ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় বুধবার (১ এপ্রিল) রাতে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, যুদ্ধ শেষের কাছাকাছি হলেও আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহ ইরানে ব্যাপক বোমা হামলা চালানো হবে এবং প্রয়োজনে দেশটিকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ বন্ধে কোনো সমঝোতা না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালানো হতে পারে। এমনকি তেলক্ষেত্রেও হামলার ইঙ্গিত দেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের হামলা ইরানের বেসামরিক জনগণের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে এবং আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর পাল্টা হামলার ঝুঁকি বাড়াবে। খবর এক্সিওসের।
ভাষণের পরপরই বৈশ্বিক বাজারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। শেয়ারবাজারের ফিউচার সূচক নিম্নমুখী হয়ে পড়ে এবং তেলের দাম বেড়ে যায়।
ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের ক্ষতি করেছে এবং সেগুলো কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ইরান নতুন করে কোনো পদক্ষেপ নিলে আবারও শক্তিশালী হামলা চালানো হবে।
এদিকে, কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এক্সিওসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানকে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে, শর্ত হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, সমঝোতা না হলে এই প্রণালি বন্ধ রেখেই যুদ্ধ শেষ করার পরিকল্পনাও থাকতে পারে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটকে দীর্ঘায়িত করতে পারে।
ভাষণে ট্রাম্প নতুন কোনো নীতিগত ঘোষণা না দিলেও তিনি জনমতকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে এই যুদ্ধ প্রয়োজনীয় এবং সফল। তবে তার বক্তব্যে যুদ্ধের চূড়ান্ত পরিণতি বা যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে এই সংঘাত থেকে বের হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 












