নির্দলীয় নির্বাচন: কাগজে বাস্তব হলেও মাঠে কি সম্ভব?
নিজস্ব প্রতিবেদক | চলমানবার্তা ১২ এপ্রিল ২০২৬
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের ব্যবহার বাতিল করে জাতীয় সংসদে একযোগে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী বিল পাস হয়েছে। আইনি কাঠামোতে এই আমূল পরিবর্তনের ফলে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিটি কর্পোরেশন পর্যন্ত সব স্তরে দলীয় মনোনয়নের আনুষ্ঠানিক পথ বন্ধ হলো। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের দলীয় সংস্কৃতি ও প্রভাবের কারণে ‘অনানুষ্ঠানিক মনোনয়ন’ ও প্রভাব খাটানোর আশঙ্কা মাঠপর্যায়ে রয়েই গেছে।
আইনি পরিবর্তন ও পাসের প্রেক্ষাপট গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ‘ইউনিয়ন পরিষদ’, ‘উপজেলা’, ‘জেলা পরিষদ’, ‘পৌরসভা’ এবং ‘সিটি কর্পোরেশন’ সংশোধন বিল-২০২৬ কণ্ঠভোটে পাস হয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন ও গেজেট প্রকাশের পর এগুলো কার্যকর আইনে পরিণত হবে। নতুন আইন অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলো কোনো প্রার্থীকে দলীয় প্রতীক বা সমর্থন দিতে পারবে না। সব প্রার্থীই ‘স্বতন্ত্র’ হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
দলীয় প্রতীকের নেতিবাচক ইতিহাস ২০১৫ সালে তৎকালীন সরকারের আমলে জবাবদিহিতার যুক্তিতে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের প্রথা চালু করা হয়েছিল। তবে বাস্তবে এর ফলাফল ছিল বিপরীত। স্থানীয় নির্বাচনে মনোনয়ন-বাণিজ্য, সহিংসতা এবং তীব্র সামাজিক বিভক্তি লক্ষ্য করা যায়। এর ফলে যোগ্য ও সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিরা নির্বাচন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন।
যোগ্য প্রার্থী ফেরার সম্ভাবনা নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্দলীয় ব্যবস্থা ফিরলে স্থানীয় পর্যায়ে যোগ্য প্রার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়বে। নির্বাচনব্যবস্থা ও স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার এই আইনি রূপ দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের শঙ্কা: ‘অদৃশ্য মনোনয়ন’ সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, কেবল আইন পরিবর্তনই স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন ফেরানোর জন্য যথেষ্ট নয়। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন:
“রাজনৈতিক দলগুলো হয়তো এখন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মনোনয়ন দেবে না; কিন্তু অনানুষ্ঠানিকভাবে তাদের পছন্দের প্রার্থী ঠিকই থাকতে পারে। এমনটা হলে যোগ্য ব্যক্তিরা আগের মতোই নির্বাচনী মাঠ থেকে দূরে থাকবেন।”
তিনি আরও যোগ করেন, সরকার যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের সদিচ্ছা দেখায় এবং রাজনৈতিক দলগুলো যদি অনানুষ্ঠানিক প্রভাব বিস্তার থেকে বিরত থাকে, তবেই এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সুফল সাধারণ মানুষ পাবে।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 



















