দেশে সারের সংকট নেই, পর্যাপ্ত মজুত জানালেন উপদেষ্টা

দেশে সারের কোনো সংকট নেই, চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত মজুত মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন কোনো ধরনের ঘাটতি তৈরি না হয়, সে লক্ষ্যে ব্যাপক পরিমাণ সার আমদানির অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের সাম্প্রতিক কার্যক্রম সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সার-পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন এই উপদেষ্টা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে দেশের গুদামগুলোতে মোট তেরো লাখ ছয়শত ছাপ্পান্ন হাজার মেট্রিক টনের বেশি সার মজুত অবস্থায় রয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, তখন মজুতের পরিমাণ ছিল তেরো লাখ মেট্রিক টন। অর্থাৎ চলতি বছরে মজুতের পরিমাণ আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে।
তবে দেশের কোনো কোনো এলাকায় সার বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে উঠে আসার বিষয়টি স্বীকার করে নেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এই ধরনের প্রতিবেদন তাঁদের নজরে এসেছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
বিতরণ পর্যায়ে কিছুটা অনিয়মের কথা স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, কৃষক ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় রেখে সরকার সারের বিতরণ প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছে। নতুন এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের শুরুতে কিছুটা অস্থিরতা এবং সমন্বয়জনিত জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ ছাড়া কিছু ডিলার তাঁদের নির্ধারিত বরাদ্দের সার সময়মতো উত্তোলন না করায় স্থানীয়ভাবে সাময়িক সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে জানান তিনি। তবে এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপদেষ্টা।
একই সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি খাত নিয়েও কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা। গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি, এ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট এবং সামনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করে তিনি জানান, গ্যাস খাতকে সন্তোষজনক একটি পর্যায়ে নিয়ে যেতে প্রায় দুই বছরের মতো সময় লাগতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, বর্তমান পরিস্থিতির চেয়ে আগামী দিনগুলোতে অবস্থার অবনতি ঘটবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ। তাঁরা সবাই সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাব দেন।
সব মিলিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বার্তা স্পষ্ট—দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই এবং ভবিষ্যতেও যেন না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে বিতরণ ব্যবস্থায় থাকা কিছু দুর্বলতা দূর করাই এখন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। কৃষকদের হাতে সঠিক সময়ে ও সঠিক পরিমাণে সার পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক পর্যায়ে যে পরিবর্তনগুলো আনা হচ্ছে, তার সুফল কতটা দ্রুত মাঠপর্যায়ে পৌঁছায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। পাশাপাশি জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অব্যাহত রাখার আশ্বাসও দিয়েছে সরকার।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

একীভূত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকেরা চাহিদামতো টাকা তুলতে পারবেন

২৫ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

দেশে সারের সংকট নেই, পর্যাপ্ত মজুত জানালেন উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০৫:২৭:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

দেশে সারের কোনো সংকট নেই, চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত মজুত মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন কোনো ধরনের ঘাটতি তৈরি না হয়, সে লক্ষ্যে ব্যাপক পরিমাণ সার আমদানির অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের সাম্প্রতিক কার্যক্রম সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সার-পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন এই উপদেষ্টা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে দেশের গুদামগুলোতে মোট তেরো লাখ ছয়শত ছাপ্পান্ন হাজার মেট্রিক টনের বেশি সার মজুত অবস্থায় রয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, তখন মজুতের পরিমাণ ছিল তেরো লাখ মেট্রিক টন। অর্থাৎ চলতি বছরে মজুতের পরিমাণ আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে।
তবে দেশের কোনো কোনো এলাকায় সার বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে উঠে আসার বিষয়টি স্বীকার করে নেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এই ধরনের প্রতিবেদন তাঁদের নজরে এসেছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
বিতরণ পর্যায়ে কিছুটা অনিয়মের কথা স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, কৃষক ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় রেখে সরকার সারের বিতরণ প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছে। নতুন এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের শুরুতে কিছুটা অস্থিরতা এবং সমন্বয়জনিত জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ ছাড়া কিছু ডিলার তাঁদের নির্ধারিত বরাদ্দের সার সময়মতো উত্তোলন না করায় স্থানীয়ভাবে সাময়িক সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে জানান তিনি। তবে এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপদেষ্টা।
একই সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি খাত নিয়েও কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা। গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি, এ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট এবং সামনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করে তিনি জানান, গ্যাস খাতকে সন্তোষজনক একটি পর্যায়ে নিয়ে যেতে প্রায় দুই বছরের মতো সময় লাগতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, বর্তমান পরিস্থিতির চেয়ে আগামী দিনগুলোতে অবস্থার অবনতি ঘটবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ। তাঁরা সবাই সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাব দেন।
সব মিলিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বার্তা স্পষ্ট—দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই এবং ভবিষ্যতেও যেন না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে বিতরণ ব্যবস্থায় থাকা কিছু দুর্বলতা দূর করাই এখন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। কৃষকদের হাতে সঠিক সময়ে ও সঠিক পরিমাণে সার পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক পর্যায়ে যে পরিবর্তনগুলো আনা হচ্ছে, তার সুফল কতটা দ্রুত মাঠপর্যায়ে পৌঁছায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। পাশাপাশি জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অব্যাহত রাখার আশ্বাসও দিয়েছে সরকার।

Share this news as a Photo Card