কাঠমান্ডু থেকে মাত্র পঁয়তাল্লিশ কিলোমিটার উত্তরে, ল্যাংটাং লিরুং পর্বতের নিস্তব্ধতা ভেঙে নেমে এসেছিল এক দানবীয় ধ্বংসস্তূপ। বুধবার সকাল সাড়ে আটটার কিছু আগে, চীন সীমান্তের কাছে হালকা মাত্রার এক ভূকম্পনের সঙ্গে সঙ্গেই পর্বতের উত্তর ঢাল থেকে খসে পড়ে বিশাল হিমবাহ। বরফ, পাথর আর কাদার সেই স্তূপ বর্ষার স্ফীত লেন্দে খোলা নদীর গতিপথ মুহূর্তেই অবরুদ্ধ করে ফেলে, আর সেখানে জন্ম নেওয়া কৃত্রিম হ্রদ ভেঙে পড়তেই তিশূলী নদী বেয়ে নেপালের দিকে ধেয়ে আসে কাদা-পাথরের এক প্রলয়ঙ্করী স্রোত।
স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন, এই বিপর্যয়ের মূলে রয়েছে হিমবাহ ধস। তবে ভূকম্পনই ধসের কারণ, নাকি ধসের প্রচণ্ডতাই ভূকম্পিক তরঙ্গ তৈরি করেছে—সে প্রশ্নের মীমাংসা এখনও হয়নি। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে হিমালয়ের বরফ এমনিতেই দুর্বল হয়ে পড়েছিল; বর্ষার শেষভাগে ভারী হয়ে ওঠা পাহাড়ি ঢাল ও সিক্ত পারমাফ্রস্ট সেই দুর্বলতাকেই চরম বিপর্যয়ে রূপ দিয়েছে।
হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত এমন আন্তঃসীমান্ত দুর্যোগ যেন এক পুনরাবৃত্ত আখ্যান—চামোলি, মেলামচি, সিকিম, থামে হয়ে গত বছরের ভোতে কোশী প্লাবনের ধারাবাহিকতায় এবার আরও একবার একই চিত্র। গত বছরের বন্যায় ১৮ জনের প্রাণহানি হলেও তখন প্রতিবেশী দেশ থেকে আগাম সতর্কবার্তা মিলেছিল। এবার তা মেলেনি—ধসের উৎপত্তিস্থল সীমান্তের এতটাই কাছে ছিল যে রাসুয়া চেকপয়েন্টে কাদার ঢল পৌঁছাতে সময় লেগেছে মাত্র কয়েক মিনিট।
বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সরকারি হিসাবে নিহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৬০, যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় দুইশ কিলোমিটার দূরে নওয়ালপরাসী জেলার নারায়ণী নদীতে ভেসে এসেছে মানুষ ও গবাদিপশুর মরদেহ এবং ধ্বংসাবশেষ।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন ডলার। ভোতে কোশী ও তিশূলী নদীর ওপর অন্তত ছয়টি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র, একাধিক সঞ্চালন লাইন ও উপকেন্দ্র ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নোয়াকোটের পঁচিশ মেগাওয়াটের জাতীয় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পুরোপুরি পলিমাটির নিচে চাপা পড়েছে, আর অন্তত এক ডজন সেতু ভেসে যাওয়ায় উত্তরের মহাসড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 



















