইউরোপীয় দেশ ও ন্যাটোকে যাচাই করে আসছে রাশিয়া। এর মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোতে ড্রোন বিস্ফোরণের ঘটনাও রয়েছে।
শান্তি আলোচনা ও ন্যাটো প্রসঙ্গ
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ চলতি সপ্তাহে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে পরবর্তী দফার শান্তি আলোচনাকে কাজে লাগিয়ে পূর্ব ইউরোপে ন্যাটোর সম্প্রসারণ নিয়ে ছাড় আদায়ের পরিকল্পনা করছে রাশিয়া। পুতিন ন্যাটোর সম্প্রসারণকে এই যুদ্ধের ‘মূল কারণ’ বলে অভিহিত করেছেন।
টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপে ন্যাটোর উপস্থিতি কমানোর দাবিও তুলতে পারেন পুতিন। এর অংশ হিসেবে পোল্যান্ড, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া ও ফিনল্যান্ড থেকে ন্যাটোর সেনা সরানোর দাবি উঠতে পারে।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

Share this news as a Photo Card