মোঃ আলী আলম সিরাজগঞ্জ তথা উত্তরবঙ্গের রাজনীতি, শিক্ষা ও সমাজসেবার পরিমণ্ডলে এক সুপরিচিত ও শ্রদ্ধেয় নাম। দীর্ঘ সময়ের শিক্ষকতা, সমাজগঠন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার জীবন যেন তিনটি অধ্যায়ে বিভক্ত—শিক্ষক, সমাজসংস্কারক এবং জনসেবক। এই তিন অধ্যায়ের সমন্বয়েই গড়ে উঠেছে তার পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা।
শিক্ষাজীবনে কৃতিত্বের সঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি শিক্ষকতা পেশায় আত্মনিয়োগ করেন। শিক্ষকতা শুধু তার পেশাই ছিল না, বরং এটি ছিল মানুষ গড়ার একটি দায়িত্বশীল মাধ্যম। কর্মজীবন শেষে তিনি অবসরে গেলেও শিক্ষা বিস্তার ও মানব উন্নয়নের সঙ্গে তার সম্পর্ক কখনো ছিন্ন হয়নি। আজও শিক্ষা ও নৈতিকতার প্রশ্নে তার ভূমিকা এলাকাবাসীর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা মোঃ আলী আলম রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সবসময় সমাজ ও মানুষের কল্যাণের সঙ্গে যুক্ত রেখেছেন। শিক্ষা, সমাজসেবা ও ধর্মীয় খাতে তার নিরলস কাজ তার সমাজসংস্কারক পরিচয়কে আরও দৃঢ় করেছে। তার উদ্যোগ ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় সিরাজগঞ্জ অঞ্চলে গড়ে উঠেছে বহু স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা, মক্তব, এতিমখানা ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোর সঙ্গেই তিনি নিয়মিতভাবে যুক্ত থেকে তত্ত্বাবধান ও সহায়তা করে আসছেন।
জীবনের পথচলায় তাকে নানাবিধ প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে হয়েছে। ষড়যন্ত্র, মিথ্যা মামলা ও নির্যাতনের মতো কঠিন বাস্তবতার মুখেও তিনি দৃঢ় অবস্থানে থেকে নিজের আদর্শ ও কর্মধারা বজায় রেখেছেন। এই সংগ্রামী অভিজ্ঞতা তাকে আরও সংযত, ধৈর্যশীল ও দায়িত্বশীল করে তুলেছে—যা তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে প্রতিফলিত।
রাজনৈতিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে তিনি ১৯৯৩ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র সিরাজগঞ্জ জেলা আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে ১৯৯২ সাল থেকে অদ্যাবধি তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায়ও তার সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি বেলকুচি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যেখানে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও জনসংযোগে তার দক্ষতা স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়। উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালীন তাঁর সততা ও ন্যায়পরায়নতার কথা সর্বজন মহলে স্বীকৃত ও সমাদৃত হয়৷
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোঃ আলী আলম ৬৬, সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোট সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এই নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের জন্য মোঃ আলী আলম যে অঙ্গীকারগুলো সামনে রেখেছেন, তা এলাকার বাস্তব সমস্যা ও সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করেই প্রণীত হয়েছে বলে মনে করেন বিশিষ্টজনরা।
শিল্প ও শ্রম খাতে তিনি ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্পের উন্নয়ন, নতুন শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠা, ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং শ্রমিক, অসহায় নারী-পুরুষ ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
চরাঞ্চলের উন্নয়নে তার অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে চর এলাকায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন, সহজ ও নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন, নদীভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং ভাঙনকবলিত পরিবারের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ।
সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি মাদক, জুয়া, ইভটিজিং, চাঁদাবাজি, চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠনের ওপর জোর দিয়েছেন, যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদ ও স্বস্তির সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারে।
অবকাঠামো ও কৃষি খাতে তার অগ্রাধিকার রয়েছে রাস্তা-ঘাট নির্মাণ, ব্রিজ ও কালভার্ট স্থাপন, সামগ্রিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন, জলবদ্ধতা নিরসন, যানজটের অবসান এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা।
কর্মসংস্থান ও স্বাস্থ্য খাতে তিনি ছাত্র-ছাত্রী ও তরুণ-তরুণীদের জন্য দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ও ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার পাশাপাশি সকল শ্রেণির মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
শিক্ষা ও বিনোদনের ক্ষেত্রে নারী ও শিশুদের জন্য শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পর্যটন শিল্প বিকাশে দৃষ্টিনন্দন পার্ক নির্মাণ, পর্যাপ্ত খেলার মাঠ স্থাপন এবং সরকারি সেবাসমূহ সহজলভ্য করার বিষয়গুলো তার অঙ্গীকারের অংশ।
ব্যক্তিগত গুণাবলির দিক থেকেও মোঃ আলী আলম এলাকাবাসীর কাছে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। তিনি একজন দক্ষ ও আবেগী বক্তা হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে এলাকাবাসী কেউ মারা গেলে, মৃতের জানাজায় আলী আলমের উপস্থিতি যেন এক ভিন্ন মাত্রা ও প্রশান্তি নিয়ে আসে। মৃতের স্বজনদের কাছে পরম মমতায় কাছে টেনে নেয়া ও জানাজা ও দোয়া পরিচালনায় তার ভূমিকা মানুষের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলে। তার কান্নাজড়িত দোয়া ও তেলাওয়াত অনেকের কাছে আত্মিক প্রশান্তির উৎস। এলাকাবাসীর অনেকের মধ্যে এমন বিশ্বাসও রয়েছে—তিনি জানাজা না পড়ালে যেন অপূর্ণতা থেকে যায়। অনেক মানুষ জীবদ্দশাতেই ইচ্ছা প্রকাশ করেন, মৃত্যুর পর যেন তিনিই তাদের জানাজা পড়ান।
শিক্ষকতা দিয়ে শুরু, সমাজসংস্কারের মধ্য দিয়ে বিকাশ এবং জনসেবায় পরিণতি—এই তিন অধ্যায়ের সমন্বয়েই মোঃ আলী আলমের জীবনপথ। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, সামাজিক সম্পৃক্ততা ও মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক তাকে সিরাজগঞ্জের জনজীবনে একটি আলাদা অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
লেখকঃ ইংরেজি ভাষার প্রশিক্ষক ও সাংবাদিক।
জুবায়ের হোসাইন 


























