শিরোনাম :

হামে গত ২৪ ঘন্টায় ১১ মৃত্যু—ছয় মাসে আক্রান্ত প্রায় দুই লাখ

দেশজুড়ে হামের প্রকোপ ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। গত চব্বিশ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে মারা গেছেন ১১ জন, যা চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বুলেটিন অনুযায়ী, গত চব্বিশ ঘণ্টায় দেশজুড়ে নতুন করে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত মিলিয়ে হামে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তবে প্রতিবেদনের বিভিন্ন অংশে এই সংখ্যা নিয়ে গরমিল দেখা গেছে—একস্থানে বলা হয়েছে এক হাজার ২৭০ জন, আরেক স্থানে বলা হয়েছে এক হাজার ১৫৭ জন। প্রকৃত সংখ্যাটি নিশ্চিতভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে এখানে উভয় তথ্যই উল্লেখ করা হলো।

গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত দীর্ঘ ছয় মাসের বেশি সময়ে সারা দেশে মোট হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৮৩ হাজার ৪৪৯ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া রোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ৮৫১ জন, যাদের মধ্যে গত চব্বিশ ঘণ্টাতেই নতুন করে নিশ্চিত হয়েছেন ১১৩ জন।

একই সময়সীমায়—অর্থাৎ ১৫ মার্চ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত—হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ৬২ হাজার ৪৮ জন রোগী। স্বস্তির খবর হলো, তাদের একটি বড় অংশ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পেরেছেন। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক লাখ ৫৫ হাজার ৬১২ জন, যা মোট ভর্তি রোগীর তুলনায় উল্লেখযোগ্য একটি অনুপাত।

তবে মৃত্যুর পরিসংখ্যান নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট ৯৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে বুলেটিনে উল্লেখ রয়েছে, যদিও একই প্রতিবেদনের অন্য অংশে এই সময়সীমার মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ৭৬ জন বলে জানানো হয়েছে, যার মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু ১০১ জন এবং সন্দেহভাজন উপসর্গে মৃত্যু ৯৭৫ জন। দুই তথ্যের মধ্যে সামঞ্জস্যহীনতা থাকায় প্রকৃত মোট মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে সংশয় থেকে যাচ্ছে, এবং বিষয়টি স্পষ্ট করতে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন।

নিশ্চিত হামের হিসাবে অবশ্য কিছুটা স্বস্তির চিত্র মিলেছে। গত চব্বিশ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যুর তথ্য নেই। তবে দীর্ঘমেয়াদি হিসাবে, অর্থাৎ গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত, পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১০১ জন। এর অর্থ দাঁড়ায়, মৃত্যুর সিংহভাগ ঘটছে উপসর্গভিত্তিক সন্দেহজনক ক্ষেত্রে, যেখানে পরীক্ষাগার নিশ্চিতকরণ এখনও হয়নি বা সম্ভব হয়নি।

ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই প্রাদুর্ভাব দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংক্রমণের এই ধারাবাহিকতা এবং প্রতিদিন গড়ে নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার প্রবণতা থেকে স্পষ্ট, রোগ নিয়ন্ত্রণে বাড়তি নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের হার বেশি হওয়ায় টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা বারবার সামনে আসছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে প্রতিদিনই এই ধরনের পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়, যা রোগের সার্বিক গতিপ্রকৃতি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে একই প্রতিবেদনের মধ্যে সংখ্যাগত অসামঞ্জস্য থাকায় জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরির আশঙ্কাও থেকে যায়। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট ও সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য প্রকাশের দাবি জোরালো হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, চলতি সেপ্টেম্বরে একদিনে সর্বোচ্চ ১১ জনের মৃত্যু এই বার্তাই দিচ্ছে যে হামের প্রাদুর্ভাব এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছে দীর্ঘ তালিকায়, আর তা দেশের স্বাস্থ্য খাতের সামনে নতুন করে সতর্কতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

পাঁচ ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদন

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

সৌরভের বায়োপিক ‘দাদা’র শুটিংয়ে বিতর্ক

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

হামে গত ২৪ ঘন্টায় ১১ মৃত্যু—ছয় মাসে আক্রান্ত প্রায় দুই লাখ

আপডেট সময় ০৫:১৩:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশজুড়ে হামের প্রকোপ ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। গত চব্বিশ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে মারা গেছেন ১১ জন, যা চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বুলেটিন অনুযায়ী, গত চব্বিশ ঘণ্টায় দেশজুড়ে নতুন করে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত মিলিয়ে হামে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তবে প্রতিবেদনের বিভিন্ন অংশে এই সংখ্যা নিয়ে গরমিল দেখা গেছে—একস্থানে বলা হয়েছে এক হাজার ২৭০ জন, আরেক স্থানে বলা হয়েছে এক হাজার ১৫৭ জন। প্রকৃত সংখ্যাটি নিশ্চিতভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে এখানে উভয় তথ্যই উল্লেখ করা হলো।

গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত দীর্ঘ ছয় মাসের বেশি সময়ে সারা দেশে মোট হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৮৩ হাজার ৪৪৯ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া রোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ৮৫১ জন, যাদের মধ্যে গত চব্বিশ ঘণ্টাতেই নতুন করে নিশ্চিত হয়েছেন ১১৩ জন।

একই সময়সীমায়—অর্থাৎ ১৫ মার্চ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত—হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ৬২ হাজার ৪৮ জন রোগী। স্বস্তির খবর হলো, তাদের একটি বড় অংশ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পেরেছেন। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক লাখ ৫৫ হাজার ৬১২ জন, যা মোট ভর্তি রোগীর তুলনায় উল্লেখযোগ্য একটি অনুপাত।

তবে মৃত্যুর পরিসংখ্যান নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট ৯৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে বুলেটিনে উল্লেখ রয়েছে, যদিও একই প্রতিবেদনের অন্য অংশে এই সময়সীমার মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ৭৬ জন বলে জানানো হয়েছে, যার মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু ১০১ জন এবং সন্দেহভাজন উপসর্গে মৃত্যু ৯৭৫ জন। দুই তথ্যের মধ্যে সামঞ্জস্যহীনতা থাকায় প্রকৃত মোট মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে সংশয় থেকে যাচ্ছে, এবং বিষয়টি স্পষ্ট করতে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন।

নিশ্চিত হামের হিসাবে অবশ্য কিছুটা স্বস্তির চিত্র মিলেছে। গত চব্বিশ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যুর তথ্য নেই। তবে দীর্ঘমেয়াদি হিসাবে, অর্থাৎ গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত, পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১০১ জন। এর অর্থ দাঁড়ায়, মৃত্যুর সিংহভাগ ঘটছে উপসর্গভিত্তিক সন্দেহজনক ক্ষেত্রে, যেখানে পরীক্ষাগার নিশ্চিতকরণ এখনও হয়নি বা সম্ভব হয়নি।

ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই প্রাদুর্ভাব দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংক্রমণের এই ধারাবাহিকতা এবং প্রতিদিন গড়ে নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার প্রবণতা থেকে স্পষ্ট, রোগ নিয়ন্ত্রণে বাড়তি নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের হার বেশি হওয়ায় টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা বারবার সামনে আসছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে প্রতিদিনই এই ধরনের পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়, যা রোগের সার্বিক গতিপ্রকৃতি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে একই প্রতিবেদনের মধ্যে সংখ্যাগত অসামঞ্জস্য থাকায় জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরির আশঙ্কাও থেকে যায়। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট ও সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য প্রকাশের দাবি জোরালো হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, চলতি সেপ্টেম্বরে একদিনে সর্বোচ্চ ১১ জনের মৃত্যু এই বার্তাই দিচ্ছে যে হামের প্রাদুর্ভাব এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছে দীর্ঘ তালিকায়, আর তা দেশের স্বাস্থ্য খাতের সামনে নতুন করে সতর্কতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Share this news as a Photo Card