জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতার সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সদস্যদের সভাকক্ষে এই বৈঠক শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের গণমাধ্যম শাখার পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
একই দিন বিকাল ৩টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত সংসদ ভবনের মূল কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এদিনের কার্যতালিকায় স্থান পেয়েছে সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন, শোক প্রস্তাব উত্থাপন, প্রশ্নোত্তর পর্ব, জরুরি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ সংক্রান্ত বিধি অনুযায়ী আলোচনা, বেসরকারি সদস্যদের প্রস্তাব এবং আইন প্রণয়নের কার্যক্রম।
সংসদের চিফ হুইপ এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, আসন্ন এই অধিবেশন স্বল্পমেয়াদি হতে পারে—সম্ভাব্য মেয়াদ পাঁচ, সাত অথবা দশ দিন। তবে প্রয়োজন অনুভূত হলে অধিবেশনের সময়সীমা বাড়ানোর সুযোগ থাকছে। বুধবার সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব তথ্য জানান।
চিফ হুইপের ভাষ্যমতে, এই অধিবেশনে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো পুনর্গঠনের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিরোধী দলগুলোর কাছ থেকে সদস্যদের নাম পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো চূড়ান্ত রূপ পাবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই অধিবেশনে ছয়টির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত আইন, গুম প্রতিরোধ এবং মানবাধিকার সুরক্ষাবিষয়ক বিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সম্পত্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত প্রস্তাবিত আইন প্রসঙ্গে তিনি ব্যাখ্যা দেন—বাবা-মা সন্তানের নামে সম্পত্তি লিখে দিলেও, তাঁরা জীবিত থাকাকালীন সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার নিজেদের কাছেই সংরক্ষিত থাকবে। এই বিধানের লক্ষ্য হলো সম্পত্তি হস্তান্তরের পর সন্তানদের হাতে বয়োজ্যেষ্ঠ বাবা-মা যেন অবহেলার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা।
চিফ হুইপ বলেন, জুলাই সনদের ধারাবাহিকতায় জনগণ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বিবেচনা করেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন এবং সেই আস্থার প্রতিফলনেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে প্রয়োজনে নতুন আইন তৈরি ও বিদ্যমান আইনে সংশোধনী আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, সংবিধানের একটি যতিচিহ্নের পরিবর্তনও সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। জুলাই সনদে দক্ষিণ প্লাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যৌথভাবে যে প্রতিশ্রুতিতে সই করেছিল, তার প্রতিটি ধারা যথাযথভাবে কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে সরকার।
সংবিধান সংশোধনের উদ্দেশ্যে সতেরো সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব রয়েছে বলে জানান চিফ হুইপ। এই কমিটিতে একটি বড় রাজনৈতিক দল থেকে সাতজন এবং অপর একটি ইসলামপন্থী দল থেকে পাঁচজন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে, পাশাপাশি ছোট দলগুলো থেকেও একজন করে প্রতিনিধি রাখার পরিকল্পনা আছে। বিরোধী দলগুলো তাদের প্রতিনিধিদের নাম জমা দিলে তাঁদেরও কমিটিতে যুক্ত করা হবে।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সংবিধান সংশোধন একটি সাধারণ ও স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। উদাহরণস্বরূপ তিনি প্রতিবেশী দেশ ভারতের কথা তুলে ধরেন, যেখানে গত ৭৬ বছরে সংবিধান সংশোধিত হয়েছে ১০৬ বার।
চিফ হুইপের প্রত্যাশা, তৃতীয় অধিবেশনের মধ্য দিয়ে সংসদীয় কার্যক্রম আরও গতি পাবে। গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন, সংসদীয় কমিটিগুলোর কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে জাতীয় সংসদ অধিকতর কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শিরোনাম :
সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরুর আগে দলীয় এমপিদের বৈঠক
-
চলমান বার্তা ডেস্ক : - আপডেট সময় ০১:০৪:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
- 6
জনপ্রিয় সংবাদ




















