ঢাকা ০৯:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি সংকটে সচল মোংলা বন্দর; ৯ মাসে এক কোটি ৫ লক্ষ মেট্রিক টন পণ্য খালাস

বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক নানা প্রতিকূলতার মাঝেও আগের গতিতেই এগিয়ে চলছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, পলি অপসারণ এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার ফলে এই বন্দরে বিদেশি জাহাজের আগমন ও পণ্য খালাসের হার বর্তমানে সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। আসানুরুপ পন্য আমদানি-রফতানী হয়েছে মোংলা বন্দর দিয়ে।

বন্দরের হারবার বিভাগ জানায়, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক বন্দরে যখন মন্দাভাব দেখা দিয়েছে, তখন মোংলা বন্দর তার কৌশলগত অবস্থান ও আধুনিক অবকাঠামো ব্যবহার করে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রেখেছে। বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, ডলার সংকট বা জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, ক্লিংকার, সার, কয়লা, পাথর, গম, চাল ও হেমায়িত পন্য ছাড়াও রফতানিযোগ্য তৈরি পোশাক হ্যান্ডলিংয়ে মোংলা বন্দর আগের চেয়ে বেশি সক্রিয়। চলতি অর্থ বছরের ৯ মাসে ৬৭৯ টি জাহাজ এবং এক কোটি ৫ লক্ষ মেট্রিক টন পন্য খালাস করা হয়েছে।

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে মোংলা বন্দরের দূরত্ব কমে আসায় ব্যবসায়ীরা এখন এই বন্দর ব্যবহারে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। বিশেষ করে গার্মেন্টস পণ্য রফতানিতে মোংলা বন্দর এখন বড় ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া ভারত, নেপাল ও ভুটানের ট্রানজিট সুবিধাও এই বন্দরের গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, আউটার বার শেষ হওয়ার পর ইনার বার ড্রেজিংয়ের ফলে এখন বড় ড্রাফটের জাহাজগুলো সরাসরি জেটিতে ভিড়তে পারছে। বন্দরে কন্টেইনার ইয়ার্ড সম্প্রসারণ ও আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন করার ফলে পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের সময় কমে এসেছে। জ্বালানি সংকটের এই সময়েও নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপ পরিচালক মো: মাকরুজ্জামান জানান, বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যেও মোংলা বন্দর তার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। জ্বালানি সংকটকে আমরা সুযোগ হিসেবে নিয়েছি এবং বিকল্প উপায়ে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম সচল রেখেছি। আমাদের লক্ষ্য এই বন্দরকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক হাবে রূপান্তর করা।

মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ী নেতারা জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমাতে মোংলা বন্দর এখন আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমদানিকৃত গাড়ি খালাস ও দ্রুত ডেলিভারির ক্ষেত্রে মোংলা বন্দর এখন সারা দেশের মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছে।

জ্বালানি সংকটের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে মোংলা বন্দরের এই সচল থাকা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এক বড় স্বস্তির খবর এখন মোংলা সমুদ্র বন্দরের আমদানী-রফতানি পন্যে বন্দর সচল আর মানুষের কর্মচঞ্চল।

ট্যাগস

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কাছে পাকিস্তানের যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

জ্বালানি সংকটে সচল মোংলা বন্দর; ৯ মাসে এক কোটি ৫ লক্ষ মেট্রিক টন পণ্য খালাস

আপডেট সময় ০৮:৪৮:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক নানা প্রতিকূলতার মাঝেও আগের গতিতেই এগিয়ে চলছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, পলি অপসারণ এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার ফলে এই বন্দরে বিদেশি জাহাজের আগমন ও পণ্য খালাসের হার বর্তমানে সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। আসানুরুপ পন্য আমদানি-রফতানী হয়েছে মোংলা বন্দর দিয়ে।

বন্দরের হারবার বিভাগ জানায়, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক বন্দরে যখন মন্দাভাব দেখা দিয়েছে, তখন মোংলা বন্দর তার কৌশলগত অবস্থান ও আধুনিক অবকাঠামো ব্যবহার করে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রেখেছে। বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, ডলার সংকট বা জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, ক্লিংকার, সার, কয়লা, পাথর, গম, চাল ও হেমায়িত পন্য ছাড়াও রফতানিযোগ্য তৈরি পোশাক হ্যান্ডলিংয়ে মোংলা বন্দর আগের চেয়ে বেশি সক্রিয়। চলতি অর্থ বছরের ৯ মাসে ৬৭৯ টি জাহাজ এবং এক কোটি ৫ লক্ষ মেট্রিক টন পন্য খালাস করা হয়েছে।

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে মোংলা বন্দরের দূরত্ব কমে আসায় ব্যবসায়ীরা এখন এই বন্দর ব্যবহারে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। বিশেষ করে গার্মেন্টস পণ্য রফতানিতে মোংলা বন্দর এখন বড় ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া ভারত, নেপাল ও ভুটানের ট্রানজিট সুবিধাও এই বন্দরের গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, আউটার বার শেষ হওয়ার পর ইনার বার ড্রেজিংয়ের ফলে এখন বড় ড্রাফটের জাহাজগুলো সরাসরি জেটিতে ভিড়তে পারছে। বন্দরে কন্টেইনার ইয়ার্ড সম্প্রসারণ ও আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন করার ফলে পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের সময় কমে এসেছে। জ্বালানি সংকটের এই সময়েও নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপ পরিচালক মো: মাকরুজ্জামান জানান, বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যেও মোংলা বন্দর তার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। জ্বালানি সংকটকে আমরা সুযোগ হিসেবে নিয়েছি এবং বিকল্প উপায়ে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম সচল রেখেছি। আমাদের লক্ষ্য এই বন্দরকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক হাবে রূপান্তর করা।

মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ী নেতারা জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমাতে মোংলা বন্দর এখন আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমদানিকৃত গাড়ি খালাস ও দ্রুত ডেলিভারির ক্ষেত্রে মোংলা বন্দর এখন সারা দেশের মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছে।

জ্বালানি সংকটের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে মোংলা বন্দরের এই সচল থাকা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এক বড় স্বস্তির খবর এখন মোংলা সমুদ্র বন্দরের আমদানী-রফতানি পন্যে বন্দর সচল আর মানুষের কর্মচঞ্চল।