ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে ফের আলোচনায় বসার আহ্বান অস্ট্রেলিয়ার

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বহুল প্রতিক্ষিত শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং উভয় পক্ষকে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার ও পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফেরার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। খবর আল জাজিরার।

অস্ট্রেলীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পেনি ওং বলেন, ‘ইসলামাবাদ আলোচনা কোনো ফল ছাড়াই শেষ হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। আমাদের বর্তমান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত যুদ্ধবিরতি অব্যাহত রাখা এবং দ্রুত এই সংঘাতের একটি সমাধান খুঁজে বের করা।’ তিনি বলেন, পুনরায় যুদ্ধ শুরু হলে তা ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনবে এবং ভঙ্গুর বিশ্ব অর্থনীতিকে আরও খাদের কিনারে ঠেলে দেবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই সংকটের মূলে রয়েছে গত কয়েক সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘাত এবং তার পরবর্তী ভূ-রাজনৈতিক জটিলতা। আলোচনার এই অচলাবস্থার পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে এই শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। এতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানি স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ অংশ নিয়েছিলেন। দীর্ঘ দুই দশকের মধ্যে এটিই ছিল দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ের সরাসরি যোগাযোগ।

আলোচনার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘হরমুজ প্রণালি’। ইরান এই জলপথকে তাদের ‘রেড লাইন’ বা অলঙ্ঘনীয় সীমা হিসেবে দাবি করছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র একে উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে কোনো ছাড় দিতে নারাজ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অস্পষ্ট ও ঘনঘন অবস্থান পরিবর্তন আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। তিনি একবার বলছেন, এই অঞ্চল (হরমুজ প্রণালি) যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, আবার কয়েকদিন পরেই একে আলোচনার প্রধান শর্ত হিসেবে ঘোষণা করছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে হত্যার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে চরম অস্থিরতা শুরু হয়। ইরান এর জবাবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দেয় ও অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকি তৈরি করে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

অবশেষে খুলে গেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা আসামির হাতে হাতকড়া

২৯ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে ফের আলোচনায় বসার আহ্বান অস্ট্রেলিয়ার

আপডেট সময় ১২:৫৮:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বহুল প্রতিক্ষিত শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং উভয় পক্ষকে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার ও পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফেরার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। খবর আল জাজিরার।

অস্ট্রেলীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পেনি ওং বলেন, ‘ইসলামাবাদ আলোচনা কোনো ফল ছাড়াই শেষ হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। আমাদের বর্তমান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত যুদ্ধবিরতি অব্যাহত রাখা এবং দ্রুত এই সংঘাতের একটি সমাধান খুঁজে বের করা।’ তিনি বলেন, পুনরায় যুদ্ধ শুরু হলে তা ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনবে এবং ভঙ্গুর বিশ্ব অর্থনীতিকে আরও খাদের কিনারে ঠেলে দেবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই সংকটের মূলে রয়েছে গত কয়েক সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘাত এবং তার পরবর্তী ভূ-রাজনৈতিক জটিলতা। আলোচনার এই অচলাবস্থার পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে এই শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। এতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানি স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ অংশ নিয়েছিলেন। দীর্ঘ দুই দশকের মধ্যে এটিই ছিল দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ের সরাসরি যোগাযোগ।

আলোচনার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘হরমুজ প্রণালি’। ইরান এই জলপথকে তাদের ‘রেড লাইন’ বা অলঙ্ঘনীয় সীমা হিসেবে দাবি করছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র একে উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে কোনো ছাড় দিতে নারাজ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অস্পষ্ট ও ঘনঘন অবস্থান পরিবর্তন আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। তিনি একবার বলছেন, এই অঞ্চল (হরমুজ প্রণালি) যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, আবার কয়েকদিন পরেই একে আলোচনার প্রধান শর্ত হিসেবে ঘোষণা করছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে হত্যার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে চরম অস্থিরতা শুরু হয়। ইরান এর জবাবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দেয় ও অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকি তৈরি করে।

Share this news as a Photo Card