মজুরি বাড়ানোর দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে অর্থ জোগান ও লোকবল দিয়ে সহায়তার অভিযোগে অন্তত ২০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে সব ব্যাংককে নির্দেশনা পাঠিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এ তালিকায় আছেন দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকটি শিল্প গ্রুপের মালিক, সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক কর্মী। তাঁদের বেশির ভাগই নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, অথবা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নানা সুবিধা পেয়েছেন।
কী বলছে এনবিআর
এনবিআরের এক অনুষ্ঠানে সংস্থাটির চেয়ারম্যান আহসান হাবিব কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, বিশেষ একটি কারণে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) ও আয়কর গোয়েন্দা বিভাগ ৩৪ ব্যক্তি ও ৩৪ পরিবারের ব্যাংক হিসাব জব্দ করছে। সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হিসাব জব্দ করতে ব্যাংকগুলোকে ইমেইলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তালিকায় যাঁরা
রাজস্ব বোর্ডের সূত্র বলছে, ১২টি গ্রুপের মালিক এ আন্দোলনে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য অর্থায়ন করছেন। এঁদের একজন সিপাল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিপু মুনশি, যিনি আওয়ামী লীগ সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন। একই অভিযোগে হিসাব জব্দ করা হচ্ছে বেক্সিমকো গ্রুপের মালিক সালমান এফ রহমানের। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বেসরকারি বিনিয়োগ-বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন।
তালিকার অন্য নামগুলো হলো:
- এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক সংসদ সদস্য সালাম মুর্শেদী
- রেনেসাঁ গ্রুপের মালিক ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম
- হামিদ গ্রুপের মালিক ও সাবেক জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু
- ফেবিয়ান গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম
- তুসুকা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়জুর রহমান বাদল
- ওয়েল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আবদুস ছালাম
- নিপা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খসরু চৌধুরী
- অ্যাক্সিস নিটওয়্যারস লিমিটেডের পরিচালক জাহিদ আহমেদ টুলু
- স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম মোশাররফ হোসেন
- গিভেন্সি গ্রুপের চেয়ারম্যান মাসুমা খাতুন লিপা
মিরপুরে অর্থ জোগানের অভিযোগ
মিরপুর এলাকার আন্দোলনে অর্থ জোগানোর অভিযোগে যাঁদের হিসাব জব্দ হচ্ছে, তাঁরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি এবং শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলম।
সূত্র জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজনের হিসাবও জব্দ করা হচ্ছে। তাঁরা হলেন ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহর ভাগনে আলিফ মোল্লা, জাহাঙ্গীর আলমের সহযোগী মাহবুবুর রহমান জুয়েল, স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মী কামাল গাজী এবং শুভ নামে এক ব্যক্তি।
অনলাইনে সমন্বয়ের দাবি
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অনলাইনে সমন্বয়ের দায়িত্বে আছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। তাঁর নেতৃত্বে প্রায় ১৫০ জন ২০ থেকে ২৫টি হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম ও ফেসবুক পেজে আন্দোলনের বিভিন্ন স্থানের ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে দিচ্ছেন বলে সূত্রগুলো জানায়। এঁদের মধ্যে বাহাউদ্দিন নাছিমের ব্যাংক হিসাবও জব্দ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সরকারের বক্তব্য
সম্প্রতি সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পোশাক খাতের চলমান অস্থিরতার পেছনে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের ইন্ধন রয়েছে। কিছু শিল্প মালিকও এতে জড়িত এবং সরকারের কাছে এ বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ আছে বলে তিনি জানান।
অভিযুক্তদের বক্তব্য
কারও কারও ব্যাংক হিসাব ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) একাধিক সংস্থার মামলায় আগেই জব্দ করা হয়েছিল। তালিকার কেউ কেউ কারাগারে আছেন, অনেকে আছেন দেশের বাইরে। ফলে অভিযোগ নিয়ে তাঁদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 




















