ঢাকা ০৪:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রায়ে সন্তুষ্ট নয় আবু সাঈদের বাবা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ ও রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এতে দুজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বাকি ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই রায় দেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন–বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

রায় ঘোষণার পর আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, ‘এ রায়ে আমি সন্তুষ্ট নই। মূল অপরাধীদের সাজা আরও বেশি আশা করেছিলাম। পুলিশের বড় কর্মকর্তাদের দীর্ঘ মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়নি। নামমাত্র স্বল্পমেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। এখন শুধু কনস্টেবলের ওপর দিয়ে গেল। যাদের আদেশে আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে, তারা বেঁচে গেল। আমরা সব আসামির ফাঁসি চাই।’

রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন কি না—এ প্রশ্নের জবাবে মকবুল হোসেন বলেন, ‘আইনজীবী ও বড় ছেলের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।’

আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘মূল অপরাধীদের আরও দীর্ঘ মেয়াদি সাজা আশা করেছিলাম। সরকারের কাছে দাবি করছি। এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই।’

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন–পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন–সাবেক সহকারী কমিশনার মো.আরিফুজ্জামান, সাবেক পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ও সাবেক এসআই (নিরস্ত্র) বিভূতিভূষণ রায়।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ এ মামলার মোট আসামি ৩০ জন। এরমধ্যে মো. হাসিবুর রশীদসহ ২৪ আসামি পলাতক রয়েছেন।

গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আবু সাঈদ জুলাই আন্দোলনে অন্যতম শহীদ। তিনি নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন। সারা জাতি, পৃথিবীর সব মানুষ সেটা অবলোকন করেছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনেও এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি উঠে এসেছে। তাদের তদন্তেও এর অকাট্য প্রমাণ পেয়েছেন। এ মামলায় যাদের বিচারের সম্মুখীন করা হয়েছে, তারা (প্রসিকিউশন) বিশ্বাস করেন, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে। তারা প্রত্যাশিত রায় পাবেন।

আবু সাঈদ হত্যা মামলার ৩০ আসামির মধ্যে ছয়জন গ্রেপ্তার আছেন। তারা হলেন–বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সাবেক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ। তাদের সকালে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।

পলাতক আসামির মধ্যে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডল, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার মো. হাফিজুর রহমান, সাবেক সেকশন অফিসার মো. মনিরুজ্জামান পলাশ, বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মন্ডল রয়েছেন।

ট্যাগস

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

রায়ে সন্তুষ্ট নয় আবু সাঈদের বাবা

আপডেট সময় ০৪:৩২:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ ও রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এতে দুজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বাকি ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই রায় দেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন–বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

রায় ঘোষণার পর আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, ‘এ রায়ে আমি সন্তুষ্ট নই। মূল অপরাধীদের সাজা আরও বেশি আশা করেছিলাম। পুলিশের বড় কর্মকর্তাদের দীর্ঘ মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়নি। নামমাত্র স্বল্পমেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। এখন শুধু কনস্টেবলের ওপর দিয়ে গেল। যাদের আদেশে আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে, তারা বেঁচে গেল। আমরা সব আসামির ফাঁসি চাই।’

রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন কি না—এ প্রশ্নের জবাবে মকবুল হোসেন বলেন, ‘আইনজীবী ও বড় ছেলের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।’

আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘মূল অপরাধীদের আরও দীর্ঘ মেয়াদি সাজা আশা করেছিলাম। সরকারের কাছে দাবি করছি। এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই।’

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন–পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন–সাবেক সহকারী কমিশনার মো.আরিফুজ্জামান, সাবেক পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ও সাবেক এসআই (নিরস্ত্র) বিভূতিভূষণ রায়।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ এ মামলার মোট আসামি ৩০ জন। এরমধ্যে মো. হাসিবুর রশীদসহ ২৪ আসামি পলাতক রয়েছেন।

গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আবু সাঈদ জুলাই আন্দোলনে অন্যতম শহীদ। তিনি নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন। সারা জাতি, পৃথিবীর সব মানুষ সেটা অবলোকন করেছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনেও এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি উঠে এসেছে। তাদের তদন্তেও এর অকাট্য প্রমাণ পেয়েছেন। এ মামলায় যাদের বিচারের সম্মুখীন করা হয়েছে, তারা (প্রসিকিউশন) বিশ্বাস করেন, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে। তারা প্রত্যাশিত রায় পাবেন।

আবু সাঈদ হত্যা মামলার ৩০ আসামির মধ্যে ছয়জন গ্রেপ্তার আছেন। তারা হলেন–বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সাবেক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ। তাদের সকালে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।

পলাতক আসামির মধ্যে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডল, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার মো. হাফিজুর রহমান, সাবেক সেকশন অফিসার মো. মনিরুজ্জামান পলাশ, বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মন্ডল রয়েছেন।