আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ: সংসদে বিল পাস
আজ বুধবার দুপুর সোয়া ১২টায় জাতীয় সংসদে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল-২০২৬’ কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে। এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ওপর জারি করা পূর্ববর্তী নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি এখন পূর্ণাঙ্গ আইনি ভিত্তি পেল।
প্রধান ঘটনাবলি:
-
সংসদ অধিবেশন: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিলটি উত্থাপিত হয়।
-
উত্থাপন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে পেশ করেন এবং এটি সর্বসম্মতভাবে পাস হয়।
-
আইনি ভিত্তি: এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল। আজকের বিল পাসের মাধ্যমে সেই অধ্যাদেশটি এখন স্থায়ী আইনে পরিণত হলো।
বিলের গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ:
১. বিচারের সময়সীমা: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ ও এর নেতাদের বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দলটির যাবতীয় রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে।
২. প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞা: নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় দলটি কোনো প্রেস বিজ্ঞপ্তি, মুদ্রণ প্রকাশনা, অনলাইন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো প্রচারণা চালাতে পারবে না।
৩. প্রকাশ্য কর্মকাণ্ড: কোনো ধরনের মিছিল, সভা-সমাবেশ, সংবাদ সম্মেলন বা জনসমক্ষে বক্তৃতা প্রদান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
৪. সরকারের ক্ষমতা: বিলে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা সত্তা সন্ত্রাসী কাজে জড়িত থাকলে সরকার প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাদের নিষিদ্ধ ঘোষণা ও তফসিলে তালিকাভুক্ত করতে পারবে।
প্রেক্ষাপট:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে জানান, দেশে আগে থেকেই সন্ত্রাসবিরোধী আইন থাকলেও সাম্প্রতিক গণহত্যা ও জনমতের কথা বিবেচনা করে এই বিশেষ সংশোধনী আনা হয়েছে। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে যে ১৫টি সংশোধিত আকারে অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছিল, এটি তার মধ্যে অন্যতম। তবে আজ কোনো পরিবর্তন ছাড়াই বিলটি হুবহু পাস করা হয়।
এই পদক্ষেপের ফলে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি বড় ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের সূচনা হলো।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















