যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে যুদ্ধবিরতি থেকে পুরোপুরি সরে দাঁড়ানোর হুমকি দিয়েছে ইরান। তেহরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লেবানন ভূখণ্ডে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকাকে তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করছে। খবর আলজাজিরার।
ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, দুই সপ্তাহের এই সাময়িক যুদ্ধবিরতির মূল শর্তই ছিল পুরো অঞ্চলজুড়ে ইসরায়েল ও আমেরিকার সকল প্রকার সামরিক তৎপরতা বন্ধ রাখা। এর মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ইরানের দাবি, গতকাল দেশটির মধ্যাঞ্চলে ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনা এবং লেবাননে ক্রমাগত হামলা প্রমাণ করে, প্রতিপক্ষ পক্ষগুলো সমঝোতার বিষয়ে আন্তরিক নয়। হামলার এই ধারা অব্যাহত থাকলে ইরান আলোচনার টেবিল থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিতে পারে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে শুল্ক আরোপের নতুন কৌশল
কূটনৈতিক আলোচনায় হরমুজ প্রণালিকে দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান। বিশ্ব জ্বালানি বাজারে এই জলপথের গুরুত্ব বিবেচনা করে ইরান ঘোষণা করেছে, এই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর তারা নতুন করে শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জাহির করে ইরান আসলে এই জটিল পরিস্থিতিতে নিজেদের বিজয় নিশ্চিত করতে চাইছে।
নজর এখন ইসলামাবাদে
এতসব নাটকীয়তা ও হুমকির মাঝেই ইরানি প্রতিনিধি দল আলোচনার জন্য পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আগামীকাল শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সেখানে বহুল প্রতীক্ষিত এই কূটনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। একদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী অবস্থান এবং অন্যদিকে ইরানের শান্তি প্রক্রিয়া থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি- সব মিলিয়ে ইসলামাবাদ বৈঠক এখন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















