শিরোনাম :
মিরপুর টেস্টে ৯৯-তে থেমে সেঞ্চুরির অপেক্ষায় সাদমান দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৯ ও হামে ৭ শিশুর মৃত্যু কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্ব দিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি আহ্বান রাষ্ট্রপতির মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল শুরু ৩১ অক্টোবর, আগে করালে গ্রহণযোগ্য নয় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কায় নিহত চারজন, আহত ১১ মিরপুর টেস্টে স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়লেন হৃদয় আকস্মিক পরিদর্শনে পাঁচ চিকিৎসককে দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত পেয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প ও প্রযুক্তিতে জাপান-বাংলাদেশ সমন্বিতভাবে কাজ করবে ‘মহব্বত’-এ শাকিব খানের নায়িকা কি পাকিস্তানের কিনজা হাশমি ইসরায়েলে ভোট: প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট পাচ্ছে না সংখ্যাগরিষ্ঠতা

দিল্লিতে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচি ঘিরে পুলিশ-বিক্ষোভকারী সংঘর্ষ

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সোমবার পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজপথ। ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থক ও পুলিশের মধ্যে সৃষ্টি হয় ব্যাপক উত্তেজনা। পুলিশের বাধা, লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের মধ্যেও বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ শেষ পর্যন্ত সংসদ ভবনের কাছাকাছি পৌঁছে যায়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনের দিকে অগ্রসর হলে নিরাপত্তার স্বার্থে সংসদের প্রধান ফটক সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। সোমবার যন্তর-মন্তরে হাজারো শিক্ষার্থী, তরুণ ও আন্দোলনকারী জড়ো হয়ে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। তাদের সংসদমুখী পদযাত্রা ঠেকাতে দিল্লি পুলিশ শহরের বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড স্থাপন করে এবং মোতায়েন করে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য।

বিক্ষোভকারীরা সেন্ট্রাল দিল্লি থেকে মিছিল নিয়ে সংসদের দিকে এগোতে চাইলে পুলিশ তাদের পথ আটকে দেয়। একপর্যায়ে কয়েকটি ব্যারিকেড অতিক্রমের চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। এত সব পদক্ষেপের পরও বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ঠিকই সংসদ ভবনের কাছাকাছি পৌঁছে যেতে সক্ষম হয়। এ সময় কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করে পুলিশ এবং তাদের বাসে করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।

এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় সিজেপির নেতারা অভিযোগ তুলেছেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ করেছে। তবে দিল্লি পুলিশ এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে। তাদের ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যতটুকু প্রয়োজন, ঠিক ততটুকুই ও সীমিত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এক বিবৃতিতে দিল্লি পুলিশ আরও জানায়, পুরো পরিস্থিতি পেশাদারিত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করা হচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে জনসাধারণের প্রতি।

ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সোমবারের এই কর্মসূচিতে প্রায় ২০ হাজার মানুষ অংশ নেন, যাদের সিংহভাগই শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজ। এত বিপুল উপস্থিতি স্পষ্ট করে দেয়, আন্দোলনটি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কতটা সাড়া ফেলেছে।

উল্লেখ্য, ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে গত মে মাসে অভিজিৎ দীপক ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) প্রতিষ্ঠা করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই সংগঠনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক নেতা, সমাজকর্মী ও শিল্পীর সমর্থন পায়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটির কার্যক্রম নিয়মিতভাবে আলোচনায় থেকেছে।

এদিকে সোমবারের এই কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে আরেকটি ঘটনা। গত শনিবার অনশনরত পরিবেশ ও শিক্ষা আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুককে অসুস্থতার কারণে যন্তর-মন্তর থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনার রেশ ধরেই সোমবারের বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের ক্ষোভ ও উত্তেজনা বাড়তি মাত্রা পায় বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সব মিলিয়ে, বর্ষাকালীন অধিবেশনের শুরুতেই এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আগামী দিনগুলোয় সিজেপির কার্যক্রম এবং সরকারের প্রতিক্রিয়া কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই নজর থাকবে সবার।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

মিরপুর টেস্টে ৯৯-তে থেমে সেঞ্চুরির অপেক্ষায় সাদমান

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

ইসরায়েলে ভোট: প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট পাচ্ছে না সংখ্যাগরিষ্ঠতা

২৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

দিল্লিতে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচি ঘিরে পুলিশ-বিক্ষোভকারী সংঘর্ষ

আপডেট সময় ০৮:৫১:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সোমবার পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজপথ। ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থক ও পুলিশের মধ্যে সৃষ্টি হয় ব্যাপক উত্তেজনা। পুলিশের বাধা, লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের মধ্যেও বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ শেষ পর্যন্ত সংসদ ভবনের কাছাকাছি পৌঁছে যায়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনের দিকে অগ্রসর হলে নিরাপত্তার স্বার্থে সংসদের প্রধান ফটক সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। সোমবার যন্তর-মন্তরে হাজারো শিক্ষার্থী, তরুণ ও আন্দোলনকারী জড়ো হয়ে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। তাদের সংসদমুখী পদযাত্রা ঠেকাতে দিল্লি পুলিশ শহরের বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড স্থাপন করে এবং মোতায়েন করে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য।

বিক্ষোভকারীরা সেন্ট্রাল দিল্লি থেকে মিছিল নিয়ে সংসদের দিকে এগোতে চাইলে পুলিশ তাদের পথ আটকে দেয়। একপর্যায়ে কয়েকটি ব্যারিকেড অতিক্রমের চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। এত সব পদক্ষেপের পরও বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ঠিকই সংসদ ভবনের কাছাকাছি পৌঁছে যেতে সক্ষম হয়। এ সময় কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করে পুলিশ এবং তাদের বাসে করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।

এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় সিজেপির নেতারা অভিযোগ তুলেছেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ করেছে। তবে দিল্লি পুলিশ এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে। তাদের ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যতটুকু প্রয়োজন, ঠিক ততটুকুই ও সীমিত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এক বিবৃতিতে দিল্লি পুলিশ আরও জানায়, পুরো পরিস্থিতি পেশাদারিত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করা হচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে জনসাধারণের প্রতি।

ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সোমবারের এই কর্মসূচিতে প্রায় ২০ হাজার মানুষ অংশ নেন, যাদের সিংহভাগই শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজ। এত বিপুল উপস্থিতি স্পষ্ট করে দেয়, আন্দোলনটি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কতটা সাড়া ফেলেছে।

উল্লেখ্য, ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে গত মে মাসে অভিজিৎ দীপক ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) প্রতিষ্ঠা করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই সংগঠনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক নেতা, সমাজকর্মী ও শিল্পীর সমর্থন পায়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটির কার্যক্রম নিয়মিতভাবে আলোচনায় থেকেছে।

এদিকে সোমবারের এই কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে আরেকটি ঘটনা। গত শনিবার অনশনরত পরিবেশ ও শিক্ষা আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুককে অসুস্থতার কারণে যন্তর-মন্তর থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনার রেশ ধরেই সোমবারের বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের ক্ষোভ ও উত্তেজনা বাড়তি মাত্রা পায় বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সব মিলিয়ে, বর্ষাকালীন অধিবেশনের শুরুতেই এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আগামী দিনগুলোয় সিজেপির কার্যক্রম এবং সরকারের প্রতিক্রিয়া কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই নজর থাকবে সবার।

Share this news as a Photo Card