বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, গত ১৭ বছর দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নওগাঁর এটিম মাঠে এক নির্বাচনি সমাবেশে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান আরও বলেন, নওগাঁয় তিন ফসল চালু করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। বরেন্দ্র কৃষি চালু করেছিলেন। আমরা বিজয়ী হলে ১০ হাজার টাকার কৃষি ঋণ মওকুফ করবো। কৃষকদের কৃষি কার্ড পৌঁছে দেবো।
এর আগে, দুপুরে রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে এক সমাবেশে অংশ নিয়ে সড়কপথে সন্ধ্যা ৬টার দিকে নওগাঁয় পৌঁছান তারেক রহমান। তিনি মঞ্চে উঠলে হাজার হাজার নেতাকর্মী করতালি দিয়ে তাদের নেতাকে স্বাগত জানান।
তারেক রহমান বলেন, একটি দলের ষড়যন্ত্র কিন্তু এখনও শেষ হয়নি। একটা পক্ষ তো দেশ থেকে পালিয়ে গেছে। কিন্তু আরেকটা পক্ষ আছে- এই দুই পক্ষ আগে থেকেই এক সঙ্গেই ছিল। বিভিন্ন সময় তারা প্রকাশ্যে না হলেও তলে তলে একসাথেই ছিল।
তারেক রহমান বলেন, গত ১৬ বছরে আপনারা কি মাঠে-ঘাটে, কোথাও আন্দোলন-সংগ্রামে তাদের দেখেছেন? কোথাও ছিল না। ভেতরে ভেতরে কিন্তু তারা তাদের সাথেই ছিল। এখন তারা আবার বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তাই আপনাদের চোখ-কান খোলা রাখতে হবে, যাতে ষড়যন্ত্র করে আপনাদের ভোট এদিক-ওদিক না করা যায়।
তারেক রহমান বলেন, ব্যালেট বক্স পাহারা দিতে হবে। ২০০৮ সালে কী হয়েছিল, মনে আছে? ২০০৮ সালে সেই ‘ম্যাজিক’—এই আছে, এই নাই। একবার খালি বক্স দেখায়, আবার ভরা বক্স দেখায়। মনে আছে তো? কাজেই এ বিষয়ে আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, খেয়াল রাখবেন- যারা ষড়যন্ত্র করছে, তারা আবার ২০০৮ সালের মতো আরেকটি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। ওই যে তথাকথিত ডামি নির্বাচন, নিশিরাতের নির্বাচন- সেগুলো আমরা তখন দেখেছি। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও লাইন এগোয় না- দেখেছেন না? ভেতরে ভেতরে সিল মারা হচ্ছিল। এসব বিষয়ে আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে।
ধানের শীষের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চেয়ে তারেক রহমান বলেন, গত ১৬ বছরে আপনাদের এলাকার কোনো উন্নয়ন হয়নি। গত ১৬ বছরে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। গত ১৬ বছরে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি। হ্যাঁ, ঢাকা শহরসহ কয়েকটি শহরে কিছু বড় বড় ফ্লাইওভার হয়েছে, কিছু বড় বড় দালান হয়েছে, কিছু মেগা প্রকল্প হয়েছে। কিন্তু মেগা প্রকল্প মানেই হয়েছে মেগাদুর্নীতি।
তারেক রহমান বলেন, আমরা চাই গ্রামের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে, আমরা চাই জেলা শহরের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে, আমরা চাই উপজেলার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে। আমরা চাই আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ার নিশ্চয়তা দিতে। আমরা চাই আমাদের মা-বোনদের স্বাবলম্বী করতে। আমরা চাই বেকার যুবক-তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে। আমরা চাই দেশের মানুষের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে- যেখানে মানুষ নিরাপদে হাঁটাচলা করবে, নিরাপদে ব্যবসা-বাণিজ্য করবে এবং রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 























