ঢাকা ১০:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
পবিত্র ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে চলমান বার্তার বার্তা বিভাগ ১৬-২৫ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এ সময় কোন সংবাদ প্রকাশ করা হবে। ২৬ মার্চ থেকে যথারীতি সংবাদ পরিবেশিত হবে। কর্তৃপক্ষ ব্রডশিট জবাব না দিলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের এমপিও স্থগিত ক্রেডিট কার্ডের নতুন গাইডলাইন ৪২ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ ইরানে সাড়ে ৫ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা রামপালে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে একই পরিবারের ১২ জনসহ ১৩ জন নিহত রাষ্ট্রপতিকে প্রত্যাখ্যান করেছি : জামায়াত আমির রোববার ১১টা পর্যন্ত সংসদ অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা ‘কিলার চুপ্পু’ স্লোগানে উত্তাল সংসদ দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিল আওয়ামী লীগ : রাষ্ট্রপতি

 কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে পাঁচশ বছরের পুরনো নবরত্ন মন্দির

জুয়েল রানা, চলনবিল (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার হাটিকুমরুলে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে শিল্পকর্মের নিদর্শন নবরত্ন মন্দির। ইতিহাস ঐতিহ্যর সাক্ষী এ মন্দিরটি স্থাপনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক নজির পরিলক্ষিত হয়। আর এ দৃষ্টিনন্দিত নবরত্ন মন্দিরটি একজন মুসলিম শাসকের অর্থায়নে হিন্দু তহশিলদার দ্বারা নির্মাণ করা হয়। এ মন্দিরটি ‘দোলমঞ্চ’ নামেও স্থানীয়ভাবে পরিচিত।

এটি বগুড়া-নগরবাড়ি মহাসড়কের সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা  থানার হাটিকুমরুলে অবস্থিত। সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত শত শত নারী-পুরুষ প্রতিদিন দৃষ্টিনন্দিত এ মন্দিরটি দেখতে আসে। এ মন্দিরটির সর্বাঙ্গ পোড়ামাটির কাব্যগাঁথা। এ নবরত্ন মন্দিরকে ঘিরে একটি শিব মন্দিরসহ আরও ৩টি ছোট মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়। পোড়ামাটি কারুকার্যখচিত এসব মন্দিরের দেয়াল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৭০৪-১৭২৮ খ্রিস্টাব্দে নবাব মুর্শিদ কুলি খানের শাসনামলে তার তহশিলদার রামনাথ ভাদুরী স্থাপন করেন এ নবরত্ন মন্দিরটি। এ মন্দিরটি ইট, চুন সুরকি মসল্লা দিয়ে নির্মিত। প্রায় ১৫ বর্গমিটার এলাকাজুড়ে প্রতিষ্ঠিত মন্দিরের প্রতিটি বাহুর দৈর্ঘ্য ১৫.৪ মিটার এবং প্রস্থ ১৩.২৫ মিটার। মন্দিরের নিচতলায় চারদিকে ৪টি বারান্দা বিশিষ্ট একটি গর্ভগৃহ রয়েছে। প্রতিটি বারান্দার বাইরের দিক থেকে ৭টি ও ভেতরের দিকে রয়েছে ৫টি খিলাল প্রবেশ পথ। ছাদপ্রান্তে আংশিক বাঁকানো রয়েছে। মূল অবস্থায় মন্দিরের দেয়ালের ইট ও টেরাকোটার উপরে দেব-দেবী, লতাপাতা ও ফুলের চিত্রখচিত পোড়ামাটির অপূর্ব কারুকাজ। নির্মিত নবরত্নের এ কারুকাজ দর্শণার্থীদের দৃষ্টি কেড়েছে।

মন্দির এলাকার প্রবীণরা জানান, এক সময় এ মন্দিরটি ছিল অবহেলিত। এখানকার হিন্দুরাও পূজা-অর্চনা করত না। প্রায় এক যুগ ধরে এখানে আনন্দঘন পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব পালন করা হচ্ছে।

মন্দিরের পাহারাদার মহাব্বত আলী সেখ বলেন, এ মন্দিরে প্রতিদিন অনেক লোকজন প্রবেশ করলেও সাপ্তাহিক ছুটির দিন ও বিশেষ দিনগুলোতে দ্বিগুণ লোকজন হয়। শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটকরা এখানে বেড়াতে আসেন।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ইতোমধ্যেই ওই স্থাপনাটির সৌন্দর্য্যবর্ধন ও দেওয়াল নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছে। তবে আরও একটি প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন হলে অপূর্ব কারুকার্য খচিত নবরত্ন মন্দিরটি পর্যটকরা আরও আকৃষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানানো হয়েছে।

আরো পড়ুন :  গরু চুরি ও অসামাজিক কাজে প্রতিরোধে রাত জেগে পাহারা

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

পবিত্র ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে চলমান বার্তার বার্তা বিভাগ ১৬-২৫ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এ সময় কোন সংবাদ প্রকাশ করা হবে। ২৬ মার্চ থেকে যথারীতি সংবাদ পরিবেশিত হবে। কর্তৃপক্ষ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

 কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে পাঁচশ বছরের পুরনো নবরত্ন মন্দির

আপডেট সময় ০৩:৪৪:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০২৪

জুয়েল রানা, চলনবিল (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার হাটিকুমরুলে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে শিল্পকর্মের নিদর্শন নবরত্ন মন্দির। ইতিহাস ঐতিহ্যর সাক্ষী এ মন্দিরটি স্থাপনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক নজির পরিলক্ষিত হয়। আর এ দৃষ্টিনন্দিত নবরত্ন মন্দিরটি একজন মুসলিম শাসকের অর্থায়নে হিন্দু তহশিলদার দ্বারা নির্মাণ করা হয়। এ মন্দিরটি ‘দোলমঞ্চ’ নামেও স্থানীয়ভাবে পরিচিত।

এটি বগুড়া-নগরবাড়ি মহাসড়কের সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা  থানার হাটিকুমরুলে অবস্থিত। সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত শত শত নারী-পুরুষ প্রতিদিন দৃষ্টিনন্দিত এ মন্দিরটি দেখতে আসে। এ মন্দিরটির সর্বাঙ্গ পোড়ামাটির কাব্যগাঁথা। এ নবরত্ন মন্দিরকে ঘিরে একটি শিব মন্দিরসহ আরও ৩টি ছোট মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়। পোড়ামাটি কারুকার্যখচিত এসব মন্দিরের দেয়াল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৭০৪-১৭২৮ খ্রিস্টাব্দে নবাব মুর্শিদ কুলি খানের শাসনামলে তার তহশিলদার রামনাথ ভাদুরী স্থাপন করেন এ নবরত্ন মন্দিরটি। এ মন্দিরটি ইট, চুন সুরকি মসল্লা দিয়ে নির্মিত। প্রায় ১৫ বর্গমিটার এলাকাজুড়ে প্রতিষ্ঠিত মন্দিরের প্রতিটি বাহুর দৈর্ঘ্য ১৫.৪ মিটার এবং প্রস্থ ১৩.২৫ মিটার। মন্দিরের নিচতলায় চারদিকে ৪টি বারান্দা বিশিষ্ট একটি গর্ভগৃহ রয়েছে। প্রতিটি বারান্দার বাইরের দিক থেকে ৭টি ও ভেতরের দিকে রয়েছে ৫টি খিলাল প্রবেশ পথ। ছাদপ্রান্তে আংশিক বাঁকানো রয়েছে। মূল অবস্থায় মন্দিরের দেয়ালের ইট ও টেরাকোটার উপরে দেব-দেবী, লতাপাতা ও ফুলের চিত্রখচিত পোড়ামাটির অপূর্ব কারুকাজ। নির্মিত নবরত্নের এ কারুকাজ দর্শণার্থীদের দৃষ্টি কেড়েছে।

মন্দির এলাকার প্রবীণরা জানান, এক সময় এ মন্দিরটি ছিল অবহেলিত। এখানকার হিন্দুরাও পূজা-অর্চনা করত না। প্রায় এক যুগ ধরে এখানে আনন্দঘন পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব পালন করা হচ্ছে।

মন্দিরের পাহারাদার মহাব্বত আলী সেখ বলেন, এ মন্দিরে প্রতিদিন অনেক লোকজন প্রবেশ করলেও সাপ্তাহিক ছুটির দিন ও বিশেষ দিনগুলোতে দ্বিগুণ লোকজন হয়। শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটকরা এখানে বেড়াতে আসেন।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ইতোমধ্যেই ওই স্থাপনাটির সৌন্দর্য্যবর্ধন ও দেওয়াল নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছে। তবে আরও একটি প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন হলে অপূর্ব কারুকার্য খচিত নবরত্ন মন্দিরটি পর্যটকরা আরও আকৃষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানানো হয়েছে।

আরো পড়ুন :  গরু চুরি ও অসামাজিক কাজে প্রতিরোধে রাত জেগে পাহারা