শিরোনাম :
আশুলিয়ায় মজুরির দাবিতে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ লংমার্চ নয়, সংবিধান সংস্কারে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইইউ-আমেরিকার বাজার ধরে রাখতে ট্রেসেবিলিটির ৬৬ ঘাটতি মিরপুরে চতুর্থ দিনেই বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে হারাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ সাবলেট উচ্ছেদে আজিমপুরে বিপাকে কলেজছাত্রীরা লং ড্রাইভে না গিয়ে এলাকার ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা করুন: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এইচএসসি পরিক্ষায় কুড়িগ্রামে নয় কলেজের পাস করেননি কেউ সরকারি বাসা সাবলেট দিলেই বরাদ্দ বাতিল, ভাড়াটিয়া সরানোর শেষ সময় আজ এইচএসসিতে ২৯৩ প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেনি এইচএসসিতে পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ, দুই বিষয়ে অকৃতকার্যদের এক মাসের মধ্যে আবার পরীক্ষা

সদরঘাটে লঞ্চের ধাক্কায় ট্রলার ডুবি, নিখোঁজ দুই

সদরঘাটে লঞ্চের ধাক্কায় ট্রলার ডুবি, নিখোঁজ দুই
রাজধানীর সদরঘাট এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীতে একটি লঞ্চের সঙ্গে সংঘর্ষে যাত্রীবাহী ট্রলার ডুবে যাওয়ার ঘটনায় দুজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ট্রলারে থাকা অধিকাংশ যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও নিখোঁজ দুজনের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সদরঘাটের শ্যামবাজার ঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, বরিশাল থেকে ঢাকায় আসা এমভি সুন্দরবন-১২ লঞ্চের সঙ্গে ট্রলারটির সংঘর্ষ হলে মুহূর্তের মধ্যেই সেটি ডুবে যায়।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের পরিদর্শক মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ট্রলারটিতে মোট ১০ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে আটজনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বাকি দুজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, ট্রলারটি যাত্রী নিয়ে কুমিল্লার উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। সংঘর্ষের পর নদীর পানিতে ডুবে গেলে স্থানীয় লোকজন এবং উদ্ধারকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান আরও জোরদার করেন।
উদ্ধারকারী সংস্থা জানিয়েছে, ডুবে যাওয়া ট্রলারটির অবস্থান ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। নিখোঁজ যাত্রীদের খুঁজে বের করতে সদরঘাট নদী ফায়ার স্টেশনের একটি বিশেষ ইউনিট নদীতে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ব্যবহার করে পানির নিচেও তল্লাশি পরিচালনা করা হচ্ছে।
নদীপথে চলাচলকারী যাত্রী ও নৌযানের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে এ দুর্ঘটনা। সদরঘাট বাংলাদেশের অন্যতম ব্যস্ত নৌবন্দর হওয়ায় প্রতিদিন এখানে অসংখ্য লঞ্চ, ট্রলার ও ছোট নৌযান চলাচল করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যস্ত নৌপথে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা, গতিনিয়ন্ত্রণ এবং কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
দুর্ঘটনার পর এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় দেখা যায়। উদ্ধার অভিযান নির্বিঘ্ন রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করেন।
এদিকে নিখোঁজ দুই যাত্রীর স্বজনরা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে উদ্ধার অভিযানের অগ্রগতির অপেক্ষায় রয়েছেন। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, নিখোঁজদের উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় তদন্ত করবে বলেও জানা গেছে।
নদীপথে যাত্রী ও নৌযানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, নিয়মিত তদারকি, নৌযান পরিচালনায় সতর্কতা এবং নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

ভৌগোলিক সীমা ছাড়াই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের নির্দেশ দিলেন মোজতবা খামেনি

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

এইচএসসিতে পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ, দুই বিষয়ে অকৃতকার্যদের এক মাসের মধ্যে আবার পরীক্ষা

৩১ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

সদরঘাটে লঞ্চের ধাক্কায় ট্রলার ডুবি, নিখোঁজ দুই

আপডেট সময় ০১:৩৫:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

সদরঘাটে লঞ্চের ধাক্কায় ট্রলার ডুবি, নিখোঁজ দুই
রাজধানীর সদরঘাট এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীতে একটি লঞ্চের সঙ্গে সংঘর্ষে যাত্রীবাহী ট্রলার ডুবে যাওয়ার ঘটনায় দুজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ট্রলারে থাকা অধিকাংশ যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও নিখোঁজ দুজনের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সদরঘাটের শ্যামবাজার ঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, বরিশাল থেকে ঢাকায় আসা এমভি সুন্দরবন-১২ লঞ্চের সঙ্গে ট্রলারটির সংঘর্ষ হলে মুহূর্তের মধ্যেই সেটি ডুবে যায়।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের পরিদর্শক মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ট্রলারটিতে মোট ১০ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে আটজনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বাকি দুজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, ট্রলারটি যাত্রী নিয়ে কুমিল্লার উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। সংঘর্ষের পর নদীর পানিতে ডুবে গেলে স্থানীয় লোকজন এবং উদ্ধারকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান আরও জোরদার করেন।
উদ্ধারকারী সংস্থা জানিয়েছে, ডুবে যাওয়া ট্রলারটির অবস্থান ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। নিখোঁজ যাত্রীদের খুঁজে বের করতে সদরঘাট নদী ফায়ার স্টেশনের একটি বিশেষ ইউনিট নদীতে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ব্যবহার করে পানির নিচেও তল্লাশি পরিচালনা করা হচ্ছে।
নদীপথে চলাচলকারী যাত্রী ও নৌযানের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে এ দুর্ঘটনা। সদরঘাট বাংলাদেশের অন্যতম ব্যস্ত নৌবন্দর হওয়ায় প্রতিদিন এখানে অসংখ্য লঞ্চ, ট্রলার ও ছোট নৌযান চলাচল করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যস্ত নৌপথে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা, গতিনিয়ন্ত্রণ এবং কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
দুর্ঘটনার পর এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় দেখা যায়। উদ্ধার অভিযান নির্বিঘ্ন রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করেন।
এদিকে নিখোঁজ দুই যাত্রীর স্বজনরা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে উদ্ধার অভিযানের অগ্রগতির অপেক্ষায় রয়েছেন। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, নিখোঁজদের উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় তদন্ত করবে বলেও জানা গেছে।
নদীপথে যাত্রী ও নৌযানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, নিয়মিত তদারকি, নৌযান পরিচালনায় সতর্কতা এবং নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।

Share this news as a Photo Card