দিনের শুরুটা অনেকের কাছেই একেক রকম। কেউ চা দিয়ে দিন শুরু করেন, কেউ কফি খেয়ে, আবার কারও কারও ঘরে সকালবেলা খালি পেটে তুলসী পাতা চিবিয়ে খাওয়ার চল বহু পুরনো। বাংলাদেশের অনেক বাড়ির আঙিনা বা বারান্দার টবে দেখা যায় এই পরিচিত ভেষজ গাছটি, যা কেবল ধর্মীয় আচারের সঙ্গেই নয়, ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসাপদ্ধতির সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন সকালে দুই থেকে তিনটি তাজা তুলসী পাতা চিবিয়ে খাওয়া যেতে পারে, তবে তা ওষুধের বিকল্প নয়, বরং একটি সহায়ক অভ্যাস মাত্র।
তুলসী পাতায় রয়েছে ইউজেনল, রোজমেরিনিক অ্যাসিড ও উরসোলিক অ্যাসিডের মতো একাধিক উদ্ভিজ্জ যৌগ, যেগুলোর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা চলছে। তবে এসব গবেষণার একটি বড় অংশ এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে এবং অনেক ক্ষেত্রে পাতার বদলে এর নির্যাস নিয়ে পরীক্ষা চালানো হয়েছে। ফলে শুধু কয়েকটি পাতা খেলেই নির্দিষ্ট কোনো রোগ সেরে যাবে, এমন দাবি করার সুযোগ নেই। তবে তুলসী পাতায় ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন, ভিটামিন এ ও ভিটামিন সি পাওয়া যায়, যা শরীরের জন্য উপকারী।
মানসিক চাপ কমাতে এবং ঘুমের মান উন্নত করতে তুলসীকে দীর্ঘদিন ধরে অ্যাডাপ্টোজেন হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। কিছু গবেষণায় তুলসীর নির্যাসের সঙ্গে মানসিক চাপ কমার সম্পর্ক পাওয়া গেলেও টাটকা পাতা খেলে একই ফল মিলবে কিনা, তা এখনও নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত নয়।
তুলসীর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক বলে মনে করা হয়। ঢাকার একটি হাসপাতালের পুষ্টিবিদের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, তুলসী পাতার পুষ্টিগুণ শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা, হজমজনিত জটিলতা ও ত্বকের নানা রোগ প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে। সর্দি-কাশি বা গলাব্যথায় আরাম পেতে তুলসী পাতা দিয়ে তৈরি গরম পানীয় বা চা খাওয়ার চল বাংলাদেশের ঘরে ঘরেই দেখা যায়। তবে দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্ট বা জ্বর থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।
হজমক্ষমতা বাড়াতে খাবারের পর তুলসী পাতা দিয়ে তৈরি পানীয় খাওয়ার অভ্যাসও পুরোনো। এ নিয়ে গবেষণা চললেও অ্যাসিডিটি বা দীর্ঘস্থায়ী হজমজনিত রোগের চিকিৎসায় তুলসী পাতা একমাত্র সমাধান হতে পারে না। একই সঙ্গে কিছু গবেষণায় রক্তে শর্করা, কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে তুলসীর ভূমিকার ইঙ্গিত মিলেছে। তবে ডায়াবেটিস বা কোলেস্টেরলের ওষুধের বিকল্প হিসেবে তুলসী পাতাকে বিবেচনা না করে বরং সহায়ক অভ্যাস হিসেবে যুক্ত করাই যুক্তিসংগত।
মুখগহ্বরের স্বাস্থ্যরক্ষায়ও তুলসীর জীবাণুরোধী গুণ কাজে আসতে পারে, যদিও শুধু পাতা চিবিয়ে খেলেই দাঁত ও মাড়ির সব সমস্যা দূর হয়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, তুলসী পাতাকে ওষুধের বিকল্প নয়, বরং প্রতিদিনের জীবনযাত্রার সহায়ক একটি অভ্যাস হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। শরীরে কোনো জটিলতা দীর্ঘস্থায়ী হলে ঘরোয়া উপায়ে ভরসা না রেখে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
তবে সবার জন্য তুলসী পাতা সমানভাবে নিরাপদ নাও হতে পারে। যাঁরা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খাচ্ছেন বা অস্ত্রোপচারের আগে-পরে রয়েছেন, তাঁদের তুলসী পাতা খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। গর্ভবতী নারীদেরও অতিরিক্ত তুলসী পাতা খাওয়া এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। সব মিলিয়ে বলা যায়, সকালে খালি পেটে অল্প কয়েকটি তুলসী পাতা খাওয়া অনেকের জন্যই একটি নিরাপদ ও উপকারী অভ্যাস হতে পারে, তবে তা যেন কখনও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার বিকল্প হয়ে না ওঠে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
শিরোনাম :
সকালে খালি পেটে তুলসী পাতা খেলে কী উপকার মেলে, জানুন বিস্তারিত
-
চলমান বার্তা ডেস্ক : - আপডেট সময় ১১:১২:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
- 5
জনপ্রিয় সংবাদ

























