প্রতি শীতে সাইবেরিয়ার তুন্দ্রা অঞ্চল, ইউরোপ ও মধ্য এশিয়া থেকে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসে নানা প্রজাতির পরিযায়ী পাখি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশি আলোকচিত্রীদের ক্যামেরায় ধরা পড়া তেমনই কয়েকটি অতিথি পাখির ছবি ও পরিচিতি এখানে তুলে ধরা হলো।
চকাচকি বা খয়রা চখাচখি: পৃথিবীর বিশাল এলাকাজুড়ে এদের বিচরণ, আনুমানিক ৮৪ লাখ ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার। গত কয়েক দশকে সংখ্যা কমলেও পরিস্থিতি এখনো আশঙ্কাজনক পর্যায়ে যায়নি। শীতে এরা পরিযায়ী হয়ে বাংলাদেশে আসে। ২০২৪ সালে রাজশাহীতে এর ছবি তুলেছেন আসকের ইবনে ফিরোজ (রুশো)।
নীলগলা ফিদ্দা: ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ায় দেখা মেলে এই পাখির। হাওর, বিল বা জলাশয়ের ধারের ঝোপ কিংবা নলবনে রাত কাটায়। সাধারণত একাই থাকে। ২০২১ সালে ঢাকায় ছবিটি তুলেছেন আসকের ইবনে ফিরোজ (রুশো)।
পরিযায়ী গাঙচিল, স্থানীয় বড় বক ও ছোট বক: ২০২৬ সালে ফেনীর মুহুরি প্রকল্প এলাকায় এদের একসঙ্গে ক্যামেরাবন্দি করেছেন ডাক্তার অনীক চন্দ।
দাগি রাজহাঁস: বাংলাদেশ ও ভারতের পাশাপাশি দক্ষিণ, মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এদের দেখা যায়। শীতে মধ্য এশিয়া থেকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আসে, শীত শেষে ফিরে যায় সেখানকার পার্বত্য হ্রদে, যেখানে বিচরণ ও প্রজনন করে। এদের আবাস প্রায় ২০ লাখ ২০ হাজার বর্গকিলোমিটার জুড়ে। ২০১৭ সালে রাজশাহীতে ছবিটি তুলেছেন সাইফুদ্দিন সাইফ।
চিতিপাখ শালিক: উত্তর ভারত ও পশ্চিম নেপালে বংশবৃদ্ধি করে। শীতে আসে উত্তর-পূর্ব ভারত, উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে। নিচু এলাকার বন ও আর্দ্র পাহাড়ি বন এদের প্রাকৃতিক আবাস। ২০২০ সালে হবিগঞ্জে ছবিটি তুলেছেন সাইফুদ্দিন সাইফ।
সাইবেরীয় চুনিকণ্ঠী: মূলত পোকামাকড় খায়। বাসা বাঁধে সাইবেরিয়ার তাইগা অঞ্চলে। শীতে সারা দেশের নলখাগড়ার ঝাড়, ঝোপঝাড়, বেড়া এবং জলাভূমির কিনারায় এদের দেখা মেলে। ২০২৫ সালে চট্টগ্রামের অনন্যা আবাসিক এলাকায় ছবিটি তুলেছেন রিজওয়ানুল আলম।
নীলশীর বা নীলমাথা হাঁস: উত্তর আমেরিকা, ইউরেশিয়া ও উত্তর আফ্রিকার নাতিশীতোষ্ণ ও উপ-ক্রান্তীয় অঞ্চলে প্রজনন করে। জলাভূমিতে থাকে, জলজ উদ্ভিদ ও ছোট প্রাণী খায়, দলবেঁধে চলতেই পছন্দ করে। শীতের শুরুতে বাংলাদেশে আসে। ২০২৬ সালে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে ছবিটি তুলেছেন মাইনুল এইচ তানভীর।
রাঙ্গামুড়ি বা লালঝুঁটি ভুতিহাঁস: ইউরোপ, আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা ও এশিয়ার নানা দেশে দেখা যায়। আবাস প্রায় ৩০ লাখ ৬০ হাজার বর্গকিলোমিটার জুড়ে। শীতে বাংলাদেশে আসে। ২০২৩ সালে টাঙ্গুয়ার হাওরে ছবিটি তুলেছেন ডাক্তার বাসিত-উর-রশিদ।
ইউরেশীয় মেঠো কাঠঠোকরা: মূলত ইউরোপ ও এশিয়ার নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে প্রজনন করে, অধিকাংশই পরিযায়ী। শীত কাটায় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আফ্রিকা এবং ইরান থেকে ভারতীয় উপমহাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে। খোলা গ্রামাঞ্চল, বনভূমি ও ফলের বাগানে এদের বেশি দেখা যায়। ২০২০ সালে ঢাকায় ছবিটি তুলেছেন ডাক্তার বাসিত-উর-রশিদ।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
চলমান বার্তা ডেস্ক : 

























