শিরোনাম :
পাকিস্তান থেকে আমদানি করা ১৫০ টন তামাক জব্দ বাবা ডাব খাচ্ছিলেন তিনজন এসে লাথি মেরে বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করেন সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে শেকৃবির শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ ইসরায়েলে কেউই পায়নি ৬১ আসন, ঝুলে গেল ক্ষমতার সমীকরণ মিরপুর টেস্টে ৯৯-তে থেমে সেঞ্চুরির অপেক্ষায় সাদমান দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৯ ও হামে ৭ শিশুর মৃত্যু কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্ব দিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি আহ্বান রাষ্ট্রপতির মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল শুরু ৩১ অক্টোবর, আগে করালে গ্রহণযোগ্য নয় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কায় নিহত চারজন, আহত ১১ মিরপুর টেস্টে স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়লেন হৃদয়

বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প ও প্রযুক্তিতে জাপান-বাংলাদেশ সমন্বিতভাবে কাজ করবে

বিশ্ব পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। এই বাস্তবতায় নিজেদের সক্ষমতা ও স্থিতিশীলতা বাড়াতে ‘বিগ-বি’ (বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট) উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে জাপান ও বাংলাদেশ। গতকাল মঙ্গলবার টোকিওতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সানায়ে তাকাইচির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ ঘোষণায় এ কথা জানানো হয়।

যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নিতে উদ্যোগটি এখন ‘অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বিগ-বি’ নামে এগিয়ে যাবে। এর আওতায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়নে দুই দেশ সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

ঘোষণা অনুযায়ী, এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিল্পের মূল্য সংযোজন ও সরবরাহ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। বাংলাদেশকে বাণিজ্য ও পণ্য সরবরাহের প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলা এবং প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধি বাড়ানোও লক্ষ্য।

চার ক্ষেত্রে কাজ

যৌথ ঘোষণায় চারটি ক্ষেত্রের কথা বলা হয়েছে। সেগুলো হলো:

  • যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন
  • প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তাসহ নানা ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানো
  • অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি ও নীতিমালা প্রণয়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বাড়ানো
  • শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা জোরদার করা

এক ট্রিলিয়ন ইয়েনের সম্ভাবনা

ঘোষণায় আরও বলা হয়েছে, জাপানের বেসরকারি খাত আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ৬৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে পারে। এতে দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী এই সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। বিনিয়োগ আকর্ষণে তারেক রহমানের প্রচেষ্টার প্রশংসাও করেছেন তিনি।

বৈঠকের দিনটি

তারেক রহমানের জাপান সফরের দ্বিতীয় দিনে এ শীর্ষ বৈঠক হয়। স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৩২ মিনিটে তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে সানায়ে তাকাইচি তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। বৈঠক শুরু হয় ১১টা ৪০ মিনিটে।

শীর্ষ বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলন হয়। সেখানে জানানো হয়, দুই নেতা দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন। দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার অঙ্গীকারও তাঁরা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

বৈঠকের পর নিজের অফিসিয়াল ‘এক্স’ অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে তাকাইচি লেখেন, কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার এবং অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনে জাপান বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। তাঁর ভাষ্য, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় তারেক রহমানকে ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানাতে পেরে তিনি আনন্দিত। তাকাইচি আরও লেখেন, বন্ধুপ্রতিম বাংলাদেশ গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মূল্যবোধে বিশ্বাসী। গণতান্ত্রিক সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা তারেক রহমান সরকারের রাষ্ট্রগঠন প্রচেষ্টায় জাপান দৃঢ়ভাবে সমর্থন দেবে।

মাতারবাড়ী ঘিরে পরিকল্পনা

জাপান সরকারের প্রস্তাবিত বিগ-বি উদ্যোগের আওতায় দুই দেশ মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে মাতারবাড়ী-মহেশখালী এলাকাকে একটি বৃহৎ লজিস্টিকস, জ্বালানি ও শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করবে। দুই নেতা জোর দিয়েছেন দুটি বিষয়ে: দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রতিটি দেশের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার অক্ষুণ্ন রাখা।

যোগাযোগ অবকাঠামো

আঞ্চলিক যোগাযোগকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দুই প্রধানমন্ত্রী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে নিতে একমত হয়েছেন। ঢাকায় এমআরটি লাইনগুলোর নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার কথাও তাঁরা বলেছেন। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনাসহ ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার কথাও এসেছে।

সমঝোতা স্মারক ও বিনিয়োগ পরিবেশ

বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাকাইচি। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিনিয়োগ সহজ করতে কর, শুল্ক ছাড়করণ, অর্থ পাঠানো ও লাইসেন্স দেওয়ার মতো কার্যক্রমে নিয়মকানুন ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছেন তারেক রহমান।

বৈঠকে তিনটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে:

  • অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে একটি
  • খাদ্য, কৃষি, মৎস্য ও পশুপালন খাতে ব্যবসা-বিনিয়োগ বাড়াতে জাপানের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুটি

ব্যবসায়িক সম্পর্ক বাড়াতে জাপানের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে পাঠানো এবং অর্থনৈতিক সংলাপ আয়োজনের পরিকল্পনা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের আওতায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও তাঁরা একমত হয়েছেন।

অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি

জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) সই হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন দুই নেতা। দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে চুক্তিটি দ্রুত কার্যকর করার অঙ্গীকারও তাঁরা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্পের বহুমুখীকরণে জোর দেওয়াই এই চুক্তির লক্ষ্য।

যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ প্রক্রিয়া সহজ, টেকসই ও অভিঘাত মোকাবিলায় সক্ষম করতে চুক্তিটি সহায়তা করবে। আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব (আরসিইপি) চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বাংলাদেশের অনুরোধ নিয়ে আরও আলোচনার অপেক্ষায় আছে জাপান। তাকাইচিও এ কথা বলেছেন।

জ্বালানি, ডিজিটাল রূপান্তর ও দক্ষ জনশক্তি

জাপানের ‘অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি ও স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণে জরুরি সহায়তা ঋণ’ কর্মসূচির আওতায় ৫০ বিলিয়ন ইয়েন সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন তারেক রহমান। ‘পার্টনারশিপ অন ওয়াইড এনার্জি অ্যান্ড রিসোর্সেস রেজিলিয়েন্স এশিয়া’ বা ‘পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় এটিই জাপানের প্রথম ইয়েন ঋণ প্রকল্প।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে দুই নেতা ডিজিটাল রূপান্তর, উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন আইসিটি পেশাজীবী তৈরি এবং নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থার নতুন সম্ভাবনা অনুসন্ধানের গুরুত্ব স্বীকার করেছেন। মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং সামাজিক ঝুঁকি মোকাবিলায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখতেও তাঁরা একমত হয়েছেন।

প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা

ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর অভিপ্রায় পুনর্ব্যক্ত করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরসংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর এবং কার্যকর হওয়াকে তাঁরা স্বাগত জানিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও এগোবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ অবদানকারী দেশ হিসেবে ভূমিকার স্বীকৃতি দিয়েছেন তাকাইচি। প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, উপকূলীয় টহল ও বন্দর নিরাপত্তায় সহযোগিতা আরও গভীর করার অঙ্গীকারও জানিয়েছেন তিনি। সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) কর্মসূচির আওতায় একটি টহল জাহাজ এবং সরকারি নিরাপত্তা সহায়তা কর্মসূচির আওতায় পাঁচটি টহল নৌযান দেওয়ার বিষয়টিকে দুই নেতা স্বাগত জানিয়েছেন।

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ ও মিয়ানমার পরিস্থিতি

মিয়ানমারের ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতি, এর আঞ্চলিক নিরাপত্তাগত প্রভাব, বাস্তুচ্যুতি এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। তাঁরা অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ, আটক ব্যক্তিদের মুক্তি এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর অনুকূল পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন। রোহিঙ্গাসহ সব পক্ষ ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে নিয়ে সংলাপের কথাও বলেছেন তাঁরা।

রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাসহ বাস্তুচ্যুত মানুষকে সাময়িক আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেছেন তাকাইচি। তাঁদের জন্য অব্যাহত মানবিক সহায়তায় জাপানের সমর্থনের কথাও জানিয়েছেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই এর সমাধানও সেখানেই নিহিত। দুই নেতা একমত হয়েছেন, রোহিঙ্গাসহ বাস্তুচ্যুত মানুষকে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে ও টেকসই উপায়ে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর মধ্য দিয়েই সংকটের চূড়ান্ত সমাধান সম্ভব।

মধ্যপ্রাচ্য ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা

মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছেন দুই নেতা। আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে অবিলম্বে ও সম্পূর্ণভাবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কথাও বলেছেন তাঁরা। অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই সব জাহাজের নিরাপদ ও অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার ওপরও জোর দিয়েছেন। বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন বাণিজ্যের জন্য লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতার কৌশলগত গুরুত্বের কথা স্বীকার করেছেন তাঁরা।

বেসামরিক জাহাজ ও নাবিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন দুই নেতা। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সামুদ্রিক কর্মীদের জীবন বিপন্ন করতে পারে এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। গাজা পুনর্গঠনে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জরুরি প্রয়োজনের কথাও তাঁরা বলেছেন। দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানসহ ফিলিস্তিন সমস্যার ন্যায়সংগত, স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ সমাধানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন তাঁরা।

‘বন্ধুত্ব হবে সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি’

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান বলেন, দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও যৌথ সমৃদ্ধির চালিকাশক্তিতে রূপ দিতে হবে। জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, রেলপথ, অবকাঠামো ও গভীর সমুদ্রবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বাড়িয়ে সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে চায় বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও জাপানের অংশীদারিত্ব কয়েক দশকের বন্ধুত্ব, আস্থা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। আজ এই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছে। বাংলাদেশে বিদ্যমান বিনিয়োগের সুযোগগুলো অনুসন্ধান করতে এবং আমাদের উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে অংশীদার হতে আমি জাপানি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যাঁরা ছিলেন

শীর্ষ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। আরও ছিলেন বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন (আশিক চৌধুরী), বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, সচিব সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী প্রমুখ।

মধ্যাহ্নভোজ ও লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন

শীর্ষ বৈঠক ও যৌথ সংবাদ সম্মেলনের পর গতকাল স্থানীয় সময় দুপুরে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইয়ে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন তারেক রহমান। সে সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জোবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

সফরের অংশ হিসেবে বিকেলে চিবা প্রিফেকচারের ইচিকাওয়া শহরে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তাঁর সফরসঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

মিরপুর টেস্টে স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়লেন হৃদয়

২৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প ও প্রযুক্তিতে জাপান-বাংলাদেশ সমন্বিতভাবে কাজ করবে

আপডেট সময় ০১:৩৭:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্ব পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। এই বাস্তবতায় নিজেদের সক্ষমতা ও স্থিতিশীলতা বাড়াতে ‘বিগ-বি’ (বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট) উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে জাপান ও বাংলাদেশ। গতকাল মঙ্গলবার টোকিওতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সানায়ে তাকাইচির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ ঘোষণায় এ কথা জানানো হয়।

যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নিতে উদ্যোগটি এখন ‘অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বিগ-বি’ নামে এগিয়ে যাবে। এর আওতায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়নে দুই দেশ সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

ঘোষণা অনুযায়ী, এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিল্পের মূল্য সংযোজন ও সরবরাহ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। বাংলাদেশকে বাণিজ্য ও পণ্য সরবরাহের প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলা এবং প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধি বাড়ানোও লক্ষ্য।

চার ক্ষেত্রে কাজ

যৌথ ঘোষণায় চারটি ক্ষেত্রের কথা বলা হয়েছে। সেগুলো হলো:

  • যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন
  • প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তাসহ নানা ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানো
  • অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি ও নীতিমালা প্রণয়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বাড়ানো
  • শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা জোরদার করা

এক ট্রিলিয়ন ইয়েনের সম্ভাবনা

ঘোষণায় আরও বলা হয়েছে, জাপানের বেসরকারি খাত আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ৬৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে পারে। এতে দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী এই সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। বিনিয়োগ আকর্ষণে তারেক রহমানের প্রচেষ্টার প্রশংসাও করেছেন তিনি।

বৈঠকের দিনটি

তারেক রহমানের জাপান সফরের দ্বিতীয় দিনে এ শীর্ষ বৈঠক হয়। স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৩২ মিনিটে তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে সানায়ে তাকাইচি তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। বৈঠক শুরু হয় ১১টা ৪০ মিনিটে।

শীর্ষ বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলন হয়। সেখানে জানানো হয়, দুই নেতা দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন। দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার অঙ্গীকারও তাঁরা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

বৈঠকের পর নিজের অফিসিয়াল ‘এক্স’ অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে তাকাইচি লেখেন, কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার এবং অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনে জাপান বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। তাঁর ভাষ্য, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় তারেক রহমানকে ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানাতে পেরে তিনি আনন্দিত। তাকাইচি আরও লেখেন, বন্ধুপ্রতিম বাংলাদেশ গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মূল্যবোধে বিশ্বাসী। গণতান্ত্রিক সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা তারেক রহমান সরকারের রাষ্ট্রগঠন প্রচেষ্টায় জাপান দৃঢ়ভাবে সমর্থন দেবে।

মাতারবাড়ী ঘিরে পরিকল্পনা

জাপান সরকারের প্রস্তাবিত বিগ-বি উদ্যোগের আওতায় দুই দেশ মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে মাতারবাড়ী-মহেশখালী এলাকাকে একটি বৃহৎ লজিস্টিকস, জ্বালানি ও শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করবে। দুই নেতা জোর দিয়েছেন দুটি বিষয়ে: দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রতিটি দেশের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার অক্ষুণ্ন রাখা।

যোগাযোগ অবকাঠামো

আঞ্চলিক যোগাযোগকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দুই প্রধানমন্ত্রী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে নিতে একমত হয়েছেন। ঢাকায় এমআরটি লাইনগুলোর নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার কথাও তাঁরা বলেছেন। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনাসহ ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার কথাও এসেছে।

সমঝোতা স্মারক ও বিনিয়োগ পরিবেশ

বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাকাইচি। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিনিয়োগ সহজ করতে কর, শুল্ক ছাড়করণ, অর্থ পাঠানো ও লাইসেন্স দেওয়ার মতো কার্যক্রমে নিয়মকানুন ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছেন তারেক রহমান।

বৈঠকে তিনটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে:

  • অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে একটি
  • খাদ্য, কৃষি, মৎস্য ও পশুপালন খাতে ব্যবসা-বিনিয়োগ বাড়াতে জাপানের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুটি

ব্যবসায়িক সম্পর্ক বাড়াতে জাপানের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে পাঠানো এবং অর্থনৈতিক সংলাপ আয়োজনের পরিকল্পনা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের আওতায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও তাঁরা একমত হয়েছেন।

অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি

জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) সই হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন দুই নেতা। দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে চুক্তিটি দ্রুত কার্যকর করার অঙ্গীকারও তাঁরা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্পের বহুমুখীকরণে জোর দেওয়াই এই চুক্তির লক্ষ্য।

যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ প্রক্রিয়া সহজ, টেকসই ও অভিঘাত মোকাবিলায় সক্ষম করতে চুক্তিটি সহায়তা করবে। আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব (আরসিইপি) চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বাংলাদেশের অনুরোধ নিয়ে আরও আলোচনার অপেক্ষায় আছে জাপান। তাকাইচিও এ কথা বলেছেন।

জ্বালানি, ডিজিটাল রূপান্তর ও দক্ষ জনশক্তি

জাপানের ‘অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি ও স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণে জরুরি সহায়তা ঋণ’ কর্মসূচির আওতায় ৫০ বিলিয়ন ইয়েন সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন তারেক রহমান। ‘পার্টনারশিপ অন ওয়াইড এনার্জি অ্যান্ড রিসোর্সেস রেজিলিয়েন্স এশিয়া’ বা ‘পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় এটিই জাপানের প্রথম ইয়েন ঋণ প্রকল্প।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে দুই নেতা ডিজিটাল রূপান্তর, উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন আইসিটি পেশাজীবী তৈরি এবং নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থার নতুন সম্ভাবনা অনুসন্ধানের গুরুত্ব স্বীকার করেছেন। মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং সামাজিক ঝুঁকি মোকাবিলায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখতেও তাঁরা একমত হয়েছেন।

প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা

ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর অভিপ্রায় পুনর্ব্যক্ত করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরসংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর এবং কার্যকর হওয়াকে তাঁরা স্বাগত জানিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও এগোবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ অবদানকারী দেশ হিসেবে ভূমিকার স্বীকৃতি দিয়েছেন তাকাইচি। প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, উপকূলীয় টহল ও বন্দর নিরাপত্তায় সহযোগিতা আরও গভীর করার অঙ্গীকারও জানিয়েছেন তিনি। সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) কর্মসূচির আওতায় একটি টহল জাহাজ এবং সরকারি নিরাপত্তা সহায়তা কর্মসূচির আওতায় পাঁচটি টহল নৌযান দেওয়ার বিষয়টিকে দুই নেতা স্বাগত জানিয়েছেন।

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ ও মিয়ানমার পরিস্থিতি

মিয়ানমারের ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতি, এর আঞ্চলিক নিরাপত্তাগত প্রভাব, বাস্তুচ্যুতি এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। তাঁরা অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ, আটক ব্যক্তিদের মুক্তি এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর অনুকূল পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন। রোহিঙ্গাসহ সব পক্ষ ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে নিয়ে সংলাপের কথাও বলেছেন তাঁরা।

রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাসহ বাস্তুচ্যুত মানুষকে সাময়িক আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেছেন তাকাইচি। তাঁদের জন্য অব্যাহত মানবিক সহায়তায় জাপানের সমর্থনের কথাও জানিয়েছেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই এর সমাধানও সেখানেই নিহিত। দুই নেতা একমত হয়েছেন, রোহিঙ্গাসহ বাস্তুচ্যুত মানুষকে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে ও টেকসই উপায়ে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর মধ্য দিয়েই সংকটের চূড়ান্ত সমাধান সম্ভব।

মধ্যপ্রাচ্য ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা

মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছেন দুই নেতা। আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে অবিলম্বে ও সম্পূর্ণভাবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কথাও বলেছেন তাঁরা। অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই সব জাহাজের নিরাপদ ও অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার ওপরও জোর দিয়েছেন। বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন বাণিজ্যের জন্য লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতার কৌশলগত গুরুত্বের কথা স্বীকার করেছেন তাঁরা।

বেসামরিক জাহাজ ও নাবিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন দুই নেতা। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সামুদ্রিক কর্মীদের জীবন বিপন্ন করতে পারে এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। গাজা পুনর্গঠনে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জরুরি প্রয়োজনের কথাও তাঁরা বলেছেন। দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানসহ ফিলিস্তিন সমস্যার ন্যায়সংগত, স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ সমাধানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন তাঁরা।

‘বন্ধুত্ব হবে সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি’

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান বলেন, দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও যৌথ সমৃদ্ধির চালিকাশক্তিতে রূপ দিতে হবে। জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, রেলপথ, অবকাঠামো ও গভীর সমুদ্রবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বাড়িয়ে সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে চায় বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও জাপানের অংশীদারিত্ব কয়েক দশকের বন্ধুত্ব, আস্থা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। আজ এই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছে। বাংলাদেশে বিদ্যমান বিনিয়োগের সুযোগগুলো অনুসন্ধান করতে এবং আমাদের উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে অংশীদার হতে আমি জাপানি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যাঁরা ছিলেন

শীর্ষ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। আরও ছিলেন বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন (আশিক চৌধুরী), বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, সচিব সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী প্রমুখ।

মধ্যাহ্নভোজ ও লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন

শীর্ষ বৈঠক ও যৌথ সংবাদ সম্মেলনের পর গতকাল স্থানীয় সময় দুপুরে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইয়ে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন তারেক রহমান। সে সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জোবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

সফরের অংশ হিসেবে বিকেলে চিবা প্রিফেকচারের ইচিকাওয়া শহরে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তাঁর সফরসঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন।

Share this news as a Photo Card