দিনের শুরুতে মিরপুরের উইকেট দেখে মনে হচ্ছিল, সবটাই বুঝি বোলারদের জন্য। জোমেল ওয়ারিকান আর রোস্টন চেজের স্পিনে একের পর এক ব্যাটার থিতু হতে পারছিলেন না। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাট হাতে নামতেই ছবিটা পাল্টে গেল। একই উইকেট যেন হয়ে উঠল ব্যাটারদের বন্ধু।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) শেরেবাংলা জয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চতুর্থ দিনেই ম্যাচ শেষ করেছে সফরকারীরা। বাংলাদেশের দেওয়া ১৭০ রানের লক্ষ্য তারা ছুঁয়েছে ৩৫.১ ওভারে, হারিয়েছে মাত্র দুই উইকেট। ৮ উইকেটের এই জয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। হার দিয়েই সিরিজ শুরু করল নাজমুল হোসেনের দল।
ব্যাটিংয়ে ক্যারিবীয় দাপট
লক্ষ্য তাড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা খেলেছেন অনেকটা ওয়ানডে মেজাজে। ব্রেন্ডন কিং ও জন ক্যাম্পবেল শুরু থেকেই বাংলাদেশের কোনো বোলারকে স্থির হতে দেননি। ক্যাম্পবেল করেন ৪৯ রান। কিং অপরাজিত থাকেন ৮১ রানে। শেষ দিকে ২৭ বলে ৩১ রানে অপরাজিত থেকে জয় নিশ্চিত করেন কাভেম হজ।
অথচ এই উইকেটেই সকালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনাররা বেশ টার্ন পেয়েছিলেন। বাংলাদেশের ব্যাটিং দেখে তখন উইকেটকে প্রায় স্পিনস্বর্গ মনে হচ্ছিল। কিন্তু তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজরা একই উইকেটে কার্যকর হতে পারেননি। জায়গামতো বল করতেও তাঁরা ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ার সুযোগই পায়নি স্বাগতিকেরা।
স্পিনে কাবু বাংলাদেশ
দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ অলআউট হয় ১৪২ রানে। নাঈমের ব্যাট থেকে আসে ৫২ রান, জাকের করেন ২২। চেজ ৩৬ রানে নেন ৫ উইকেট, ওয়ারিকান ৬৩ রানে ৪টি। এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ করেছিল ২৭২ রান, জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস থামে ২৪৫ রানে।
বাংলাদেশের হয়ে হাসান ১৪ রানে নিয়েছেন ১ উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ২৭২ ও ১৪২ (নাঈম ৫২, জাকের ২২; চেজ ৫/৩৬, ওয়ারিকান ৪/৬৩)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২৪৫ ও ১৭০/২ (কিং ৮১*, ক্যাম্পবেল ৪৯; হাসান ১/১৪)।
ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৮ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ: দুই ম্যাচ সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 



















