ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রীকে জিম্মি করে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা। ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তদের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে তা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। ভাঙচুরের একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে এলাকাজুড়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে গফরগাঁওয়ের চর আলগী ইউনিয়নে এক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির সময় গৃহকর্তার অনুপস্থিতিতে তাঁর স্ত্রীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে স্থানীয় বাসিন্দা রোবেল মাস্টার ও লিয়াকত আলী আকন্দের নেতৃত্বে ২০ থেকে ৩০ জনের একটি দল সংঘবদ্ধ হয়ে অভিযুক্তদের বাড়িঘরে হামলা চালায় এবং স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলে।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা লিয়াকত আলী আকন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন জঘন্য অপরাধ যারা ঘটিয়েছে, সমাজে তাদের থাকার কোনো অধিকার নেই এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে ভালো মানুষের পক্ষে নিরাপদে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়বে। একই প্রসঙ্গে আসন্ন চরআলগী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রোবেল মাস্টার বলেন, ঘটনাটি এলাকার সামাজিক নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি জানান, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে চরআলগী ব্রিজের সামনে সর্বস্তরের মানুষ মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করেছেন।
ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে গফরগাঁও থানায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন শরীফ, তাঁর ভাই আরিফ, ফাহিম, রাজীব ও এনামুল। এর মধ্যে পুলিশ ইতোমধ্যে রাজীব নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ বিষয়ে গফরগাঁও থানার দায়িত্বরত উপপরিদর্শক (এসআই) মোরাদ খান বলেন, বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার বিষয়ে থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ অভিযোগ জানায়নি, তবে পুলিশ খোঁজখবর নিয়ে দেখছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয়: প্রাপ্ত তথ্যে হামলাকারীদের কারও বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত পৃথক কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি— বিষয়টি স্বতন্ত্রভাবে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 



















