হরমুজ প্রণালি ও ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ-অবরোধকে ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছে চীন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বিশ্বকে ‘জঙ্গলের আইন’ বা পেশিশক্তির শাসনে ফিরিয়ে না নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেন। খবর এনবিসি নিউজের।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষিতে বেইজিংয়ের এই প্রকাশ্য মন্তব্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কঠোর বলে মনে করা হচ্ছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের কর্মকাণ্ড কেবল বিরোধকে উসকে দেবে, উত্তেজনা বৃদ্ধি করবে এবং বর্তমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এটি নৌ-চলাচলের নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে চীন এই নৌ-অবরোধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে। উল্লেখ্য, চীনের প্রয়োজনীয় জ্বালানির অর্ধেকেরও বেশি আসে এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে, যা বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। অবরোধের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বেইজিংয়ের ওপর ইরানি প্রভাব খাটানোর জন্য আন্তর্জাতিক চাপও বাড়ছে।
চীন শুরু থেকেই ইরান ও ইসরায়েলের পালটাপালটি হামলা এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের প্রতিশোধমূলক আক্রমণের সমালোচনা করে আসছে। বেইজিং বারবার সংকট নিরসনে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়ে আসছে। এমনকি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এর আগে স্বীকার করেছিলেন, তেহরানকে যুদ্ধবিরতির টেবিলে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে চীনের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীনের এই প্রকাশ্য বিরোধিতার পর ওয়াশিংটনের ওপর অবরোধ তুলে নেওয়ার চাপ আরও বাড়বে। বেইজিংয়ের জ্বালানি নিরাপত্তায় আঘাত আসায় এই সংঘাত এখন কেবল দ্বিপাক্ষিক লড়াই নয়, বরং বৈশ্বিক এক অস্থিরতার দিকে মোড় নিতে পারে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 























