শিরোনাম :
মিরপুর টেস্টে ৯৯-তে থেমে সেঞ্চুরির অপেক্ষায় সাদমান দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৯ ও হামে ৭ শিশুর মৃত্যু কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্ব দিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি আহ্বান রাষ্ট্রপতির মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল শুরু ৩১ অক্টোবর, আগে করালে গ্রহণযোগ্য নয় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কায় নিহত চারজন, আহত ১১ মিরপুর টেস্টে স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়লেন হৃদয় আকস্মিক পরিদর্শনে পাঁচ চিকিৎসককে দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত পেয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প ও প্রযুক্তিতে জাপান-বাংলাদেশ সমন্বিতভাবে কাজ করবে ‘মহব্বত’-এ শাকিব খানের নায়িকা কি পাকিস্তানের কিনজা হাশমি ইসরায়েলে ভোট: প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট পাচ্ছে না সংখ্যাগরিষ্ঠতা

ইসরায়েলে নির্বাচন: হাড়তে পারেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী

ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে মঙ্গলবার ভোট দিচ্ছেন দেশটির নাগরিকেরা। অনেকেই এটিকে দেশটির ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন বলে মনে করছেন। জনমত জরিপে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকোট প্রায় সমানে সমান লড়াইয়ে আছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী হাড়তে পারেন বলে মনে করছেন দেশটির নাগরিকেরা ।

বলা হচ্ছে, এবার পাঁচ লাখ মানুষ প্রথমবারের মতো ভোট দিচ্ছেন। আরও জানা গেছে, প্রায় ৭০ হাজার ইসরায়েলি শুধু ভোট দেওয়ার জন্যই বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন।

শুক্রবার প্রকাশিত জরিপ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর পদের দৌড়ে এই দুজনের ব্যবধান খুবই সামান্য। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। দুজনের কোনো জোটই এই সংখ্যায় পৌঁছাতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে না। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাস দেশটিতে রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলতে পারে।

ইসরায়েলের পার্লামেন্টে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা চালু আছে। এ কারণে সেখানে সরকার বরাবরই জোট সরকার হয়ে থাকে। ক্ষমতার এই লড়াইয়ে অপ্রত্যাশিত ও নতুন জোট তৈরি হতে পারে। অতীতেও বিভিন্ন দল এমন জোট গড়েছে। তবে এবারের নির্বাচন বিশেষভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, দুই পক্ষের মধ্যকার সীমারেখা আগেই স্পষ্ট হয়ে গেছে।

দুই শিবিরের চিত্র

নবগঠিত ইয়াশার পার্টির নেতা আইজেনকোট তথাকথিত ‘পরিবর্তন জোটের’ প্রধান মুখ। জোটভুক্ত দলগুলোর মধ্যে আদর্শগত পার্থক্য রয়েছে। তবে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর লক্ষ্যে তারা একমত। জোটের অন্য নেতাদের মধ্যে আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও আভিগডর লিবারম্যান। দুজনই ডানপন্থী এবং নিরাপত্তা প্রশ্নে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত। এই জোটে বামপন্থী সাবেক জেনারেল ইয়ার গোলানও আছেন।

অন্যদিকে ইসরায়েলি রাজনীতির দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ নেতানিয়াহু ১৯৯৬ সালে প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন। এবার ক্ষমতায় ফেরা নির্ভর করছে উগ্র-ডানপন্থী ও অতি-গোঁড়া ইহুদি দলগুলোর সঙ্গে নতুন করে জোট গড়ার ওপর। বর্তমান শাসক জোটও এই দলগুলোকে নিয়েই গঠিত। বলা হয়ে থাকে, এটি ইসরায়েলের ইতিহাসের সবচেয়ে ডানপন্থী জোট।

নির্বাচনে দুটি আরব দলীয় জোটও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ইসরায়েলের জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আরব, যাদের অনেকে নিজেদের দেশটির ফিলিস্তিনি নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেন। তাত্ত্বিকভাবে ফলাফলের নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠতে পারে এই দলগুলোই। কিন্তু প্রধান ইহুদি দলগুলোর একটি বাদে বাকি সবাই তাদের সঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে।

নিরাপত্তাই মূল ইস্যু

এবারের প্রচারণায় সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় নিরাপত্তা। বিরোধী জোট ২০২৩ সালের সাতই অক্টোবরের হামলার জন্য নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করছে। হামাসের নেতৃত্বে চালানো ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ ইসরায়েলি নিহত হন। ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। বিরোধীরা এই ঘটনার তদন্তে স্বাধীন কমিশন গঠনের দাবি জানাচ্ছে। নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে এর বিরোধিতা করে আসছেন, কারণ এটি তাঁর বিপক্ষে যেতে পারে। বিরোধী জোটের মতে, নেতানিয়াহুর অধীনে দেশটির গণতন্ত্র হুমকির মুখে।

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে একটি মামলাও চলমান। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পাশাপাশি তিনি বিচারব্যবস্থা সংস্কারের বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়েও এগোচ্ছেন। সাতই অক্টোবরের হামলার আগে এ নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল।

তবু নেতানিয়াহু নিজেকে ‘নিরাপত্তার রাজা’ হিসেবে তুলে ধরছেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের যুদ্ধগুলোর কৌশলগত সাফল্য এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা বলছেন।

রবিবার ইসরায়েলের চ্যানেল টুয়েলভ জানায়, নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহু এমন এক সামরিক পদক্ষেপের জন্য চাপ দিয়েছিলেন, যা ইরানের সঙ্গে সংঘাত বাধিয়ে দিতে পারত। কিন্তু তাঁর নিজের সামরিক প্রধান ইয়াল জামির তার বিরোধিতা করেন। পরদিন সিএনএন জানায়, তিনি ট্রাম্পকেও ইরানে নতুন হামলায় রাজি করানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ট্রাম্প সম্মতি দেননি। নেতানিয়াহু দুটি প্রতিবেদনই অস্বীকার করেছেন।

প্রচারের শেষ দিকে তেল আবিবে পারমাণবিক বোমা বর্ষণের একটি এআই-নির্মিত ছবি পোস্ট করে তিনি শিরোনামে আসেন। সঙ্গে সতর্ক করেন, ইরানিরা পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করলে একমাত্র তিনিই ইসরায়েলকে রক্ষা করতে পারবেন। আইজেনকোট তাঁকে ‘উন্মাদ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

সামরিক সেবা ও গাজা প্রশ্ন

বাধ্যতামূলক সামরিক সেবাও এবার বড় বিতর্কের বিষয়। সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিলেন, পূর্ণকালীন ধর্মীয় অধ্যয়নে নিয়োজিত অতি-গোঁড়া ইহুদি পুরুষদেরও সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দিতে হবে। নেতানিয়াহুর সরকার সেই রায় কার্যকর করতে পারেনি। সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোতে হাজার হাজার মানুষকে বাধ্যতামূলকভাবে লড়াইয়ে পাঠানো হয়েছে। তাই বিষয়টি দেশটিতে গভীর বিভাজন তৈরি করেছে। নেতানিয়াহু বর্তমানে যে দুটি অতি-গোঁড়া ইহুদি দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ, তারা বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার বিরুদ্ধে প্রতিবাদকে সমর্থন করেছে।

গাজা প্রশ্নে আইজেনকোটের অবস্থান নেতানিয়াহুর প্রায় কাছাকাছি। তিনি মার্কিন নেতৃত্বাধীন শান্তি পরিকল্পনার মাধ্যমে, প্রয়োজনে সামরিক উপায়ে, ১৮ মাসের মধ্যে গাজায় হামাসের শাসনের অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। গত বছর যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পরও ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিন গাজায় হামলা চালাচ্ছে। তাদের দাবি, তারা হামাস কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করছে।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকে আইজেনকোট মূলত সমর্থন করেন। আন্তর্জাতিক আইনে এই বসতি অবৈধ। তবে তিনি উগ্রপন্থী ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে চান। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই বসতি স্থাপনকারীদের হামলা এখন সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে। ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে তিনি ইসরায়েলি নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণের অধীনে ‘স্বায়ত্তশাসন বা রাষ্ট্র-বিহীন’ পরিস্থিতির কথা বলেছেন। দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান, অর্থাৎ ইসরায়েলের পাশে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র, দেশটির মূলধারার রাজনীতি থেকে প্রায় হারিয়ে গেছে।

ফলাফলের অপেক্ষা

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ১০টায় (জিএমটি রাত ৮টা) ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যমগুলো এক্সিট পোল প্রকাশ করবে। এতে ভোটের গতিপ্রকৃতির কিছুটা আভাস মিলবে, তবে চূড়ান্ত ফলাফলে বড় পার্থক্য থাকতেও পারে। ফল দেখতে দেশজুড়ে মানুষ জড়ো হবেন। নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি জেরুজালেমে এবং গত বছর গঠিত আইজেনকোটের ইয়াশার তেল আবিবে সমাবেশ করবে।

লাখ লাখ সৈন্য ও রিজার্ভ সেনা ভোট দেবেন। তাঁদের ভোটের বেশির ভাগের গণনা বুধবারের আগে শুরু হবে না। এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে ডানপন্থী দলগুলোর শক্তিশালী সমর্থন আছে বলে মনে করা হয়। তাই শেষ মুহূর্তে তারা কিছুটা সুবিধা পেতে পারে।

আরব দলগুলো শেষ পর্যন্ত আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন সংখ্যালঘু সরকারকে অনানুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দিতে পারে বলে কেউ কেউ অনুমান করছেন। কিন্তু পরিবর্তন জোটের সম্ভাব্য সদস্য লিবারম্যান এমন কোনো ব্যবস্থার অংশ হতে রাজি নন। এমন ‘রেডলাইন’ দেখাচ্ছে, হিসাব-নিকাশ বেশ জটিল। ফল হাতে এলে কে কতটা ছাড় দেবেন, আর কে অবস্থান বদলাবেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

বিশ্লেষকদের একটি আশঙ্কা রাজনৈতিক অচলাবস্থা। সে অবস্থায় কোনো জোটই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না, সংখ্যালঘু সরকারও গঠন করা যাবে না। তখন নতুন নির্বাচন ডাকা হবে, আর নেতানিয়াহু অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে থাকবেন। অতীতে এমন ঘটেছেও। ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ইসরায়েলে পাঁচটি আলাদা নির্বাচন হয়েছিল, কারণ দলগুলো বারবার একসঙ্গে কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছিল।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

মিরপুর টেস্টে ৯৯-তে থেমে সেঞ্চুরির অপেক্ষায় সাদমান

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

ইসরায়েলে ভোট: প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট পাচ্ছে না সংখ্যাগরিষ্ঠতা

২৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

ইসরায়েলে নির্বাচন: হাড়তে পারেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৪:০৪:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে মঙ্গলবার ভোট দিচ্ছেন দেশটির নাগরিকেরা। অনেকেই এটিকে দেশটির ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন বলে মনে করছেন। জনমত জরিপে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকোট প্রায় সমানে সমান লড়াইয়ে আছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী হাড়তে পারেন বলে মনে করছেন দেশটির নাগরিকেরা ।

বলা হচ্ছে, এবার পাঁচ লাখ মানুষ প্রথমবারের মতো ভোট দিচ্ছেন। আরও জানা গেছে, প্রায় ৭০ হাজার ইসরায়েলি শুধু ভোট দেওয়ার জন্যই বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন।

শুক্রবার প্রকাশিত জরিপ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর পদের দৌড়ে এই দুজনের ব্যবধান খুবই সামান্য। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। দুজনের কোনো জোটই এই সংখ্যায় পৌঁছাতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে না। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাস দেশটিতে রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলতে পারে।

ইসরায়েলের পার্লামেন্টে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা চালু আছে। এ কারণে সেখানে সরকার বরাবরই জোট সরকার হয়ে থাকে। ক্ষমতার এই লড়াইয়ে অপ্রত্যাশিত ও নতুন জোট তৈরি হতে পারে। অতীতেও বিভিন্ন দল এমন জোট গড়েছে। তবে এবারের নির্বাচন বিশেষভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, দুই পক্ষের মধ্যকার সীমারেখা আগেই স্পষ্ট হয়ে গেছে।

দুই শিবিরের চিত্র

নবগঠিত ইয়াশার পার্টির নেতা আইজেনকোট তথাকথিত ‘পরিবর্তন জোটের’ প্রধান মুখ। জোটভুক্ত দলগুলোর মধ্যে আদর্শগত পার্থক্য রয়েছে। তবে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর লক্ষ্যে তারা একমত। জোটের অন্য নেতাদের মধ্যে আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও আভিগডর লিবারম্যান। দুজনই ডানপন্থী এবং নিরাপত্তা প্রশ্নে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত। এই জোটে বামপন্থী সাবেক জেনারেল ইয়ার গোলানও আছেন।

অন্যদিকে ইসরায়েলি রাজনীতির দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ নেতানিয়াহু ১৯৯৬ সালে প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন। এবার ক্ষমতায় ফেরা নির্ভর করছে উগ্র-ডানপন্থী ও অতি-গোঁড়া ইহুদি দলগুলোর সঙ্গে নতুন করে জোট গড়ার ওপর। বর্তমান শাসক জোটও এই দলগুলোকে নিয়েই গঠিত। বলা হয়ে থাকে, এটি ইসরায়েলের ইতিহাসের সবচেয়ে ডানপন্থী জোট।

নির্বাচনে দুটি আরব দলীয় জোটও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ইসরায়েলের জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আরব, যাদের অনেকে নিজেদের দেশটির ফিলিস্তিনি নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেন। তাত্ত্বিকভাবে ফলাফলের নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠতে পারে এই দলগুলোই। কিন্তু প্রধান ইহুদি দলগুলোর একটি বাদে বাকি সবাই তাদের সঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে।

নিরাপত্তাই মূল ইস্যু

এবারের প্রচারণায় সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় নিরাপত্তা। বিরোধী জোট ২০২৩ সালের সাতই অক্টোবরের হামলার জন্য নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করছে। হামাসের নেতৃত্বে চালানো ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ ইসরায়েলি নিহত হন। ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। বিরোধীরা এই ঘটনার তদন্তে স্বাধীন কমিশন গঠনের দাবি জানাচ্ছে। নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে এর বিরোধিতা করে আসছেন, কারণ এটি তাঁর বিপক্ষে যেতে পারে। বিরোধী জোটের মতে, নেতানিয়াহুর অধীনে দেশটির গণতন্ত্র হুমকির মুখে।

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে একটি মামলাও চলমান। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পাশাপাশি তিনি বিচারব্যবস্থা সংস্কারের বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়েও এগোচ্ছেন। সাতই অক্টোবরের হামলার আগে এ নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল।

তবু নেতানিয়াহু নিজেকে ‘নিরাপত্তার রাজা’ হিসেবে তুলে ধরছেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের যুদ্ধগুলোর কৌশলগত সাফল্য এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা বলছেন।

রবিবার ইসরায়েলের চ্যানেল টুয়েলভ জানায়, নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহু এমন এক সামরিক পদক্ষেপের জন্য চাপ দিয়েছিলেন, যা ইরানের সঙ্গে সংঘাত বাধিয়ে দিতে পারত। কিন্তু তাঁর নিজের সামরিক প্রধান ইয়াল জামির তার বিরোধিতা করেন। পরদিন সিএনএন জানায়, তিনি ট্রাম্পকেও ইরানে নতুন হামলায় রাজি করানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ট্রাম্প সম্মতি দেননি। নেতানিয়াহু দুটি প্রতিবেদনই অস্বীকার করেছেন।

প্রচারের শেষ দিকে তেল আবিবে পারমাণবিক বোমা বর্ষণের একটি এআই-নির্মিত ছবি পোস্ট করে তিনি শিরোনামে আসেন। সঙ্গে সতর্ক করেন, ইরানিরা পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করলে একমাত্র তিনিই ইসরায়েলকে রক্ষা করতে পারবেন। আইজেনকোট তাঁকে ‘উন্মাদ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

সামরিক সেবা ও গাজা প্রশ্ন

বাধ্যতামূলক সামরিক সেবাও এবার বড় বিতর্কের বিষয়। সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিলেন, পূর্ণকালীন ধর্মীয় অধ্যয়নে নিয়োজিত অতি-গোঁড়া ইহুদি পুরুষদেরও সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দিতে হবে। নেতানিয়াহুর সরকার সেই রায় কার্যকর করতে পারেনি। সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোতে হাজার হাজার মানুষকে বাধ্যতামূলকভাবে লড়াইয়ে পাঠানো হয়েছে। তাই বিষয়টি দেশটিতে গভীর বিভাজন তৈরি করেছে। নেতানিয়াহু বর্তমানে যে দুটি অতি-গোঁড়া ইহুদি দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ, তারা বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার বিরুদ্ধে প্রতিবাদকে সমর্থন করেছে।

গাজা প্রশ্নে আইজেনকোটের অবস্থান নেতানিয়াহুর প্রায় কাছাকাছি। তিনি মার্কিন নেতৃত্বাধীন শান্তি পরিকল্পনার মাধ্যমে, প্রয়োজনে সামরিক উপায়ে, ১৮ মাসের মধ্যে গাজায় হামাসের শাসনের অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। গত বছর যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পরও ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিন গাজায় হামলা চালাচ্ছে। তাদের দাবি, তারা হামাস কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করছে।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকে আইজেনকোট মূলত সমর্থন করেন। আন্তর্জাতিক আইনে এই বসতি অবৈধ। তবে তিনি উগ্রপন্থী ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে চান। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই বসতি স্থাপনকারীদের হামলা এখন সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে। ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে তিনি ইসরায়েলি নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণের অধীনে ‘স্বায়ত্তশাসন বা রাষ্ট্র-বিহীন’ পরিস্থিতির কথা বলেছেন। দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান, অর্থাৎ ইসরায়েলের পাশে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র, দেশটির মূলধারার রাজনীতি থেকে প্রায় হারিয়ে গেছে।

ফলাফলের অপেক্ষা

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ১০টায় (জিএমটি রাত ৮টা) ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যমগুলো এক্সিট পোল প্রকাশ করবে। এতে ভোটের গতিপ্রকৃতির কিছুটা আভাস মিলবে, তবে চূড়ান্ত ফলাফলে বড় পার্থক্য থাকতেও পারে। ফল দেখতে দেশজুড়ে মানুষ জড়ো হবেন। নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি জেরুজালেমে এবং গত বছর গঠিত আইজেনকোটের ইয়াশার তেল আবিবে সমাবেশ করবে।

লাখ লাখ সৈন্য ও রিজার্ভ সেনা ভোট দেবেন। তাঁদের ভোটের বেশির ভাগের গণনা বুধবারের আগে শুরু হবে না। এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে ডানপন্থী দলগুলোর শক্তিশালী সমর্থন আছে বলে মনে করা হয়। তাই শেষ মুহূর্তে তারা কিছুটা সুবিধা পেতে পারে।

আরব দলগুলো শেষ পর্যন্ত আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন সংখ্যালঘু সরকারকে অনানুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দিতে পারে বলে কেউ কেউ অনুমান করছেন। কিন্তু পরিবর্তন জোটের সম্ভাব্য সদস্য লিবারম্যান এমন কোনো ব্যবস্থার অংশ হতে রাজি নন। এমন ‘রেডলাইন’ দেখাচ্ছে, হিসাব-নিকাশ বেশ জটিল। ফল হাতে এলে কে কতটা ছাড় দেবেন, আর কে অবস্থান বদলাবেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

বিশ্লেষকদের একটি আশঙ্কা রাজনৈতিক অচলাবস্থা। সে অবস্থায় কোনো জোটই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না, সংখ্যালঘু সরকারও গঠন করা যাবে না। তখন নতুন নির্বাচন ডাকা হবে, আর নেতানিয়াহু অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে থাকবেন। অতীতে এমন ঘটেছেও। ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ইসরায়েলে পাঁচটি আলাদা নির্বাচন হয়েছিল, কারণ দলগুলো বারবার একসঙ্গে কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছিল।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

Share this news as a Photo Card