ঢাকা ০৭:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
পবিত্র ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে চলমান বার্তার বার্তা বিভাগ ১৬-২৫ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এ সময় কোন সংবাদ প্রকাশ করা হবে। ২৬ মার্চ থেকে যথারীতি সংবাদ পরিবেশিত হবে। কর্তৃপক্ষ ব্রডশিট জবাব না দিলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের এমপিও স্থগিত ক্রেডিট কার্ডের নতুন গাইডলাইন ৪২ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ ইরানে সাড়ে ৫ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা রামপালে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে একই পরিবারের ১২ জনসহ ১৩ জন নিহত রাষ্ট্রপতিকে প্রত্যাখ্যান করেছি : জামায়াত আমির রোববার ১১টা পর্যন্ত সংসদ অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা ‘কিলার চুপ্পু’ স্লোগানে উত্তাল সংসদ দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিল আওয়ামী লীগ : রাষ্ট্রপতি

ইসরায়েলের গাজা দখলে চূড়ান্ত হামলা শুরু

গাজা শহরে একটি বর্ধিত স্থল অভিযান (হামলা) শুরু করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বৃহত্তম শহরটিতে ধীরে ধীরে এই আক্রমণ শুরু করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যেই ব্লকের পর ব্লক ধ্বংস করে দিয়েছে। এখনো শহরে থাকা বাসিন্দাদের দ্রুত দক্ষিণে সরে যাওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার আরও একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কয়েক মাসের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি এখন আরও নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, এই অভিযান শেষ হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

একজন ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, গাজা সিটি অভিযানের ‘মূল পর্যায়’ শুরু হয়েছে। সৈন্যরা শহরের উপকণ্ঠ থেকে কেন্দ্রস্থলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। অভিযানের আগে থেকেই শহরটিতে ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়।

সামরিক বাহিনীর অনুমান, গাজা শহরের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ তিন লাখ ৫০ হাজার মানুষ ইতোমধ্যেই শহর ছেড়ে চলে গেছে। তবে জাতিসংঘের এক অনুমান অনুযায়ী, গত মাসে উত্তর গাজা ছেড়ে পালিয়েছে দুই লাখ ২০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি। মঙ্গলবার আক্রমণ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গাজার উপকূলীয় রাস্তায় যানবাহন ও মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে, যারা পায়ে হেঁটে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে যাচ্ছেন।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, গাজা ‘জ্বলছে’। তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা দমে যাব না, আমরা ফিরেও যাব না— যতক্ষণ না অভিযান শেষ হয়।’

এদিকে, ইসরায়েল ত্যাগ করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কাতারে পৌঁছেছেন। তিনি বলেছেন, গাজায় চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে মধ্যস্থতা করার জন্য কাতারই একমাত্র দেশ। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, আমাদের কাছে খুব কম সময় আছে যখন একটি চুক্তি হতে পারে।

রুবিও আরও বলেন, এক পর্যায়ে এর অবসান ঘটাতে হবে। আমরা আশা করি আলোচনার মাধ্যমে এটি সম্ভব হবে, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, সময় ফুরিয়ে আসছে।

বছর ধরে ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি বজায় রাখা মিশর এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। মিশরের রাষ্ট্রপতি আবদেল-ফাত্তাহ আল-সিসি ইসরায়েলকে ‘শত্রু’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা ১৯৭৯ সালের শান্তি চুক্তির পর প্রথমবার। এই মন্তব্যের ফলে দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ করেছেন, যদিও ইসরায়েল এই দাবিকে ‘বিকৃত ও মিথ্যা’ বলে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

অন্যদিকে, গাজায় আটক জিম্মিদের পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বাসভবনের বাইরে অবস্থান নিয়েছেন। তারা গাজা সিটিতে অভিযান বন্ধ করার জন্য তার কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যা অব্যাহত, নিহতের সংখ্যা ৬৪ হাজার ৭৫৬

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

পবিত্র ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে চলমান বার্তার বার্তা বিভাগ ১৬-২৫ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এ সময় কোন সংবাদ প্রকাশ করা হবে। ২৬ মার্চ থেকে যথারীতি সংবাদ পরিবেশিত হবে। কর্তৃপক্ষ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

ইসরায়েলের গাজা দখলে চূড়ান্ত হামলা শুরু

আপডেট সময় ০৭:০৫:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

গাজা শহরে একটি বর্ধিত স্থল অভিযান (হামলা) শুরু করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বৃহত্তম শহরটিতে ধীরে ধীরে এই আক্রমণ শুরু করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যেই ব্লকের পর ব্লক ধ্বংস করে দিয়েছে। এখনো শহরে থাকা বাসিন্দাদের দ্রুত দক্ষিণে সরে যাওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার আরও একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কয়েক মাসের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি এখন আরও নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, এই অভিযান শেষ হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

একজন ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, গাজা সিটি অভিযানের ‘মূল পর্যায়’ শুরু হয়েছে। সৈন্যরা শহরের উপকণ্ঠ থেকে কেন্দ্রস্থলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। অভিযানের আগে থেকেই শহরটিতে ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়।

সামরিক বাহিনীর অনুমান, গাজা শহরের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ তিন লাখ ৫০ হাজার মানুষ ইতোমধ্যেই শহর ছেড়ে চলে গেছে। তবে জাতিসংঘের এক অনুমান অনুযায়ী, গত মাসে উত্তর গাজা ছেড়ে পালিয়েছে দুই লাখ ২০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি। মঙ্গলবার আক্রমণ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গাজার উপকূলীয় রাস্তায় যানবাহন ও মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে, যারা পায়ে হেঁটে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে যাচ্ছেন।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, গাজা ‘জ্বলছে’। তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা দমে যাব না, আমরা ফিরেও যাব না— যতক্ষণ না অভিযান শেষ হয়।’

এদিকে, ইসরায়েল ত্যাগ করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কাতারে পৌঁছেছেন। তিনি বলেছেন, গাজায় চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে মধ্যস্থতা করার জন্য কাতারই একমাত্র দেশ। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, আমাদের কাছে খুব কম সময় আছে যখন একটি চুক্তি হতে পারে।

রুবিও আরও বলেন, এক পর্যায়ে এর অবসান ঘটাতে হবে। আমরা আশা করি আলোচনার মাধ্যমে এটি সম্ভব হবে, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, সময় ফুরিয়ে আসছে।

বছর ধরে ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি বজায় রাখা মিশর এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। মিশরের রাষ্ট্রপতি আবদেল-ফাত্তাহ আল-সিসি ইসরায়েলকে ‘শত্রু’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা ১৯৭৯ সালের শান্তি চুক্তির পর প্রথমবার। এই মন্তব্যের ফলে দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ করেছেন, যদিও ইসরায়েল এই দাবিকে ‘বিকৃত ও মিথ্যা’ বলে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

অন্যদিকে, গাজায় আটক জিম্মিদের পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বাসভবনের বাইরে অবস্থান নিয়েছেন। তারা গাজা সিটিতে অভিযান বন্ধ করার জন্য তার কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যা অব্যাহত, নিহতের সংখ্যা ৬৪ হাজার ৭৫৬