শিরোনাম :
বাবা ডাব খাচ্ছিলেন তিনজন এসে লাথি মেরে বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করেন সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে শেকৃবির শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ ইসরায়েলে কেউই পায়নি ৬১ আসন, ঝুলে গেল ক্ষমতার সমীকরণ মিরপুর টেস্টে ৯৯-তে থেমে সেঞ্চুরির অপেক্ষায় সাদমান দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৯ ও হামে ৭ শিশুর মৃত্যু কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্ব দিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি আহ্বান রাষ্ট্রপতির মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল শুরু ৩১ অক্টোবর, আগে করালে গ্রহণযোগ্য নয় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কায় নিহত চারজন, আহত ১১ মিরপুর টেস্টে স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়লেন হৃদয় আকস্মিক পরিদর্শনে পাঁচ চিকিৎসককে দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত পেয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ইসরায়েলে কেউই পায়নি ৬১ আসন, ঝুলে গেল ক্ষমতার সমীকরণ

ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের ভোট গণনা প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও দেশটির রাজনীতিতে কাটছে না অনিশ্চয়তার মেঘ। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট কিংবা বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন পরিবর্তনপন্থী শিবির, সরকার গঠনের মতো একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা কেউই পায়নি। ফলে দলগুলো শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় পৌঁছাবে, নাকি দেশটিকে আবার ভোটের মুখোমুখি হতে হবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ১২০ আসনের নেসেটে (ইসরায়েলি পার্লামেন্ট) সরকার গঠনের জন্য দরকার ৬১ আসন। দুই প্রধান শিবিরের কারও পক্ষেই এই সংখ্যায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

চলমান গণনার চিত্র অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর ডানপন্থী, অতি-ডানপন্থী ও আল্ট্রা-অর্থোডক্স দলগুলোর জোট পেতে পারে ৫৩ থেকে ৫৪টি আসন। অন্যদিকে সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির পেয়েছে ৪৮ থেকে ৪৯টি আসন।

এই নির্বাচনে বড় একটি হিসাব তৈরি করেছে আরব-ইসরায়েলি দলগুলো। যৌথভাবে তারা প্রায় ১৯টি আসন নিশ্চিত করেছে। কিন্তু ইহুদি দলগুলোর অধিকাংশই ঐতিহাসিকভাবে আরব দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক জোটে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। এ কারণে আইজেনকোটের পক্ষে ৬১ আসনের জাদুকরী সংখ্যা ছোঁয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।

সামনে কোন পথ

ঝুলন্ত এই ফলাফলের পর ইসরায়েলের সামনে মূলত দুটি পথ খোলা। প্রথম পথ হলো পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে জাতীয় ঐকমত্যের সরকার বা ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট গঠন। সেখানে নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটের দুই শিবিরকে নিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি জোটের পথ খোঁজা হতে পারে। তবে রাজনৈতিক মতপার্থক্য আর পরস্পরের প্রতি গভীর অনাস্থার কারণে এমন সমঝোতা সহজ হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

দলগুলো যদি কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারে এবং ৬১ আসনের সমর্থন জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে ওঠে, তাহলে সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী দেশটিকে নতুন করে জাতীয় নির্বাচনের দিকে যেতে হতে পারে। এর মধ্যেই প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ রাজনৈতিক দলগুলোকে অচলাবস্থা কাটাতে বিকল্প অংশীদারত্বের বিষয়টি ভেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।

গণনা এখনও শেষ হয়নি

চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়া এখনও চলছে। সামরিক বাহিনীর সদস্য, কূটনীতিক ও কারাবন্দিদের ভোট নিয়ে গঠিত প্রায় সাড়ে চার লাখ থেকে পৌনে পাঁচ লাখ ‘ডাবল-এনভেলপ’ বা ডাকযোগের ব্যালট এখনও গোনা বাকি। ফলে আসনের বিন্যাসে সামান্য বদল আসতে পারে। তবে এই ব্যালট দুই শিবিরের মৌলিক অবস্থান বদলাতে পারবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকেরা।

নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নেতানিয়াহু। স্থায়ী কোনো সমঝোতা না হলে এবং দলগুলো নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকলে ইসরায়েলিদের আবারও ভোটকেন্দ্রে যেতে হয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতির পর্যবেক্ষকেরা।

সূত্র: রয়টার্স

Share this news as a Photo Card

ট্যাগস

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ডাকিনী বিদ্যা’ নিয়ে পর্দায় আসছে পায়েল

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

আকস্মিক পরিদর্শনে পাঁচ চিকিৎসককে দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত পেয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

২৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

ইসরায়েলে কেউই পায়নি ৬১ আসন, ঝুলে গেল ক্ষমতার সমীকরণ

আপডেট সময় ০২:২৬:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের ভোট গণনা প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও দেশটির রাজনীতিতে কাটছে না অনিশ্চয়তার মেঘ। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট কিংবা বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন পরিবর্তনপন্থী শিবির, সরকার গঠনের মতো একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা কেউই পায়নি। ফলে দলগুলো শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় পৌঁছাবে, নাকি দেশটিকে আবার ভোটের মুখোমুখি হতে হবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ১২০ আসনের নেসেটে (ইসরায়েলি পার্লামেন্ট) সরকার গঠনের জন্য দরকার ৬১ আসন। দুই প্রধান শিবিরের কারও পক্ষেই এই সংখ্যায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

চলমান গণনার চিত্র অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর ডানপন্থী, অতি-ডানপন্থী ও আল্ট্রা-অর্থোডক্স দলগুলোর জোট পেতে পারে ৫৩ থেকে ৫৪টি আসন। অন্যদিকে সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির পেয়েছে ৪৮ থেকে ৪৯টি আসন।

এই নির্বাচনে বড় একটি হিসাব তৈরি করেছে আরব-ইসরায়েলি দলগুলো। যৌথভাবে তারা প্রায় ১৯টি আসন নিশ্চিত করেছে। কিন্তু ইহুদি দলগুলোর অধিকাংশই ঐতিহাসিকভাবে আরব দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক জোটে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। এ কারণে আইজেনকোটের পক্ষে ৬১ আসনের জাদুকরী সংখ্যা ছোঁয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।

সামনে কোন পথ

ঝুলন্ত এই ফলাফলের পর ইসরায়েলের সামনে মূলত দুটি পথ খোলা। প্রথম পথ হলো পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে জাতীয় ঐকমত্যের সরকার বা ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট গঠন। সেখানে নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটের দুই শিবিরকে নিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি জোটের পথ খোঁজা হতে পারে। তবে রাজনৈতিক মতপার্থক্য আর পরস্পরের প্রতি গভীর অনাস্থার কারণে এমন সমঝোতা সহজ হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

দলগুলো যদি কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারে এবং ৬১ আসনের সমর্থন জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে ওঠে, তাহলে সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী দেশটিকে নতুন করে জাতীয় নির্বাচনের দিকে যেতে হতে পারে। এর মধ্যেই প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ রাজনৈতিক দলগুলোকে অচলাবস্থা কাটাতে বিকল্প অংশীদারত্বের বিষয়টি ভেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।

গণনা এখনও শেষ হয়নি

চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়া এখনও চলছে। সামরিক বাহিনীর সদস্য, কূটনীতিক ও কারাবন্দিদের ভোট নিয়ে গঠিত প্রায় সাড়ে চার লাখ থেকে পৌনে পাঁচ লাখ ‘ডাবল-এনভেলপ’ বা ডাকযোগের ব্যালট এখনও গোনা বাকি। ফলে আসনের বিন্যাসে সামান্য বদল আসতে পারে। তবে এই ব্যালট দুই শিবিরের মৌলিক অবস্থান বদলাতে পারবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকেরা।

নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নেতানিয়াহু। স্থায়ী কোনো সমঝোতা না হলে এবং দলগুলো নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকলে ইসরায়েলিদের আবারও ভোটকেন্দ্রে যেতে হয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতির পর্যবেক্ষকেরা।

সূত্র: রয়টার্স

Share this news as a Photo Card