শিরোনাম :
আশুলিয়ায় মজুরির দাবিতে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ লংমার্চ নয়, সংবিধান সংস্কারে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইইউ-আমেরিকার বাজার ধরে রাখতে ট্রেসেবিলিটির ৬৬ ঘাটতি মিরপুরে চতুর্থ দিনেই বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে হারাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ সাবলেট উচ্ছেদে আজিমপুরে বিপাকে কলেজছাত্রীরা লং ড্রাইভে না গিয়ে এলাকার ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা করুন: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এইচএসসি পরিক্ষায় কুড়িগ্রামে নয় কলেজের পাস করেননি কেউ সরকারি বাসা সাবলেট দিলেই বরাদ্দ বাতিল, ভাড়াটিয়া সরানোর শেষ সময় আজ এইচএসসিতে ২৯৩ প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেনি এইচএসসিতে পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ, দুই বিষয়ে অকৃতকার্যদের এক মাসের মধ্যে আবার পরীক্ষা

কোচ নিয়োগ বিতর্কে কেএফএ কার্যালয়ে পুলিশি অভিযান

দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে পুলিশি অভিযান, কোচ নিয়োগ নিয়ে তদন্ত
দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে দেশটির পুলিশ এবার সরাসরি তদন্তে নেমেছে। সিউলের পুলিশ বাহিনী দেশটির ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়েছে। বর্তমান প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া ব্যক্তির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা যায়, ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টির অভিযোগের ভিত্তিতে একটি তদন্ত চলছে, আর সেই তদন্তেরই অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা কোচ নিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র ও তথ্য সংগ্রহ করেছেন। ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালে। ওই বছর ফুটবল সংস্থাটি বেশ কয়েক মাস ধরে বিদেশ থেকে একজন কোচ খোঁজার চেষ্টা চালায়। তবে শেষ মুহূর্তে হঠাৎ করেই সেই অনুসন্ধান থামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর একটি সংক্ষিপ্ত বৈঠকের পরই স্থানীয় একজন কোচকে জাতীয় দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের পর থেকেই গোটা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
বিতর্ক আরও জোরালো হয় সাম্প্রতিক বিশ্বকাপে দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর। গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয় দলকে, আর এরপরই বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় চলে আসে। এ নিয়ে দেশের পার্লামেন্টে একটি শুনানিও অনুষ্ঠিত হয়। ওই শুনানিতে সংশ্লিষ্ট কোচ নিজের প্রতি ওঠা বিশেষ সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে দলের ব্যর্থতার দায় তিনি নিজের কাঁধেই নেন বলে জানা যায়।
এর আগেও একবার এই নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল। ২০২৪ সালের অক্টোবরে দেশটির সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও পর্যটন বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক পর্যালোচনায় জানিয়েছিল, বর্তমান কোচ এবং তার পূর্বসূরি হিসেবে দায়িত্বে থাকা এক জার্মান কোচকে নিয়োগ দেওয়ার সময় ফুটবল সংস্থাটি নিজস্ব নিয়মকানুন ও প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করেনি। তবে সে সময় কোনো সুনির্দিষ্ট অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও উল্লেখ করা হয়েছিল।
এবার বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে। কোচ নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় কোনো অনৈতিক বা বেআইনি প্রভাব খাটানো হয়েছিল কি না, সেটিই এখন খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তবে এই মুহূর্ত পর্যন্ত ফুটবল সংস্থা কিংবা এর সঙ্গে যুক্ত কোনো কর্মকর্তার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক বিতর্ক দেখা দিচ্ছে। বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর সমর্থকদের চাপ এবং সরকারি তদন্তের মুখে পড়েছিলেন সাবেক এক কোচও, যিনি পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে পুলিশি অভিযানের ঘটনা দেশটির ফুটবল প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে নতুন করে সংশয় তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কোচ নিয়োগ থেকে শুরু করে দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স— সবকিছু নিয়েই সমর্থক ও গণমাধ্যমের প্রশ্নের মুখে পড়ছে সংস্থাটি। তদন্ত শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায় এবং এর ফলে ফুটবল সংস্থার নেতৃত্বে কোনো পরিবর্তন আসে কি না, সেদিকেই এখন নজর সবার।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

ভৌগোলিক সীমা ছাড়াই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের নির্দেশ দিলেন মোজতবা খামেনি

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

এইচএসসিতে পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ, দুই বিষয়ে অকৃতকার্যদের এক মাসের মধ্যে আবার পরীক্ষা

৩১ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

কোচ নিয়োগ বিতর্কে কেএফএ কার্যালয়ে পুলিশি অভিযান

আপডেট সময় ০৪:১৭:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে পুলিশি অভিযান, কোচ নিয়োগ নিয়ে তদন্ত
দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে দেশটির পুলিশ এবার সরাসরি তদন্তে নেমেছে। সিউলের পুলিশ বাহিনী দেশটির ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়েছে। বর্তমান প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া ব্যক্তির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা যায়, ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টির অভিযোগের ভিত্তিতে একটি তদন্ত চলছে, আর সেই তদন্তেরই অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা কোচ নিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র ও তথ্য সংগ্রহ করেছেন। ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালে। ওই বছর ফুটবল সংস্থাটি বেশ কয়েক মাস ধরে বিদেশ থেকে একজন কোচ খোঁজার চেষ্টা চালায়। তবে শেষ মুহূর্তে হঠাৎ করেই সেই অনুসন্ধান থামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর একটি সংক্ষিপ্ত বৈঠকের পরই স্থানীয় একজন কোচকে জাতীয় দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের পর থেকেই গোটা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
বিতর্ক আরও জোরালো হয় সাম্প্রতিক বিশ্বকাপে দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর। গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয় দলকে, আর এরপরই বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় চলে আসে। এ নিয়ে দেশের পার্লামেন্টে একটি শুনানিও অনুষ্ঠিত হয়। ওই শুনানিতে সংশ্লিষ্ট কোচ নিজের প্রতি ওঠা বিশেষ সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে দলের ব্যর্থতার দায় তিনি নিজের কাঁধেই নেন বলে জানা যায়।
এর আগেও একবার এই নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল। ২০২৪ সালের অক্টোবরে দেশটির সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও পর্যটন বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক পর্যালোচনায় জানিয়েছিল, বর্তমান কোচ এবং তার পূর্বসূরি হিসেবে দায়িত্বে থাকা এক জার্মান কোচকে নিয়োগ দেওয়ার সময় ফুটবল সংস্থাটি নিজস্ব নিয়মকানুন ও প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করেনি। তবে সে সময় কোনো সুনির্দিষ্ট অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও উল্লেখ করা হয়েছিল।
এবার বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে। কোচ নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় কোনো অনৈতিক বা বেআইনি প্রভাব খাটানো হয়েছিল কি না, সেটিই এখন খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তবে এই মুহূর্ত পর্যন্ত ফুটবল সংস্থা কিংবা এর সঙ্গে যুক্ত কোনো কর্মকর্তার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক বিতর্ক দেখা দিচ্ছে। বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর সমর্থকদের চাপ এবং সরকারি তদন্তের মুখে পড়েছিলেন সাবেক এক কোচও, যিনি পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে পুলিশি অভিযানের ঘটনা দেশটির ফুটবল প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে নতুন করে সংশয় তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কোচ নিয়োগ থেকে শুরু করে দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স— সবকিছু নিয়েই সমর্থক ও গণমাধ্যমের প্রশ্নের মুখে পড়ছে সংস্থাটি। তদন্ত শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায় এবং এর ফলে ফুটবল সংস্থার নেতৃত্বে কোনো পরিবর্তন আসে কি না, সেদিকেই এখন নজর সবার।

Share this news as a Photo Card