শিরোনাম :
বন্যায় প্লাবিত গাজার ৭০ হাজার তাঁবু, ঝুঁকিতে ৪ লাখ মানুষ সড়কে একসঙ্গে প্রাণ হারাচ্ছে পরিবার, ছয় বছরে প্রায় ৩০০ পরিবার নিশ্চিহ্ন সিলেট টেস্টে হজের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে কঠিন হলো বাংলাদেশের জয়ের পথ সমবায় আন্দোলনকে দুর্নীতিমুক্ত ও পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির সমবায়ের আদর্শে মানুষকে স্বনির্ভর করতে হবে: বিদ্যুৎমন্ত্রী মাদ্রাসায় মুজিববাদ-মওদুদীবাদ চলবে না: সরোয়ার আলমগীর ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশুরাও এনআইডি সেবার আওতায় আসবে: ইসি টং দোকান থেকে ক্যাসিনো সম্রাট রুবেল শত কোটি টাকার মালিক! ঘুম ভেঙেই মোবাইল নয়, ভোরের আলোয় খুঁজুন জীবনের সৌন্দর্য পরীমণিকে লিগ্যাল নোটিশ, অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা

বন্যায় প্লাবিত গাজার ৭০ হাজার তাঁবু, ঝুঁকিতে ৪ লাখ মানুষ

টানা ভারি বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসে গাজা উপত্যকার হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষের তাঁবু ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রোববার (৮ নভেম্বর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আকস্মিক বন্যার ফলে অসংখ্য মানুষ চরম মানবিক সংকটে পড়েছেন।

উত্তর গাজা থেকে আলজাজিরার সাংবাদিক ইব্রাহিম আল-খলিল জানান, বাধ্য হয়ে যেসব তাঁবুতে ফিলিস্তিনিরা থাকছেন, সেগুলো প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে পর্যাপ্ত সুরক্ষা দিতে পারছে না। কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় অনেক পরিবারের বহু কষ্টে গড়া আশ্রয়ের কাপড় ও কাঠামো উড়ে গেছে। তিনি ভেজা তোশক, বালিশ ও কাপড় পড়ে থাকতে দেখেছেন। প্রায় ৪ লাখ বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি এমন জায়গায় থাকছেন, যেখানে নতুন করে প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।

গাজার সরকারি গণমাধ্যম অফিস জানিয়েছে, গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) থেকে শুরু হওয়া তীব্র বৃষ্টি ও ঝড়ে ৭০ হাজার তাঁবু প্লাবিত হয়েছে। বহু তাঁবু ধসেও পড়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ক্ষয়ক্ষতির আনুমানিক পরিমাণ ৩০ লাখ ডলার। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ত্রাণ সরবরাহে কঠোর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় যুদ্ধবিধ্বস্ত উপত্যকার পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ থেকে আলজাজিরার সাংবাদিক আশরাফ আবু আমরা জানান, আশ্রয়কেন্দ্র প্লাবিত হওয়া পরিবারগুলো গত শনিবার সকাল থেকে কোনো খাদ্য সহায়তা পায়নি। ফিলিস্তিনে ইউনিসেফের বিশেষ প্রতিনিধি জোনাথন ভেইচ বলেছেন, এখানকার অধিকাংশ মানুষ ‘ভয়াবহ পরিস্থিতিতে’ দিন কাটাচ্ছেন। জরুরি ত্রাণ সরবরাহে তিনি আরও তহবিলের আহ্বান জানিয়েছেন।

গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, তারা অন্তত দেড় হাজার জরুরি সাহায্যের আবেদন পেয়েছে। সংস্থাটির মতে, ২ হাজারের বেশি ভবন এখন ধসে পড়ার ঝুঁকিতে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের আশ্রয় নিশ্চিত করতে জরুরিভাবে অন্তত ৩ লাখ নতুন তাঁবু প্রয়োজন। অন্যদিকে ত্রাণ ও সহায়তা সামগ্রী ঢুকতে দেওয়ার প্রশ্নে সংস্থাগুলোকে দীর্ঘদিন ধরেই লড়াই করতে হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ৬১০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর আগে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া সর্বাত্মক হামলায় গাজার ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। সহায়তা সামগ্রী, আশ্রয় তৈরির উপকরণ ও পুনর্গঠন সামগ্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সূত্র: আলজাজিরা

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

বন্যায় প্লাবিত গাজার ৭০ হাজার তাঁবু, ঝুঁকিতে ৪ লাখ মানুষ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

পরীমণিকে লিগ্যাল নোটিশ, অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা

০৮ নভেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

বন্যায় প্লাবিত গাজার ৭০ হাজার তাঁবু, ঝুঁকিতে ৪ লাখ মানুষ

আপডেট সময় ০৭:০৮:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

টানা ভারি বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসে গাজা উপত্যকার হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষের তাঁবু ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রোববার (৮ নভেম্বর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আকস্মিক বন্যার ফলে অসংখ্য মানুষ চরম মানবিক সংকটে পড়েছেন।

উত্তর গাজা থেকে আলজাজিরার সাংবাদিক ইব্রাহিম আল-খলিল জানান, বাধ্য হয়ে যেসব তাঁবুতে ফিলিস্তিনিরা থাকছেন, সেগুলো প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে পর্যাপ্ত সুরক্ষা দিতে পারছে না। কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় অনেক পরিবারের বহু কষ্টে গড়া আশ্রয়ের কাপড় ও কাঠামো উড়ে গেছে। তিনি ভেজা তোশক, বালিশ ও কাপড় পড়ে থাকতে দেখেছেন। প্রায় ৪ লাখ বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি এমন জায়গায় থাকছেন, যেখানে নতুন করে প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।

গাজার সরকারি গণমাধ্যম অফিস জানিয়েছে, গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) থেকে শুরু হওয়া তীব্র বৃষ্টি ও ঝড়ে ৭০ হাজার তাঁবু প্লাবিত হয়েছে। বহু তাঁবু ধসেও পড়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ক্ষয়ক্ষতির আনুমানিক পরিমাণ ৩০ লাখ ডলার। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ত্রাণ সরবরাহে কঠোর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় যুদ্ধবিধ্বস্ত উপত্যকার পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ থেকে আলজাজিরার সাংবাদিক আশরাফ আবু আমরা জানান, আশ্রয়কেন্দ্র প্লাবিত হওয়া পরিবারগুলো গত শনিবার সকাল থেকে কোনো খাদ্য সহায়তা পায়নি। ফিলিস্তিনে ইউনিসেফের বিশেষ প্রতিনিধি জোনাথন ভেইচ বলেছেন, এখানকার অধিকাংশ মানুষ ‘ভয়াবহ পরিস্থিতিতে’ দিন কাটাচ্ছেন। জরুরি ত্রাণ সরবরাহে তিনি আরও তহবিলের আহ্বান জানিয়েছেন।

গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, তারা অন্তত দেড় হাজার জরুরি সাহায্যের আবেদন পেয়েছে। সংস্থাটির মতে, ২ হাজারের বেশি ভবন এখন ধসে পড়ার ঝুঁকিতে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের আশ্রয় নিশ্চিত করতে জরুরিভাবে অন্তত ৩ লাখ নতুন তাঁবু প্রয়োজন। অন্যদিকে ত্রাণ ও সহায়তা সামগ্রী ঢুকতে দেওয়ার প্রশ্নে সংস্থাগুলোকে দীর্ঘদিন ধরেই লড়াই করতে হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ৬১০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর আগে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া সর্বাত্মক হামলায় গাজার ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। সহায়তা সামগ্রী, আশ্রয় তৈরির উপকরণ ও পুনর্গঠন সামগ্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সূত্র: আলজাজিরা

Share this news as a Photo Card