অবশেষে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা এবং আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। গতকাল মধ্যরাত থেকেই সারাদেশে নতুন এই বর্ধিত মূল্য কার্যকর হয়েছে।
নতুন দামের চিত্র
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রতি লিটার অকটেন এখন থেকে বিক্রি হবে ১৪০ টাকায়, যা আগে ছিল ১২০ টাকা। প্রতি লিটার পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৩৫ টাকা। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত জ্বালানি ডিজেল ও কেরোসিনের দামও লিটারে ১৫ থেকে ১৮ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কেন এই মূল্যবৃদ্ধি?
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম চড়া। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় সংকটের কারণে জ্বালানি আমদানিতে সরকারকে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিতে হচ্ছিল। মাসের শুরুতে দাম অপরিবর্তিত রাখার চেষ্টা করা হলেও দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই ‘মূল্য সমন্বয়’ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে বলে কর্মকর্তাদের দাবি।
পরিবহন খাতে উদ্বেগের ছায়া
তেলের দাম বাড়ার ঘোষণা আসার পরপরই পরিবহন খাতে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। বাস ও ট্রাক মালিক সমিতির নেতারা জানিয়েছেন, জ্বালানির দাম বাড়লে স্বভাবতই পরিবহণ খরচ বেড়ে যায়। ফলে পণ্য পরিবহন ও গণপরিবহনের ভাড়া পুনর্নির্ধারণের দাবি তুলছেন তারা। সাধারণ যাত্রীদের আশঙ্কা, যাতায়াত খরচ বাড়ার পাশাপাশি বাজারে নিত্যপণ্যের দামও আরও এক দফা বৃদ্ধি পেতে পারে।
জনজীবনে প্রভাব
রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দেখা গেছে গ্রাহকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ব্যক্তিগত গাড়ি চালক ও মোটরসাইকেল আরোহীরা বলছেন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম বৃদ্ধির তাদের মাসিক বাজেটে বড় চাপ সৃষ্টি করবে। অন্যদিকে, কৃষিখাতে সেচ কাজের জন্য ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যেও দুশ্চিন্তা ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি মুদ্রাস্ফীতির ওপর পড়বে। যেহেতু উৎপাদন এবং সরবরাহ—উভয় খাতেই জ্বালানি তেল সরাসরি জড়িত, তাই শিল্প উৎপাদন খরচ বেড়ে যেতে পারে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিশ্ববাজারে দাম কমলে অভ্যন্তরীণ বাজারেও পুনরায় দাম কমানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নতুন দাম বহাল থাকবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাজার মনিটরিং এবং পরিবহন ভাড়ার ওপর বিশেষ নজরদারি রাখা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
এস কে চন্দন 



















