যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে।
স্থানীয় সময় রোববার (১২ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৮ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৩ ডলার ছাড়িয়েছে। এর আগে গত মঙ্গলবারের (৭ এপ্রিল) পর এই প্রথম তেলের দাম আবার ১০০ ডলারের গুরুত্বপূর্ণ সীমা অতিক্রম করল। সে সময় তেলের দাম ১১১ ডলার ছাড়িয়েছিল। খবর আল জাজিরার।
ট্রাম্প রোববার ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ প্রবেশ বা বের হতে দেবে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পরই এ সিদ্ধান্ত আসে
তবে পরে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, কেবল ইরানের বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোকে অবরোধ করা হবে, অন্য জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া হবে না। এতে ট্রাম্পের পূর্ণ অবরোধের ঘোষণার তুলনায় কিছুটা নরম অবস্থান নির্দেশ করে।
সেন্টকম জানায়, সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল ১০টা (ইস্টার্ন টাইম) থেকে এই অবরোধ কার্যকর হবে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার পর থেকে তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা গেছে। ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করায় বিশ্বে সরবরাহ ব্যাহত হয়। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়।
গত মাসে ব্রেন্টের দাম ১১৯ ডলার ছাড়ালেও, পরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলে দাম কমে গত সপ্তাহে ৯২ ডলারের নিচে নেমে আসে।
যদিও ইরান সীমিত আকারে কিছু জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে, তবুও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় নৌ চলাচল অনেক কমে গেছে।
সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা উইন্ডওয়ার্ডের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১১ এপ্রিল) মাত্র ১৭টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে, যেখানে যুদ্ধের আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩০টি জাহাজ চলাচল করত।
এদিকে, অবরোধের ঘোষণার প্রভাবে এশিয়ার শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সোমবার সকালে জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ০.৯ শতাংশ কমেছে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক ১ শতাংশের বেশি পতন হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের ফিউচারেও পতনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যেখানে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক সংশ্লিষ্ট ফিউচার প্রায় ০.৮ শতাংশ কমেছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 



















