মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনের শেষ বেলায় সবার অপেক্ষা ছিল সাদমান ইসলামের সেঞ্চুরির জন্য। কিন্তু শতকের মাত্র এক রান আগে থামিয়ে দিল আলোকস্বল্পতা। ৯৯ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়লেন ৩১ বছর বয়সী এই ওপেনার। বুধবার (২৮ অক্টোবর) শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দিনের খেলা শেষ হয়েছে বাংলাদেশের ৩ উইকেটে ২১৩ রানে।
টস জিতে ব্যাটিং বেছে নেয় বাংলাদেশ। তবে শুরুটা সুখকর হয়নি। সপ্তম ওভারে জেইডন সিলসের অফস্ট্যাম্পের বাইরের বল খেলতে গিয়ে ব্যাটে লাগিয়ে বসেন তানজিদ হাসান তামিম। বল স্লিপে জাস্টিন গ্রেভসের হাতে জমা পড়লে দলীয় ৯ রানেই প্রথম উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই পেসার সিলস ও শামার জোসেফের গতি এবং লাইন-লেন্থের সামনে কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হয় সাদমানকে।
এরপর মুমিনুল হককে নিয়ে ৫৯ রানের জুটি গড়ে প্রাথমিক চাপ সামাল দেন সাদমান। তবে ২৮ রানে থেমে যান মুমিনুল। ওয়ারিকানের বলে মিডঅফে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। এরপর ক্রিজে আসেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। সাদমানের সঙ্গে প্রথম সেশনের বাকি সময় কাটিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
বিরতির পর ৩৬তম ওভারে ওয়ারিকানের বলে সুইপ খেলতে গিয়ে ব্যাটে-বলে সংযোগ করতে পারেননি শান্ত। বল আঘাত করে প্যাডে। মাঠের আম্পায়ার আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে সফল হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৪২ বলে ১৯ রান করে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
চতুর্থ উইকেটে সাদমানের সঙ্গী হন তাওহীদ হৃদয়। ধীরে ধীরে ইনিংস বড় করতে থাকেন সাদমান, তুলে নেন ক্যারিয়ারের দশম টেস্ট অর্ধশতক। অন্য প্রান্তে তুলনামূলক দ্রুত রান তুলছিলেন হৃদয়। দুজনের জুটিতে আসে ৬৭ রান। চা-বিরতিতে গিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ১৭৭। তখন সাদমান ৭৯ ও হৃদয় ৩৬ রানে অপরাজিত ছিলেন।
চা-বিরতির পর ক্র্যাম্পে বিপাকে পড়েন হৃদয়। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ব্যাটিংয়ে ফিরলেও জশুয়া বিশপের ওভারে সিঙ্গেল নিতে গিয়ে আবারও ব্যথায় কাবু হন তিনি। ৮৪ বলে ৪২ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন এই ব্যাটার। তাকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নেওয়া হয়। হৃদয়ের জায়গায় নামেন লিটন দাস। বাংলাদেশ দল বা ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে হৃদয়ের চোটের ধরন বা পরের দিন ব্যাটিংয়ে ফেরা নিয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশের ইনিংসের এই পর্যায়ে সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন সাদমান; তিন উইকেট হারানোর পরও তাঁর অপরাজিত ইনিংসই দলকে ২০০ ছাড়ানো স্কোরে পৌঁছে দিয়েছে। হৃদয়ের সঙ্গে ৬৭ রানের জুটি সেখানে বড় ভূমিকা রেখেছে। হৃদয়ের বিদায়ে ছন্দপতন হলেও লিটনকে নিয়ে রানের চাকা সচল রাখেন তিনি।
এরপর আলোকস্বল্পতার কারণে দীর্ঘক্ষণ খেলা বন্ধ থাকে। শুরু হলেও চলে মাত্র ৪ ওভার। আবারও আলোকস্বল্পতায় থামে খেলা, তারপর আর মাঠে গড়ায়নি। প্রায় আধাঘণ্টা অপেক্ষার পর দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করা হয়। ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই ইতি ঘটে প্রথম দিনের।
পুরো দিনের চিত্রটা তাই তিন ভাগে ধরা যায়। প্রথম সেশন ভাগাভাগি হয়েছে দুই দলের মধ্যে, দ্বিতীয় সেশন কেটেছে বাংলাদেশের দখলে, আর তৃতীয় সেশনে নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে আলো-আঁধারির খেলা। সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মধ্যেও একপ্রান্ত আগলে রেখে ঠান্ডা মাথায় ব্যাট করেছেন সাদমান। মুমিনুল ও শান্ত দুজনেই উইকেটে থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি; তাঁদের আউটের ধরন নিয়ে একাধিক বিবরণে শট নির্বাচনের প্রশ্ন উঠেছে।
দিনের শেষে ৭৪ ওভার ব্যাট করে ৩ উইকেটে ২১৩ রান তুলেছে বাংলাদেশ। ২১৯ বলে ৯৯ রানে অপরাজিত আছেন সাদমান। তাঁর সঙ্গে ক্রিজে আছেন লিটন দাস। ওয়ারিকান দুটি ও সিলস একটি উইকেট নিয়েছেন। মাঠ ছাড়ার সময় মুচকি হেসে মাথা নাড়ছিলেন সাদমান। সেঞ্চুরির অপেক্ষা আরও বাড়ল তাঁর। ক্রিকেটে কখনো আলোই হয়ে ওঠে বড় প্রতিপক্ষ।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 




















