ঢাকা ০৮:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
পবিত্র ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে চলমান বার্তার বার্তা বিভাগ ১৬-২৫ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এ সময় কোন সংবাদ প্রকাশ করা হবে। ২৬ মার্চ থেকে যথারীতি সংবাদ পরিবেশিত হবে। কর্তৃপক্ষ ব্রডশিট জবাব না দিলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের এমপিও স্থগিত ক্রেডিট কার্ডের নতুন গাইডলাইন ৪২ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ ইরানে সাড়ে ৫ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা রামপালে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে একই পরিবারের ১২ জনসহ ১৩ জন নিহত রাষ্ট্রপতিকে প্রত্যাখ্যান করেছি : জামায়াত আমির রোববার ১১টা পর্যন্ত সংসদ অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা ‘কিলার চুপ্পু’ স্লোগানে উত্তাল সংসদ দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিল আওয়ামী লীগ : রাষ্ট্রপতি

শিক্ষার্থীর ত্রাণ লুটে নিলেন বিএনপি নেতা, উদ্ধার করলো সেনাবাহিনী

অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মো. একরাম বন্যার্তদের দেওয়ার জন্য ঢাকা থেকে কয়েকজন শিক্ষার্থী ত্রাণ নিয়ে নোয়াখালীর কবিরহাটে যান। কিন্তু সেখানে শিক্ষার্থীদের ত্রাণের গাড়ি দলবল নিয়ে আটকে দেন এক বিএনপি নেতা। পরে তিনি ৬০০ প্যাকেট ত্রাণ লুট করে নেন। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ গিয়ে লুট হওয়া ত্রাণ উদ্ধার করে ছাত্রদের ফিরিয়ে দেয়।

অভিযুক্ত এই বিএনপি নেতার নাম মো. একরাম। তিনি সুন্দলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও কালামুন্সি বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি।

মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে সুন্দলপুর ইউনিয়নের কালামুন্সি বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় মো. সৌরভ (১৮) নামে একজনকে আটক করে পুলিশে দেন স্থানীয়রা। আটক সৌরভ সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জাহের হোসেনের ছেলে ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা থেকে কয়েকজন শিক্ষার্থী বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ দিতে যান। মঙ্গলবার সকাল থেকে কবিরহাটের কয়েকটি ইউনিয়নে তারা ত্রাণ বিতরণ করেন। বিকেলের দিকে সুন্দলপুরের কালামুন্সি বাজারের যান শিক্ষার্থীরা। এসময় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি একরাম তার লোকজন দিয়ে ৬০০ প্যাকেট ত্রাণ গাড়ি থেকে নামিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আটক করে রাখেন। পরে শিক্ষার্থীরা কোনো উপায় না পেয়ে কবিরহাট থানায় অভিযোগ করেন। রাতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা গিয়ে ত্রাণগুলো উদ্ধার করে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে বন্যার্তদের মাঝে বিতরণ করে।

শিক্ষার্থী তাসরিফুর রহমান নিহাদ বলেন, ত্রাণ লুটে বাধা দেওয়ায় হামলাকারীরা মো. মাঈন উদ্দিন আকাশ (১৬) নামে এক ছাত্রকে কুপিয়ে ও নিহাদ (১৬) নামে আরেক ছাত্রকে পিটিয়ে আহত করেছে। পরে সেনাবাহিনী-পুলিশ আমাদের অভিযোগ শুনে ত্রাণগুলো উদ্ধার করে দেয়। আমরা তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি নেতা একরামের অনুসারী ছাত্রদল নেতা সোহেলের নেতৃত্বে সৌরভ, রিফাত, নোমান, বাপ্পীসহ অনেকে ছাত্রদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। আমরা তাদের বিচার চাই।

এতদিন একরাম নোয়াখালী-৪ আসনের সাবেক এমপি একরামুল করিম চৌধুরী ও তার স্ত্রী কবিরহাট উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুন নাহার শিউলির আজ্ঞাবহ হিসেবে এলাকায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে একাত্মতা করে চলতেন। শিউলিকে দিয়ে কালামুন্সি বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির পদও ভাগিয়ে নেন একরাম। এমনকি নারায়ণগঞ্জের সাবেক এমপি শামীম ওসমানের সঙ্গে ছবি তুলে ফেসবুকে দিয়ে অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকেও ভয় দেখাতেন। ৫ আগস্টের পর বিএনপির হয়ে এলাকায় নিজের লোকজন দিয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করে আসছেন একরাম।

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি  বলেন, আমি বা আমার লোকজনের বিরুদ্ধে ত্রাণ লুটের অভিযোগ সত্য নয়। ঢাকা থেকে আসা শিক্ষার্থীদের ত্রাণ স্থানীয় ছাত্রলীগের কর্মীরা বিতরণের কথা বলে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে আমি উদ্ধারের ব্যবস্থা করি। এখন একটি মহল আমার বিরুদ্ধ অপপ্রচারে লিপ্ত। অন্যদিকে কালামুন্সি বাজার কমিটির সভাপতি হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান শিউলি একরামকে ফুল দিয়েছি। আর এক আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে শামীম ওসমানের সঙ্গে দেখা হলে ছবি তুলে ফেসবুকে দিয়েছি।

জানতে চাইলে কবিরহাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুল হুদা চৌধুরী লিটন বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। অভিযুক্ত নেতার কাছে সাংগঠনিকভাবে বিষয়টি জানতে চাওয়া হবে। অসাংগঠনিক কোনো বিষয় প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এছাড়া বিভিন্নস্থানে হামলার বিষয়ে বিএনপির এ নেতা বলে, ৫ আগস্টের আগে যারা ছাত্রলীগের সঙ্গে ছিল, তারাই এখন আমাদের লোকজনের ওপর ভর করে অনিয়ম করে বেড়াচ্ছে।

কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হুমায়ন কবির বলেন, খবর পেয়ে ছাত্রদের ত্রাণগুলো উদ্ধার করে ফেরত দেওয়া হয়েছে। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। সবাই একই এলাকার হওয়ায় শিক্ষার্থীরা মীমাংসার কথা জানিয়েছেন। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন : লুটপাটের সঙ্গে বিএনপি জড়িত নয়: মির্জা ফখরুল

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

পবিত্র ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে চলমান বার্তার বার্তা বিভাগ ১৬-২৫ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এ সময় কোন সংবাদ প্রকাশ করা হবে। ২৬ মার্চ থেকে যথারীতি সংবাদ পরিবেশিত হবে। কর্তৃপক্ষ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

শিক্ষার্থীর ত্রাণ লুটে নিলেন বিএনপি নেতা, উদ্ধার করলো সেনাবাহিনী

আপডেট সময় ০৩:৪৬:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৪

অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মো. একরাম বন্যার্তদের দেওয়ার জন্য ঢাকা থেকে কয়েকজন শিক্ষার্থী ত্রাণ নিয়ে নোয়াখালীর কবিরহাটে যান। কিন্তু সেখানে শিক্ষার্থীদের ত্রাণের গাড়ি দলবল নিয়ে আটকে দেন এক বিএনপি নেতা। পরে তিনি ৬০০ প্যাকেট ত্রাণ লুট করে নেন। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ গিয়ে লুট হওয়া ত্রাণ উদ্ধার করে ছাত্রদের ফিরিয়ে দেয়।

অভিযুক্ত এই বিএনপি নেতার নাম মো. একরাম। তিনি সুন্দলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও কালামুন্সি বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি।

মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে সুন্দলপুর ইউনিয়নের কালামুন্সি বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় মো. সৌরভ (১৮) নামে একজনকে আটক করে পুলিশে দেন স্থানীয়রা। আটক সৌরভ সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জাহের হোসেনের ছেলে ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা থেকে কয়েকজন শিক্ষার্থী বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ দিতে যান। মঙ্গলবার সকাল থেকে কবিরহাটের কয়েকটি ইউনিয়নে তারা ত্রাণ বিতরণ করেন। বিকেলের দিকে সুন্দলপুরের কালামুন্সি বাজারের যান শিক্ষার্থীরা। এসময় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি একরাম তার লোকজন দিয়ে ৬০০ প্যাকেট ত্রাণ গাড়ি থেকে নামিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আটক করে রাখেন। পরে শিক্ষার্থীরা কোনো উপায় না পেয়ে কবিরহাট থানায় অভিযোগ করেন। রাতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা গিয়ে ত্রাণগুলো উদ্ধার করে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে বন্যার্তদের মাঝে বিতরণ করে।

শিক্ষার্থী তাসরিফুর রহমান নিহাদ বলেন, ত্রাণ লুটে বাধা দেওয়ায় হামলাকারীরা মো. মাঈন উদ্দিন আকাশ (১৬) নামে এক ছাত্রকে কুপিয়ে ও নিহাদ (১৬) নামে আরেক ছাত্রকে পিটিয়ে আহত করেছে। পরে সেনাবাহিনী-পুলিশ আমাদের অভিযোগ শুনে ত্রাণগুলো উদ্ধার করে দেয়। আমরা তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি নেতা একরামের অনুসারী ছাত্রদল নেতা সোহেলের নেতৃত্বে সৌরভ, রিফাত, নোমান, বাপ্পীসহ অনেকে ছাত্রদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। আমরা তাদের বিচার চাই।

এতদিন একরাম নোয়াখালী-৪ আসনের সাবেক এমপি একরামুল করিম চৌধুরী ও তার স্ত্রী কবিরহাট উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুন নাহার শিউলির আজ্ঞাবহ হিসেবে এলাকায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে একাত্মতা করে চলতেন। শিউলিকে দিয়ে কালামুন্সি বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির পদও ভাগিয়ে নেন একরাম। এমনকি নারায়ণগঞ্জের সাবেক এমপি শামীম ওসমানের সঙ্গে ছবি তুলে ফেসবুকে দিয়ে অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকেও ভয় দেখাতেন। ৫ আগস্টের পর বিএনপির হয়ে এলাকায় নিজের লোকজন দিয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করে আসছেন একরাম।

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি  বলেন, আমি বা আমার লোকজনের বিরুদ্ধে ত্রাণ লুটের অভিযোগ সত্য নয়। ঢাকা থেকে আসা শিক্ষার্থীদের ত্রাণ স্থানীয় ছাত্রলীগের কর্মীরা বিতরণের কথা বলে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে আমি উদ্ধারের ব্যবস্থা করি। এখন একটি মহল আমার বিরুদ্ধ অপপ্রচারে লিপ্ত। অন্যদিকে কালামুন্সি বাজার কমিটির সভাপতি হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান শিউলি একরামকে ফুল দিয়েছি। আর এক আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে শামীম ওসমানের সঙ্গে দেখা হলে ছবি তুলে ফেসবুকে দিয়েছি।

জানতে চাইলে কবিরহাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুল হুদা চৌধুরী লিটন বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। অভিযুক্ত নেতার কাছে সাংগঠনিকভাবে বিষয়টি জানতে চাওয়া হবে। অসাংগঠনিক কোনো বিষয় প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এছাড়া বিভিন্নস্থানে হামলার বিষয়ে বিএনপির এ নেতা বলে, ৫ আগস্টের আগে যারা ছাত্রলীগের সঙ্গে ছিল, তারাই এখন আমাদের লোকজনের ওপর ভর করে অনিয়ম করে বেড়াচ্ছে।

কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হুমায়ন কবির বলেন, খবর পেয়ে ছাত্রদের ত্রাণগুলো উদ্ধার করে ফেরত দেওয়া হয়েছে। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। সবাই একই এলাকার হওয়ায় শিক্ষার্থীরা মীমাংসার কথা জানিয়েছেন। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন : লুটপাটের সঙ্গে বিএনপি জড়িত নয়: মির্জা ফখরুল