ঢাকা ০৫:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ গবেষণার বিজ্ঞানীদের রহস্যজনক মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ গবেষণার সাথে যুক্ত শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীদের রহস্যজনক অন্তর্ধান এবং মৃত্যু নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগজনক পরিস্থিতি


 যুক্তরাষ্ট্রে বিজ্ঞানীদের রহস্যজনক অন্তর্ধান: জাতীয় নিরাপত্তায় ঘনীভূত সংকট

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা, পারমাণবিক শক্তি এবং মহাকাশ গবেষণা খাতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের একের পর এক নিখোঁজ ও মৃত্যুর ঘটনা মার্কিন প্রশাসনকে গভীর চিন্তায় ফেলেছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট ষড়যন্ত্রের প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে ঘটনার ধরন ও সময়ের মিল একটি বিশেষ ‘প্যাটার্ন’ বা যোগসূত্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 হোয়াইট হাউসের তদন্ত ও উদ্বেগ

হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে যে, তারা অন্তত ১০ জন বিজ্ঞানীর রহস্যজনক নিখোঁজ এবং মৃত্যুর ঘটনা খতিয়ে দেখছে। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, প্রশাসন এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে এবং একটি আনুষ্ঠানিক তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার কথা ভাবছে। এমনকি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও এই বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।


 উল্লেখযোগ্য কিছু রহস্যময় ঘটনা

নিচে এমন কিছু বিজ্ঞানীর তালিকা দেওয়া হলো যাদের নিখোঁজ হওয়া বা মৃত্যু রহস্যের জন্ম দিয়েছে:

  • মেজর জেনারেল উইলিয়াম ‘নিল’ ম্যাককাসল্যান্ড: এয়ার ফোর্স রিসার্চ ল্যাবরেটরির সাবেক এই কমান্ডার গত ২৭ ফেব্রুয়ারি নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। তিনি অতি-গোপনীয় মহাকাশ গবেষণা ও ইউএফও (UFO) সংক্রান্ত তথ্যের সাথে যুক্ত ছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার সময় তিনি তার ফোন বাড়িতে রেখে গেলেও সাথে একটি রিভলভার নিয়ে গেছেন।

  • মনিকা জাসিন্টো রেজা: নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির এই অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার গত বছর হাইকিং করার সময় মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে চোখের সামনে থেকে উধাও হয়ে যান। তিনি রকেট ইঞ্জিনের জন্য বিশেষ সংকর ধাতু ‘মন্ডালয়’ উদ্ভাবন করেছিলেন।

  • স্টিভেন গার্সিয়া: পারমাণবিক অস্ত্রের যন্ত্রাংশ তৈরির সাথে যুক্ত এই গবেষক গত বছর তার ফোন, মানিব্যাগ ও গাড়ি ফেলে রেখে সিসিটিভি ক্যামেরার সামনে দিয়ে হেঁটে নিখোঁজ হন।

  • কার্ল গ্রিলমায়ার ও নুনো লুরেইরো: নাসা ও এমআইটি-র এই দুই প্রখ্যাত বিজ্ঞানীকে গত বছরের ভিন্ন ভিন্ন সময়ে গুলি করে হত্যা করা হয়।

  • মেলিসা কাসিয়াস: লস আলামোস ল্যাবরেটরির এই কর্মকর্তার ফোনগুলো ‘ফ্যাক্টরি রিসেট’ বা সব তথ্য মুছে ফেলা অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।


 ঘটনার সাধারণ বৈশিষ্ট্য (Common Patterns)

তদন্তকারীরা কয়েকটি বিষয়ে মিল খুঁজে পেয়েছেন যা কপালে ভাঁজ ফেলছে:

                  গোপনীয়তা: নিখোঁজ বা মৃত ব্যক্তিদের প্রায় সবারই অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্যে প্রবেশাধিকার ছিল।

                 প্রয়োজনীয় জিনিস ফেলে যাওয়া: অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, তারা তাদের ফোন, মানিব্যাগ বা গাড়ি ফেলে রেখে নিখোঁজ হয়েছেন।

                 সময়কাল: হোয়াইট হাউস যখন নাসা এবং পেন্টাগনকে পারমাণবিক মহাকাশ চুল্লি তৈরির কাজ দ্রুত করার নির্দেশ দিয়েছে, ঠিক সেই সময়েই এই ঘটনাগুলো বাড়ছে।


 বর্তমান অবস্থা ও পদক্ষেপ

সিনেট এবং এফবিআই-এর ওপর চাপ বাড়ছে একটি সমন্বিত তদন্ত শুরু করার জন্য। প্রতিনিধি এরিক বার্লিসন আনুষ্ঠানিকভাবে এফবিআই-এর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি কোনো পরিকল্পিত হামলা বা বড় ধরনের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের অংশ হতে পারে।

মার্কিন প্রশাসন আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়ে আরও সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার আশা করছে। ততক্ষণ পর্যন্ত প্রতিরক্ষা ও উচ্চতর গবেষণা খাতের এই নক্ষত্রদের হারিয়ে যাওয়া বিশ্বজুড়ে এক বড় রহস্য হয়েই থাকছে।

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ গবেষণার বিজ্ঞানীদের রহস্যজনক মৃত্যু

আপডেট সময় ০৩:৫৮:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ গবেষণার সাথে যুক্ত শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীদের রহস্যজনক অন্তর্ধান এবং মৃত্যু নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগজনক পরিস্থিতি


 যুক্তরাষ্ট্রে বিজ্ঞানীদের রহস্যজনক অন্তর্ধান: জাতীয় নিরাপত্তায় ঘনীভূত সংকট

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা, পারমাণবিক শক্তি এবং মহাকাশ গবেষণা খাতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের একের পর এক নিখোঁজ ও মৃত্যুর ঘটনা মার্কিন প্রশাসনকে গভীর চিন্তায় ফেলেছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট ষড়যন্ত্রের প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে ঘটনার ধরন ও সময়ের মিল একটি বিশেষ ‘প্যাটার্ন’ বা যোগসূত্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 হোয়াইট হাউসের তদন্ত ও উদ্বেগ

হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে যে, তারা অন্তত ১০ জন বিজ্ঞানীর রহস্যজনক নিখোঁজ এবং মৃত্যুর ঘটনা খতিয়ে দেখছে। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, প্রশাসন এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে এবং একটি আনুষ্ঠানিক তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার কথা ভাবছে। এমনকি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও এই বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।


 উল্লেখযোগ্য কিছু রহস্যময় ঘটনা

নিচে এমন কিছু বিজ্ঞানীর তালিকা দেওয়া হলো যাদের নিখোঁজ হওয়া বা মৃত্যু রহস্যের জন্ম দিয়েছে:

  • মেজর জেনারেল উইলিয়াম ‘নিল’ ম্যাককাসল্যান্ড: এয়ার ফোর্স রিসার্চ ল্যাবরেটরির সাবেক এই কমান্ডার গত ২৭ ফেব্রুয়ারি নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। তিনি অতি-গোপনীয় মহাকাশ গবেষণা ও ইউএফও (UFO) সংক্রান্ত তথ্যের সাথে যুক্ত ছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার সময় তিনি তার ফোন বাড়িতে রেখে গেলেও সাথে একটি রিভলভার নিয়ে গেছেন।

  • মনিকা জাসিন্টো রেজা: নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির এই অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার গত বছর হাইকিং করার সময় মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে চোখের সামনে থেকে উধাও হয়ে যান। তিনি রকেট ইঞ্জিনের জন্য বিশেষ সংকর ধাতু ‘মন্ডালয়’ উদ্ভাবন করেছিলেন।

  • স্টিভেন গার্সিয়া: পারমাণবিক অস্ত্রের যন্ত্রাংশ তৈরির সাথে যুক্ত এই গবেষক গত বছর তার ফোন, মানিব্যাগ ও গাড়ি ফেলে রেখে সিসিটিভি ক্যামেরার সামনে দিয়ে হেঁটে নিখোঁজ হন।

  • কার্ল গ্রিলমায়ার ও নুনো লুরেইরো: নাসা ও এমআইটি-র এই দুই প্রখ্যাত বিজ্ঞানীকে গত বছরের ভিন্ন ভিন্ন সময়ে গুলি করে হত্যা করা হয়।

  • মেলিসা কাসিয়াস: লস আলামোস ল্যাবরেটরির এই কর্মকর্তার ফোনগুলো ‘ফ্যাক্টরি রিসেট’ বা সব তথ্য মুছে ফেলা অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।


 ঘটনার সাধারণ বৈশিষ্ট্য (Common Patterns)

তদন্তকারীরা কয়েকটি বিষয়ে মিল খুঁজে পেয়েছেন যা কপালে ভাঁজ ফেলছে:

                  গোপনীয়তা: নিখোঁজ বা মৃত ব্যক্তিদের প্রায় সবারই অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্যে প্রবেশাধিকার ছিল।

                 প্রয়োজনীয় জিনিস ফেলে যাওয়া: অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, তারা তাদের ফোন, মানিব্যাগ বা গাড়ি ফেলে রেখে নিখোঁজ হয়েছেন।

                 সময়কাল: হোয়াইট হাউস যখন নাসা এবং পেন্টাগনকে পারমাণবিক মহাকাশ চুল্লি তৈরির কাজ দ্রুত করার নির্দেশ দিয়েছে, ঠিক সেই সময়েই এই ঘটনাগুলো বাড়ছে।


 বর্তমান অবস্থা ও পদক্ষেপ

সিনেট এবং এফবিআই-এর ওপর চাপ বাড়ছে একটি সমন্বিত তদন্ত শুরু করার জন্য। প্রতিনিধি এরিক বার্লিসন আনুষ্ঠানিকভাবে এফবিআই-এর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি কোনো পরিকল্পিত হামলা বা বড় ধরনের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের অংশ হতে পারে।

মার্কিন প্রশাসন আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়ে আরও সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার আশা করছে। ততক্ষণ পর্যন্ত প্রতিরক্ষা ও উচ্চতর গবেষণা খাতের এই নক্ষত্রদের হারিয়ে যাওয়া বিশ্বজুড়ে এক বড় রহস্য হয়েই থাকছে।