শিরোনাম :
আইনশৃঙ্খলায় রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন সম্ভব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চাঁদপুরে স্ত্রী-সন্তানসহ হিন্দু পরিবারের ৪ সদস্য নিখোঁজ মৃত্যুর কারণ থেকে যৌন নির্যাতন, ফরেনসিক প্রতিবেদনে মিলল যেসব তথ্য হামের প্রকোপে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১০৭৭ সংস্কারে পূর্ণ সহযোগিতা দিতে চায় ইউএনডিপি, বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশে সারের সংকট নেই, পর্যাপ্ত মজুত জানালেন উপদেষ্টা নমিনেশন পেলেই জয়ী হওয়ার সংস্কৃতি আর থাকবে না: ইসি সরকারি ভবনের ছাদে বসছে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল শেখ হাসিনাই নন, বিদেশে থাকা সব অভিযুক্তকে ফেরাতে চায় সরকার: তথ্যমন্ত্রী স্কুলে হিজাব ইসলামে অপরিহার্য নয়

স্কুলে হিজাব ইসলামে অপরিহার্য নয়

স্কুল ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরার অনুমতি চেয়ে করা এক আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ইসলাম ধর্মে হিজাব পরা কোনো অপরিহার্য অনুশাসন নয়, তাই প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত পোশাকবিধির বাইরে গিয়ে ব্যক্তিগত পছন্দে কিছু যুক্ত করার অধিকার কোনো শিক্ষার্থীর নেই।

ঘটনার সূত্রপাত উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে। সেখানকার একটি বেসরকারি স্কুলের এক অপ্রাপ্তবয়স্ক ছাত্রী উচ্চমাধ্যমিক পাস করে একই প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে চেয়েছিল। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে সে নিয়মিত হেডস্কার্ফ পরে আসছিল বলে দাবি করে, মায়ের মাধ্যমে আদালতের দ্বারস্থ হয় সে। আবেদনে বলা হয়, হিজাব পরা তার ধর্মীয় বিশ্বাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ, তাই নির্ধারিত ইউনিফর্মের সঙ্গে হেডস্কার্ফ পরার অনুমতি দিতে স্কুল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হোক।

বিচারপতি জেজে মুনির ও বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ শুক্লার সমন্বয়ে গঠিত দুই সদস্যের বেঞ্চ অবশ্য ভিন্নমত পোষণ করেন। ২১ আগস্ট দেওয়া রায়ে আদালত জানান, বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষের ছবি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ওই আবেদনকারী ছাড়া আর কোনো ছাত্রী হিজাব পরে না, এমনকি তার নিজের ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অন্য শিক্ষার্থীরাও নয়। আদালতের ভাষ্য, এর আগেও যেসব হাইকোর্টে এমন প্রশ্ন উঠেছে, প্রতিটি ক্ষেত্রেই বলা হয়েছে—হিজাব না পরলে কোনো নারীর ধর্মীয় বিশ্বাস ক্ষুণ্ণ হয় না, ফলে একে অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন বলা যায় না।

রায়ে আরও বলা হয়, কোনো ইউনিফর্ম নীতি যদি ন্যায্য ও বৈষম্যহীনভাবে সব শিক্ষার্থীর ওপর সমানভাবে প্রযোজ্য হয়, তবে প্রতিষ্ঠান নিজস্ব শৃঙ্খলা রক্ষায় তা কার্যকর করার পূর্ণ অধিকার রাখে। একজন শিক্ষার্থীকে বিশেষ ছাড় দেওয়া হলে ইউনিফর্মের মূল ধারণাটিই ভেঙে পড়বে, আর পোশাকবিধি নির্ধারণের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠানের বদলে চলে যাবে ব্যক্তির হাতে।

আদালতে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের প্রতিষ্ঠানটি বেসরকারি ও স্বনির্ভর, যেখানে ভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে পড়াশোনা করে এবং সবার জন্য একই পোশাকবিধি বলবৎ। বিশেষ ছাড় দিলে প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও পোশাকের একরূপতা ব্যাহত হবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করে তারা। রাজ্য সরকার ও সিবিএসইও ছাত্রীর আবেদনের বিপক্ষে অবস্থান নেয়।

শেষ পর্যন্ত আদালতের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট—সমানভাবে প্রযোজ্য ও বৈষম্যহীন ইউনিফর্ম নীতির ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দে আলাদা পোশাক যুক্ত করার কোনো স্বতন্ত্র আইনি অধিকার কোনো শিক্ষার্থীর নেই।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

আইনশৃঙ্খলায় রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন সম্ভব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

স্কুলে হিজাব ইসলামে অপরিহার্য নয়

২৫ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

স্কুলে হিজাব ইসলামে অপরিহার্য নয়

আপডেট সময় ০২:৫২:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

স্কুল ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরার অনুমতি চেয়ে করা এক আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ইসলাম ধর্মে হিজাব পরা কোনো অপরিহার্য অনুশাসন নয়, তাই প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত পোশাকবিধির বাইরে গিয়ে ব্যক্তিগত পছন্দে কিছু যুক্ত করার অধিকার কোনো শিক্ষার্থীর নেই।

ঘটনার সূত্রপাত উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে। সেখানকার একটি বেসরকারি স্কুলের এক অপ্রাপ্তবয়স্ক ছাত্রী উচ্চমাধ্যমিক পাস করে একই প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে চেয়েছিল। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে সে নিয়মিত হেডস্কার্ফ পরে আসছিল বলে দাবি করে, মায়ের মাধ্যমে আদালতের দ্বারস্থ হয় সে। আবেদনে বলা হয়, হিজাব পরা তার ধর্মীয় বিশ্বাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ, তাই নির্ধারিত ইউনিফর্মের সঙ্গে হেডস্কার্ফ পরার অনুমতি দিতে স্কুল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হোক।

বিচারপতি জেজে মুনির ও বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ শুক্লার সমন্বয়ে গঠিত দুই সদস্যের বেঞ্চ অবশ্য ভিন্নমত পোষণ করেন। ২১ আগস্ট দেওয়া রায়ে আদালত জানান, বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষের ছবি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ওই আবেদনকারী ছাড়া আর কোনো ছাত্রী হিজাব পরে না, এমনকি তার নিজের ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অন্য শিক্ষার্থীরাও নয়। আদালতের ভাষ্য, এর আগেও যেসব হাইকোর্টে এমন প্রশ্ন উঠেছে, প্রতিটি ক্ষেত্রেই বলা হয়েছে—হিজাব না পরলে কোনো নারীর ধর্মীয় বিশ্বাস ক্ষুণ্ণ হয় না, ফলে একে অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন বলা যায় না।

রায়ে আরও বলা হয়, কোনো ইউনিফর্ম নীতি যদি ন্যায্য ও বৈষম্যহীনভাবে সব শিক্ষার্থীর ওপর সমানভাবে প্রযোজ্য হয়, তবে প্রতিষ্ঠান নিজস্ব শৃঙ্খলা রক্ষায় তা কার্যকর করার পূর্ণ অধিকার রাখে। একজন শিক্ষার্থীকে বিশেষ ছাড় দেওয়া হলে ইউনিফর্মের মূল ধারণাটিই ভেঙে পড়বে, আর পোশাকবিধি নির্ধারণের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠানের বদলে চলে যাবে ব্যক্তির হাতে।

আদালতে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের প্রতিষ্ঠানটি বেসরকারি ও স্বনির্ভর, যেখানে ভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে পড়াশোনা করে এবং সবার জন্য একই পোশাকবিধি বলবৎ। বিশেষ ছাড় দিলে প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও পোশাকের একরূপতা ব্যাহত হবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করে তারা। রাজ্য সরকার ও সিবিএসইও ছাত্রীর আবেদনের বিপক্ষে অবস্থান নেয়।

শেষ পর্যন্ত আদালতের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট—সমানভাবে প্রযোজ্য ও বৈষম্যহীন ইউনিফর্ম নীতির ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দে আলাদা পোশাক যুক্ত করার কোনো স্বতন্ত্র আইনি অধিকার কোনো শিক্ষার্থীর নেই।

Share this news as a Photo Card