পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র মধ্যে আলোচনার বিস্তারিত খুব বেশি প্রকাশ করা হয়নি। দুই পক্ষই ইচ্ছাকৃতভাবে আলোচনা-সংক্রান্ত তথ্য বাইরে আনছে না। তবে বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, আলোচনায় ইরানের কিছু ‘রেড লাইন’ বা অগ্রহণযোগ্য অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
আগের দফার আলোচনায় মূল ফোকাস ছিল পারমাণবিক ইস্যু এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ নিয়ে। সেই বিষয়গুলোই তখন প্রধান বিতর্ক ছিল। কিন্তু এবার আলোচনা আরও বিস্তৃত হয়েছে এবং এর সঙ্গে নতুন নতুন বিতর্কিত বিষয় যুক্ত হয়েছে। খবর আল জাজিরার।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নতুন ইস্যুগুলোর একটি হলো হরমুজ প্রণালি। ইরানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই প্রণালিতে নতুন নিয়ম চালু করা হচ্ছে- যেখানে তারা বলছে, তাদের প্রতিপক্ষদের জন্য এটি সীমিত বা বন্ধ রাখা হতে পারে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়ছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে এসেছে।
আরেকটি বড় বিতর্কের বিষয় হলো ইরানের দাবি- মধ্যপ্রাচ্যের সব যুদ্ধক্ষেত্রজুড়ে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল এই অবস্থানের সঙ্গে একমত নয়।
এছাড়া ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘স্পষ্ট ও নিশ্চিত অঙ্গীকার’ চাইছে, যা ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে দেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্রের পথে যাবে না এবং এমন কোনো প্রযুক্তিও অর্জন করবে না, যা দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে সহায়তা করতে পারে। আমাদের এ বিষয়ে একটি স্পষ্ট অঙ্গীকার প্রয়োজন। এটাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের প্রধান লক্ষ্য এবং আমরা আলোচনার মাধ্যমে সেটিই অর্জনের চেষ্টা করছি।
ইরানের অন্যতম দাবিগুলোর একটি মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার। সেটি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। ইরান চাইছে মধ্যপ্রাচ্য যুক্তরাষ্ট্রের সেনামুক্ত হােক।
ইরানি পক্ষের ১০ দফা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা প্রস্তাব তুলনা করলে দেখা যায়, বিরোধ শুধু এই বিষয়গুলোতেই সীমিত নয়। এর পাশাপাশি আরও কিছু বড় ইস্যু রয়েছে। যেমন নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ ফেরত দেওয়া।
যদিও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এক বৈঠকেই কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হবে- এমন আশা কারোরই ছিল না।
বাঘাই জানান, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কিছু বিষয়ে পারস্পরিক বোঝাপড়ায় পৌঁছালেও এখনও ২-৩টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
ইসমাইল বাঘাই বলেন, এই আলোচনা ৪০ দিনের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের পর অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এটি অবিশ্বাস ও সন্দেহের পরিবেশে হয়েছে। তাই শুরু থেকেই এক বৈঠকে চূড়ান্ত চুক্তি হবে- এমনটা আশা করা স্বাভাবিক ছিল না।
বাঘাই আরও জানান, ইরান, পাকিস্তান এবং অঞ্চলের অন্য বন্ধু দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও পরামর্শ অব্যাহত থাকবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার মাধ্যমে যে যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল, তা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত থাকা অবস্থায় এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাকিস্তান এই আলোচনার আয়োজন করে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে আঘাত হানা এই সংঘাত গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির পর সাময়িকভাবে বন্ধ হয়।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 



















