মোংলায় ফরিদুল ইসলামের উদ্যোগ সুবিধাবঞ্চিত মানুষ ফিরে পাচ্ছেন চোখের আলো

বেচে থাকলে “অন্ধত্ব প্রতিরোধ করুন” এই দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে মোংলা ও রামপালে অনুষ্ঠিত হলো এক বিশাল বিনামূল্যে চক্ষু শিবির।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা মেগা সিটি লায়ন্স ক্লাবের সভাপতি লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ও সার্বিক সহযোগিতায় এই চক্ষু  শিবিরের মাধ্যমে মোংলা ও রামপালসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি উপজেলার ১০ সহস্রাধিক সুবিধাবঞ্চিত মানুষ নতুন করে চোখের আলো ফিরে পেতে যাচ্ছেন।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকাল ১০ টা থেকে শুরু হওয়া চক্ষু শিবির চলবে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত। এই অনুষ্ঠান মোংলার পেড়িখালী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশে এই দিনব্যাপী আই ক্যাম্পের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ঢাকা মেগা সিটি লায়ন্স ক্লাবের আয়োজনে এই বিশাল চিকিৎসা যজ্ঞ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
এবারের ক্যাম্পে সেবার মান নিশ্চিত করতে ১০ জন বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসকসহ মোট ৩০ জনের একটি সুদক্ষ বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিম দিনভর রোগীদের সেবা প্রদান করেন। বিশাল এই কর্মযজ্ঞ সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য মাঠজুড়ে ৬টি পৃথক বুথ স্থাপন করা হয়েছিল। সকাল থেকেই মোংলা, রামপাল, ফকিরহাট, বাগেরহাট সদর, মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা এবং দাকোপসহ উপকূলীয় অঞ্চলের হাজার হাজার রোগী ক্যাম্পে ভিড় জমান। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দিনশেষে প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি রোগীকে ব্যবস্থাপত্র ও প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া হয়েছে।
এসকল চক্ষু রুগীদের বিনামূল্যে লেন্স ও জটিল অস্ত্রোপচার করা হবে। ক্যাম্পে আসা রোগীদের চোখের প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ছানি, নেত্রনালী, চোখের বাড়তি মাংস বৃদ্ধি ও ট্যারিজমসহ বিভিন্ন জটিল সমস্যার রোগী বাছাই করা হয়। শিশু থেকে শুরু করে শতবর্ষী বৃদ্ধ—সবাইকে বিনামূল্যে লেন্স সরবরাহ, ঔষধ এবং চশমা প্রদান করা হবে এ চক্ষু শিবিরের মাধ্যমে।
যাদের জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন, আজকের ক্যাম্পে তাদের প্রাথমিক তালিকা ও প্রয়োজনীয় প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরিক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। এসব রোগীদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখানে ‘ঢাকা দৃষ্টি আই’ হাসপাতালে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উন্নতমানের লেন্স স্থাপনসহ অস্ত্রোপচার করা হবে। অপারেশনের পর সুস্থ হওয়া পর্যন্ত যাবতীয় চিকিৎসা ও আবাসন শেষে তাদের পুনরায় নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে প্রতিমন্ত্রীর নিজ খরচে। যাতায়াতসহ এই বিশাল ব্যয়ের সম্পূর্ণ ভার ব্যক্তিগতভাবে বহন করছেন প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।
শরনখোলা থেকে চোখের ছানি রোগ নিয়ে আসা পরিমল বাবু বলেন, গরিব হওয়ার কারণে ভাল ডাক্তার দেখাতে পারছিনা। তাই পার্শবর্তী মানুষের কাছে শুনে এখানে এসেছি। সৃষ্টিকর্তা যেন চোখ দুটো ভাল রাখেন সেই জন্য চোখের ডাক্তার দেখাতে আসা।
দাকোপ থেকে আসা ৭২ বছর বয়সের ইব্রাহিম আলম বলেন, দীর্ঘ ৪/৫ বছর যাবত চোখের সমস্যা নিয়ে আছে, কোন কাজ করতে পারছিনা। চোখ দিয়ে পানি পরছে এবং সামনে কিছু না দেখতে পেরে রাস্তা দিয়ে হাটতেও পারছি না, ডাক্তার দেখানোর পর যদি আল্লাহ সুস্থ্য করে।
মোংলা উপজেলার প্রতন্ত গ্রাম থেকে আসা ৬৫ বছর বয়সের ললিতা হালদার নামের এক বয়স্ক নারী বলেন, টাকা অভাবের কারণে চোখের ভাল ডাক্তার দেখাতে পরছে না। ছোট্ট একটি ছেলে পরের কাজ করে সংসার চালায়, এখানে এসেছি যদি চোখ দুটো সৃষ্টিকর্তা ভাল করে দেন।
দীর্ঘ দেড় দশকের সেবার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।
উল্লেখ্য যে, ২০০৯ সাল থেকে এই মানবিক কার্যক্রমের সূচনা করেন লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। বিগত ১৫ বছরে এই ধারবাহিক উদ্যোগের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত লক্ষাধিকেরও বেশি চক্ষু রোগীকে বিনামূল্যে আধুনিক চিকিৎসা ও সেবা প্রদান করা হয়েছে। উপকূলীয় দরিদ্র মানুষের কাছে এই চক্ষু শিবির এখন আশার আলো হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
আয়োজন সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “মানুষের সেবা করাই পরম ধর্ম। এই অঞ্চলের অনেক মানুষ অর্থের অভাবে চোখের চিকিৎসা করাতে পারেন না এবং অন্ধত্বের দিকে ধাবিত হন। আমার লক্ষ্য হলো এই অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের পৃথিবীর আলো দেখার সুযোগ করে দেওয়া। যতদিন বেঁচে থাকব, এই সেবামূলক কার্যক্রম ইনশাআল্লাহ অব্যাহত থাকবে।
এলাকার সুশীল সমাজ ও সুবিধাভোগীরা এই মহতী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তারা মনে করেন, এ ধরনের নিয়মিত উদ্যোগ এই উপকূলীয় জনপদের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে ও অন্ধত্ব নিরসনে মাইলফলক হিসেবে কাজ করছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগস

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান কি ছুটিতে যাচ্ছেন?

২২ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

মোংলায় ফরিদুল ইসলামের উদ্যোগ সুবিধাবঞ্চিত মানুষ ফিরে পাচ্ছেন চোখের আলো

আপডেট সময় ১১:০৭:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
বেচে থাকলে “অন্ধত্ব প্রতিরোধ করুন” এই দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে মোংলা ও রামপালে অনুষ্ঠিত হলো এক বিশাল বিনামূল্যে চক্ষু শিবির।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা মেগা সিটি লায়ন্স ক্লাবের সভাপতি লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ও সার্বিক সহযোগিতায় এই চক্ষু  শিবিরের মাধ্যমে মোংলা ও রামপালসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি উপজেলার ১০ সহস্রাধিক সুবিধাবঞ্চিত মানুষ নতুন করে চোখের আলো ফিরে পেতে যাচ্ছেন।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকাল ১০ টা থেকে শুরু হওয়া চক্ষু শিবির চলবে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত। এই অনুষ্ঠান মোংলার পেড়িখালী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশে এই দিনব্যাপী আই ক্যাম্পের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ঢাকা মেগা সিটি লায়ন্স ক্লাবের আয়োজনে এই বিশাল চিকিৎসা যজ্ঞ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
এবারের ক্যাম্পে সেবার মান নিশ্চিত করতে ১০ জন বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসকসহ মোট ৩০ জনের একটি সুদক্ষ বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিম দিনভর রোগীদের সেবা প্রদান করেন। বিশাল এই কর্মযজ্ঞ সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য মাঠজুড়ে ৬টি পৃথক বুথ স্থাপন করা হয়েছিল। সকাল থেকেই মোংলা, রামপাল, ফকিরহাট, বাগেরহাট সদর, মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা এবং দাকোপসহ উপকূলীয় অঞ্চলের হাজার হাজার রোগী ক্যাম্পে ভিড় জমান। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দিনশেষে প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি রোগীকে ব্যবস্থাপত্র ও প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া হয়েছে।
এসকল চক্ষু রুগীদের বিনামূল্যে লেন্স ও জটিল অস্ত্রোপচার করা হবে। ক্যাম্পে আসা রোগীদের চোখের প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ছানি, নেত্রনালী, চোখের বাড়তি মাংস বৃদ্ধি ও ট্যারিজমসহ বিভিন্ন জটিল সমস্যার রোগী বাছাই করা হয়। শিশু থেকে শুরু করে শতবর্ষী বৃদ্ধ—সবাইকে বিনামূল্যে লেন্স সরবরাহ, ঔষধ এবং চশমা প্রদান করা হবে এ চক্ষু শিবিরের মাধ্যমে।
যাদের জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন, আজকের ক্যাম্পে তাদের প্রাথমিক তালিকা ও প্রয়োজনীয় প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরিক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। এসব রোগীদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখানে ‘ঢাকা দৃষ্টি আই’ হাসপাতালে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উন্নতমানের লেন্স স্থাপনসহ অস্ত্রোপচার করা হবে। অপারেশনের পর সুস্থ হওয়া পর্যন্ত যাবতীয় চিকিৎসা ও আবাসন শেষে তাদের পুনরায় নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে প্রতিমন্ত্রীর নিজ খরচে। যাতায়াতসহ এই বিশাল ব্যয়ের সম্পূর্ণ ভার ব্যক্তিগতভাবে বহন করছেন প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।
শরনখোলা থেকে চোখের ছানি রোগ নিয়ে আসা পরিমল বাবু বলেন, গরিব হওয়ার কারণে ভাল ডাক্তার দেখাতে পারছিনা। তাই পার্শবর্তী মানুষের কাছে শুনে এখানে এসেছি। সৃষ্টিকর্তা যেন চোখ দুটো ভাল রাখেন সেই জন্য চোখের ডাক্তার দেখাতে আসা।
দাকোপ থেকে আসা ৭২ বছর বয়সের ইব্রাহিম আলম বলেন, দীর্ঘ ৪/৫ বছর যাবত চোখের সমস্যা নিয়ে আছে, কোন কাজ করতে পারছিনা। চোখ দিয়ে পানি পরছে এবং সামনে কিছু না দেখতে পেরে রাস্তা দিয়ে হাটতেও পারছি না, ডাক্তার দেখানোর পর যদি আল্লাহ সুস্থ্য করে।
মোংলা উপজেলার প্রতন্ত গ্রাম থেকে আসা ৬৫ বছর বয়সের ললিতা হালদার নামের এক বয়স্ক নারী বলেন, টাকা অভাবের কারণে চোখের ভাল ডাক্তার দেখাতে পরছে না। ছোট্ট একটি ছেলে পরের কাজ করে সংসার চালায়, এখানে এসেছি যদি চোখ দুটো সৃষ্টিকর্তা ভাল করে দেন।
দীর্ঘ দেড় দশকের সেবার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।
উল্লেখ্য যে, ২০০৯ সাল থেকে এই মানবিক কার্যক্রমের সূচনা করেন লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। বিগত ১৫ বছরে এই ধারবাহিক উদ্যোগের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত লক্ষাধিকেরও বেশি চক্ষু রোগীকে বিনামূল্যে আধুনিক চিকিৎসা ও সেবা প্রদান করা হয়েছে। উপকূলীয় দরিদ্র মানুষের কাছে এই চক্ষু শিবির এখন আশার আলো হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
আয়োজন সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “মানুষের সেবা করাই পরম ধর্ম। এই অঞ্চলের অনেক মানুষ অর্থের অভাবে চোখের চিকিৎসা করাতে পারেন না এবং অন্ধত্বের দিকে ধাবিত হন। আমার লক্ষ্য হলো এই অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের পৃথিবীর আলো দেখার সুযোগ করে দেওয়া। যতদিন বেঁচে থাকব, এই সেবামূলক কার্যক্রম ইনশাআল্লাহ অব্যাহত থাকবে।
এলাকার সুশীল সমাজ ও সুবিধাভোগীরা এই মহতী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তারা মনে করেন, এ ধরনের নিয়মিত উদ্যোগ এই উপকূলীয় জনপদের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে ও অন্ধত্ব নিরসনে মাইলফলক হিসেবে কাজ করছে।

Share this news as a Photo Card