একটা ভয়ানক ক্রান্তিকাল অতিবাহিত করেছে আমাদের এই প্রিয় বাংলাদেশ। মুক্তমনা শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে কৃষক-শ্রমিক, শিক্ষিত-বুদ্ধিজীবি তথা স্বাধীনতার স্বপক্ষের সর্বস্তরের জনমনে এই নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পূর্ব পর্যন্ত আশংকা ছিলো, ভয়-ভীতি ছিলো-কি হয় কি হয় এই নিয়ে। টক শো, বিভিন্ন জরিপ এবং পত্র-পত্রিকাগুলোতেও আশংকা করা হচ্ছিল যে, স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি সম্ভবত: এবার সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।
জুলাই বিপ্লব-জুলাই অভ্যত্থান যাই বলিনা কেনো এর পিছনে যে শক্তি কার্যকর ছিলো তা পরবর্তীকালে সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। জনজাগরণের ফলে ফ্যাসিস্ট সরকার বিতারিত হতে বাধ্য হয়। কিন্তু জনমনে যে নুতন আশার সঞ্চার হয়েছিল তা অঙ্কুরেই ঝরে যায়। অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রায় ১৭ মাসের শাসনামলে জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থতার অভিযোগ উঠে।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি, দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি, নিরাপত্তাহীনতা, অর্থপাচার প্রভৃতি যেনো নতুনরূপে আভির্ভূত হচ্ছিল। স্বল্প সময়ের শাসনামলে প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে স্বাধীনতা বিরোধীদের নিয়োগ দেয়া হয়।
স্বাধীনতা বিরোধীদের আস্ফালনে সাধারণ জনগণ ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। কেবলমাত্র ক্ষমতায় যাবার জন্য ধর্মকে ঢাল বানিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা থেকে শুরু করে হেনো কাজ নেই যে এই দলটি করে নাই।দলটির প্রতিষ্ঠাতা আবুল আলা মওদুদি। তার মতবাদে বিশ্বাসী এই দলটি একটি পথভ্রস্ট দল। শিয়া, খারেজি, রাফেজি, মোতাজিলা, সালাফি-ওহাবি, আহলে হাদিস, কাদিয়ানী প্রভৃতি পথভ্রস্ট দলের মতই একটি পথভ্রস্ট দল তাতে কোনই সন্দেহ নেই। এ বিষয়ে বহুপ্রজ্ঞাময় আলেমের লিখিত বক্তব্য আছে যে, তারা গোমরাহি বা পথভ্রস্ট একটি দল যেমন, মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরি র. এঁর ” ভুল সংশোধন,” মাওলানা হাফেজ্জী হুজুরের ৪৫২ জন আলেমের দস্তখত সম্বলিত কিতাব “সতর্ক বাণী” প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। তারা নবী-রসূল, সাহাবীদের সন্মান দিতে জানেনা। তাদের বই- পুস্তকে এর বহু প্রমাণ পাওয়া যায়, যেমন আবুল আলা মওদুদি লিখিত বিভিন্ন কিতাবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, তাহফিমূল কোরআন, খেলাফতে মুলকিয়াত, ইসলামি রেঁনেসা আন্দোলন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। এই কিতাবগুলো তে নবী স. এঁর সন্মানিত সহচরবৃন্দের বিষোদগার করা হয়; এমনকি নবী-রাসুলদেরও সমালোচনা করা থেকে লানতপাপ্ত মওদুদি বিরত হয় নাই। ফলে সে এবং তার মতবাদে বিশ্বাসী ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দল সুন্নত ওয়াল জামাতের আকিদা -বিশ্বাস থেকে বহিষ্কৃত হয়ে একটি পথভ্রষ্ট দলে পরিণত হয়। তাই ইমান-আকিদা হেফাজত করার জন্য এই দলটি এবং এই দলের লোকদের থেকে সবিশেষ সাবধান থাকতে হবে।
সামনে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের কাছে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যা হোক আমরা আশাকরি বর্তমান নূতন সরকার অতীতের ভুল-ভ্রান্তি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে সমাজে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় ব্রতী হবে এবং অভ্যন্তরীণ ও বহি:শত্রুর দুরভিসন্ধি সমূহ দৃঢ়তার সাথে মোকবিলা করে দেশকে একটি সুন্দর সমাজ ব্যবস্থা উপহার দিবেন। সর্বোপরি নির্লোভ দেশপ্রেমিক মনস্ক মন্ত্রিসভা গঠন করবেন যারা নিজ স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে নিরলস পরিশ্রম করবেন এবং কোনোক্রমেই অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবেন না। এ প্রার্থনা – আবেদন পরমপবিত্র প্রভুপালয়িতার দরবারে উপাস্থাপনা করলাম। শুভ আশিষ- শুভ কামনা রইল।
মোহাম্মদ সফিউল আজম 


























