সার্ক শক্তিশালী করার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা তথা সার্ককে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার সার্কের মহাসচিব রাষ্ট্রদূত গোলাম সারওয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করতে এলে এই প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। সাক্ষাতের বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছে সার্ক সচিবালয়।
সাক্ষাতকালে মহাসচিব গোলাম সারওয়ার সার্কের কার্যক্রম এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রশ্নে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব ও দৃঢ় অবস্থানের জন্য দেশটির সরকার ও জনসাধারণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠা, স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সমৃদ্ধি ও যৌথ অগ্রগতি নিশ্চিতে সার্কের গুরুত্ব যে কখনও ফুরাবে না, সে কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
আলোচনায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন মহাসচিব। তার ভাষ্যে, জিয়াউর রহমানের দূরদর্শিতা ও নেতৃত্বগুণের কারণেই সার্কের যাত্রা শুরু সম্ভব হয়েছিল। এই সংস্থা গঠনে বাংলাদেশের ভূমিকা যেমন অগ্রণী ছিল, তেমনি আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে দেশটির অবদান আজও অব্যাহত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো একই ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে এবং এই অঞ্চলের মানুষের চাওয়া-পাওয়াও একই রকম। তাই এসব সমস্যা সমাধানে আঞ্চলিক ঐক্য ও সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই। সার্ক প্রক্রিয়াকে সচল রাখতে বাংলাদেশ যে বদ্ধপরিকর, তা আবারও স্পষ্ট করেন তিনি। পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, সংলাপ ও হাতে-কলমে সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন, যাতে আঞ্চলিক সংহতির চেতনা কখনও ম্রিয়মাণ না হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কথায় উঠে আসে ভবিষ্যতের সার্ক নিয়ে তার নিজস্ব চিন্তাভাবনাও। তিনি চান এমন একটি সার্ক, যা হবে গতিশীল, ফলপ্রসূ এবং মানুষকে কেন্দ্র করে পরিচালিত। সদস্য দেশগুলোর অভিন্ন স্বার্থের জায়গাগুলোতে জোর দিয়ে বাস্তবসম্মত সহযোগিতা গড়ে তোলার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন, যা সরাসরি দক্ষিণ এশিয়ার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে বলে তার বিশ্বাস।
মহাসচিব গোলাম সারওয়ারের কর্মকাল জুড়ে সার্কের কার্যক্রম সচল রাখা ও এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। ধারাবাহিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে যোগাযোগ এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে আঞ্চলিক প্রক্রিয়াটি জীবন্ত রাখার জন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
নিজের বক্তব্যে মহাসচিব সার্কের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের ধারাবাহিক সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও দেশটির প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। সার্ক প্রতিষ্ঠাতাদের লক্ষ্য এবং দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী, সংস্থাটির উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন ও আঞ্চলিক প্রক্রিয়ায় নতুন গতি সঞ্চারে সব সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে একযোগে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
আলোচনার শেষ পর্যায়ে সার্ক কৃষি কেন্দ্র ও দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক মান সংস্থা আয়োজনে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন মহাসচিব। সার্ক এবং এর অধীন বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ও আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলোর প্রতি বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার জন্য তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

হার সত্ত্বেও র‍্যাঙ্কিংয়ে সর্বকালের সেরা অবস্থানে বাংলাদেশ

২৩ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

সার্ক শক্তিশালী করার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

আপডেট সময় ০৯:০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা তথা সার্ককে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার সার্কের মহাসচিব রাষ্ট্রদূত গোলাম সারওয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করতে এলে এই প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। সাক্ষাতের বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছে সার্ক সচিবালয়।
সাক্ষাতকালে মহাসচিব গোলাম সারওয়ার সার্কের কার্যক্রম এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রশ্নে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব ও দৃঢ় অবস্থানের জন্য দেশটির সরকার ও জনসাধারণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠা, স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সমৃদ্ধি ও যৌথ অগ্রগতি নিশ্চিতে সার্কের গুরুত্ব যে কখনও ফুরাবে না, সে কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
আলোচনায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন মহাসচিব। তার ভাষ্যে, জিয়াউর রহমানের দূরদর্শিতা ও নেতৃত্বগুণের কারণেই সার্কের যাত্রা শুরু সম্ভব হয়েছিল। এই সংস্থা গঠনে বাংলাদেশের ভূমিকা যেমন অগ্রণী ছিল, তেমনি আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে দেশটির অবদান আজও অব্যাহত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো একই ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে এবং এই অঞ্চলের মানুষের চাওয়া-পাওয়াও একই রকম। তাই এসব সমস্যা সমাধানে আঞ্চলিক ঐক্য ও সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই। সার্ক প্রক্রিয়াকে সচল রাখতে বাংলাদেশ যে বদ্ধপরিকর, তা আবারও স্পষ্ট করেন তিনি। পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, সংলাপ ও হাতে-কলমে সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন, যাতে আঞ্চলিক সংহতির চেতনা কখনও ম্রিয়মাণ না হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কথায় উঠে আসে ভবিষ্যতের সার্ক নিয়ে তার নিজস্ব চিন্তাভাবনাও। তিনি চান এমন একটি সার্ক, যা হবে গতিশীল, ফলপ্রসূ এবং মানুষকে কেন্দ্র করে পরিচালিত। সদস্য দেশগুলোর অভিন্ন স্বার্থের জায়গাগুলোতে জোর দিয়ে বাস্তবসম্মত সহযোগিতা গড়ে তোলার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন, যা সরাসরি দক্ষিণ এশিয়ার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে বলে তার বিশ্বাস।
মহাসচিব গোলাম সারওয়ারের কর্মকাল জুড়ে সার্কের কার্যক্রম সচল রাখা ও এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। ধারাবাহিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে যোগাযোগ এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে আঞ্চলিক প্রক্রিয়াটি জীবন্ত রাখার জন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
নিজের বক্তব্যে মহাসচিব সার্কের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের ধারাবাহিক সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও দেশটির প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। সার্ক প্রতিষ্ঠাতাদের লক্ষ্য এবং দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী, সংস্থাটির উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন ও আঞ্চলিক প্রক্রিয়ায় নতুন গতি সঞ্চারে সব সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে একযোগে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
আলোচনার শেষ পর্যায়ে সার্ক কৃষি কেন্দ্র ও দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক মান সংস্থা আয়োজনে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন মহাসচিব। সার্ক এবং এর অধীন বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ও আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলোর প্রতি বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার জন্য তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

Share this news as a Photo Card