গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদকে মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের মামলায় আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান শুনানি শেষে পাঁচশ টাকা মুচলেকায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পরীমনি ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যান। পরে মাহফুজুর রহমানের আদালতে মামলার শুনানি হয়।
মামলার বাদী উত্তরার ঢাকা বোট ক্লাবের পরিচালক নাসির উদ্দিন মাহমুদ। চার বছর আগে সাভার থানায় তিনি মামলাটি করেন। গতকাল বুধবার এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু পরীমনি আদালতে হাজির হননি। তাঁর আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী সময়ের আবেদন করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম মোহাম্মদ সোহেল এতে আপত্তি জানিয়ে জামিন বাতিলের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত সময়ের আবেদন নাকচ করে পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হয়।
এর আগেও একই মামলায় পরীমনির বিরুদ্ধে একবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। ২০২৫ সালের ২৬ জুন মামলায় অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। ওই দিন আদালতে হাজির না থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়। পরদিন ২৭ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করে তিনি জামিন পান।
মামলার প্রেক্ষাপট
২০২১ সালের ৮ জুন রাতে পরীমনি ঢাকা বোট ক্লাবে যাওয়ার পর ঘটনার সূত্রপাত। কয়েক দিন পর সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, ওই রাতে বোট ক্লাবে তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা ও হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। ১৩ জুন তিনি নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ মামলায় নাসির গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, পরে জামিনে মুক্তি পান। সেই মামলার বিচার এখন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে চলছে।
এরপর ২০২২ সালের ৬ জুলাই পরীমনির বিরুদ্ধে মামলা করেন নাসির উদ্দিন। তাঁর অভিযোগ, পরীমনি বোট ক্লাবে গিয়ে তাঁকে মারধর ও হুমকি দিয়েছিলেন। আজকের জামিনের ঘটনা এই মামলারই।
রানা মিয়া, বিনোদন প্রতিনিধি 



















