শিরোনাম :
আগামী গ্রীষ্মের আগেই সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য: বিদ্যুৎমন্ত্রী ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ উচিত জবাব দেবে : প্রধানমন্ত্রী এআই যেন বেকারত্ব আরও জটিল না করে, সতর্ক করলেন রাষ্ট্রপতি মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেস হারিয়ে ইরান যুদ্ধের দায় আংশিক মানলেন ট্রাম্প মোংলায় নতুন শিল্পকারখানা গড়ার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর ‘ফিউচার মেকার্স’ জিতে নিল ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কিশোর নাভহান মারধরের মামলায় পরোয়ানার পর আদালতে আত্মসমর্পণ, পরীমনির জামিন মঞ্জুর শিল্পমালিক ও সাবেক মন্ত্রীরা পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে অর্থায়ন শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তায় ঢাকা ও আশপাশে মোতায়েন ৩৩ প্লাটুন বিজিবি মাল্টা পাইকারিতে ১৮৫, খুচরায় ৩৯০ টাকা: দামে এত ফারাক কেন

নবম পে স্কেল নিয়ে অনিশ্চয়তা, বাড়ছে উৎকণ্ঠা


দীর্ঘ এগারো বছর ধরে অপেক্ষায় থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে জল্পনা আবার নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। গত ১ জুলাই থেকে নবম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও, এখনো পর্যন্ত সরকারের তরফে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। ফলে দেশের প্রায় সাড়ে চৌদ্দ লাখ সরকারি চাকরিজীবীর মধ্যে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা ও হতাশা।
বিষয়টি আরও জটিল করে তুলেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাম্প্রতিক অবস্থান। অর্থ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে সংস্থাটি দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অর্থনীতি বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন, বর্তমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের নিরিখে নতুন পে স্কেল এখন সময়ের অনিবার্য দাবি। কিন্তু এর বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান দেওয়াই সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রত্যাশিত মাত্রায় রাজস্ব আদায় না হওয়া এবং বাজেট ঘাটতির চাপ একসঙ্গে বিবেচনায় নিলে বড় আকারে বেতন বৃদ্ধি সরকারি ব্যয়কে আরও ভারী করে তুলতে পারে, পাশাপাশি বাজারে বাড়তি অর্থপ্রবাহ মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আইএমএফ।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বেতন-ভাতা বাবদ প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা এবং পেনশন-গ্র্যাচুইটিসহ মোট প্রায় সোয়া লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে, যা ব্যয় হবে সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং পেনশনভোগীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধিতে।
তবে অর্থনীতিবিদদের শঙ্কা, রাজস্ব আদায়ের গতি ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মেলাতে না পারলে বাজেট ঘাটতি আরও বাড়তে পারে, যা দেশি-বিদেশি ঋণনির্ভরতা বাড়িয়ে দিতে পারে এবং ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকটের ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। এ কারণে একবারে পুরো পে স্কেল কার্যকর না করে ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়নের চিন্তাভাবনা করছে সরকার। প্রাথমিকভাবে মূল বেতন বৃদ্ধির পরিকল্পনা থাকলেও, পরবর্তী ধাপে বিভিন্ন ভাতা ও আনুষঙ্গিক সুবিধা যুক্ত হতে পারে।
সব মিলিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দৃষ্টি এখন সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের দিকে নিবদ্ধ।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

কুড়িগ্রামে জেলা শিল্পী কল্যাণ সোসাইটির যাত্রা শুরু

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

মাল্টা পাইকারিতে ১৮৫, খুচরায় ৩৯০ টাকা: দামে এত ফারাক কেন

০৫ নভেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

নবম পে স্কেল নিয়ে অনিশ্চয়তা, বাড়ছে উৎকণ্ঠা

আপডেট সময় ০৫:১২:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

দীর্ঘ এগারো বছর ধরে অপেক্ষায় থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে জল্পনা আবার নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। গত ১ জুলাই থেকে নবম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও, এখনো পর্যন্ত সরকারের তরফে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। ফলে দেশের প্রায় সাড়ে চৌদ্দ লাখ সরকারি চাকরিজীবীর মধ্যে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা ও হতাশা।
বিষয়টি আরও জটিল করে তুলেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাম্প্রতিক অবস্থান। অর্থ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে সংস্থাটি দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অর্থনীতি বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন, বর্তমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের নিরিখে নতুন পে স্কেল এখন সময়ের অনিবার্য দাবি। কিন্তু এর বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান দেওয়াই সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রত্যাশিত মাত্রায় রাজস্ব আদায় না হওয়া এবং বাজেট ঘাটতির চাপ একসঙ্গে বিবেচনায় নিলে বড় আকারে বেতন বৃদ্ধি সরকারি ব্যয়কে আরও ভারী করে তুলতে পারে, পাশাপাশি বাজারে বাড়তি অর্থপ্রবাহ মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আইএমএফ।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বেতন-ভাতা বাবদ প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা এবং পেনশন-গ্র্যাচুইটিসহ মোট প্রায় সোয়া লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে, যা ব্যয় হবে সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং পেনশনভোগীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধিতে।
তবে অর্থনীতিবিদদের শঙ্কা, রাজস্ব আদায়ের গতি ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মেলাতে না পারলে বাজেট ঘাটতি আরও বাড়তে পারে, যা দেশি-বিদেশি ঋণনির্ভরতা বাড়িয়ে দিতে পারে এবং ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকটের ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। এ কারণে একবারে পুরো পে স্কেল কার্যকর না করে ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়নের চিন্তাভাবনা করছে সরকার। প্রাথমিকভাবে মূল বেতন বৃদ্ধির পরিকল্পনা থাকলেও, পরবর্তী ধাপে বিভিন্ন ভাতা ও আনুষঙ্গিক সুবিধা যুক্ত হতে পারে।
সব মিলিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দৃষ্টি এখন সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের দিকে নিবদ্ধ।

Share this news as a Photo Card