দেশে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত ও নিরাপদ করতে সব মার্চেন্ট পয়েন্টে একক ‘বাংলা কিউআর’ কোড ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
মর্চেন্ট পয়েন্টে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে সব ধরনের নিজস্ব কিউআর কোড সরিয়ে ‘বাংলা কিউআর’ বাধ্যতামূলকভাবে চালু করতে হবে। মার্চেন্ট পয়েন্টে হলো যেখানে পেমেন্ট নেওয়া হয়, যেমন দোকান, রেস্টুরেন্ট, অনলাইন শপ, সেবা কেন্দ্র।
বুধবার (১ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সার্কুলার লেটারে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সার্কুলারে বলা হয়, দেশের সব তফসিলি ব্যাংক, মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রোভাইডার, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) ও পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও) তাদের সব ধরনের মার্চেন্ট পেমেন্টে নিজস্ব কিউআর কোড সড়িয়ে এখন থেকে ‘বাংলা কিউআর’ চালু করবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, সব মার্চেন্ট পয়েন্টে বর্তমানে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কিউআর কোড ৩০ জুনের মধ্যে অপসারণ করে ‘বাংলা কিউআর’ দ্বারা প্রতিস্থাপন করতে হবে। একইসঙ্গে এই প্ল্যাটফর্মে নিরবচ্ছিন্ন লেনদেন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সমন্বয় ও ইন্টারঅপারেবিলিটি নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।
এছাড়া মার্চেন্ট পয়েন্টে ‘বাংলা কিউআর’ দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকির নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সার্কুলারে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো মার্চেন্ট যদি পেমেন্টের বাইরে ক্যাশ আউট কার্যক্রম পরিচালনা করে, তাহলে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্টের কিউআর কোড বাতিল করা হবে।
একইসঙ্গে গ্রাহক ও মার্চেন্টদের মধ্যে ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, পরিশোধ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আইন, ২০২৪-এর আওতায় এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টালিখাতা ও টালিপে-র প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও শাহাদাত খান বলেন, ক্যাশলেস বাংলাদেশ বাস্তবায়নে একক কিউআর কোড অত্যন্ত কার্যকর একটি উদ্যোগ হতে পারে। সব মার্চেন্ট পয়েন্টে বাংলা কিউআর কোড প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হলে সাধারণ মানুষ সর্বত্র একই ধরনের কিউআর ব্যবহার করতে পারবেন, ফলে ডিজিটাল পেমেন্টে আস্থা ও আগ্রহ বাড়বে।
তিনি আরও বলেন, ‘এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে অল্প সময়ের মধ্যেই দেশে বিপুলসংখ্যক কিউআর কোড চালু হবে এবং কিউআরভিত্তিক লেনদেন দ্রুত বিস্তৃত হবে, যা ক্যাশলেস অর্থনীতির পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
একটি এমএফএস প্রতিষ্ঠানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘সবার জন্য “বাংলা কিউআর” বাধ্যতামূল করেছে। তবে এটা কতটা স্মুদ হবে, বলা যাচ্ছে না। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানের পেমেন্টের আইটি সিস্টেম খুবই আপডেটেড, আবার কারো কারো ক্ষেত্রে দুর্বলতা রয়েছে। সেক্ষেত্রে “বাংলা কিউআর” কোড দিয়ে সকল ধরনের পেমেন্ট স্মুদ করতে হবে, তবেই এটা কার্যকর হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক সার্কুলার দিলেও এখনই নির্ধারিত সময়সীমা বেঁধে দেয়া ঠিক হয়নি। এই সময়ের মধ্যে সব প্রতিষ্ঠানে কতটা কার্যকর হবে, তা বলা যাচ্ছে না।”
বিকাশের কর্পোরেট কমিউনিকেশন ও জনসংযোগ বিভাগের প্রধান শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম টিবিএসকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক সকল মার্চেন্ট পেমেন্টের জন্য “বাংলা কিউআর” বাধ্যতামূল করেছে—আমরা অবশ্যই অনুসরণ করব। আমরা এই বাংলা কিউআর কোডের প্রাথমিক ফাইলটিং পর্যায় থেকে সার্বিক সহায়তায় থেকেছি।’
চলমান বার্তা ডেস্ক : 












