বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর সারাদেশে বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সিরাজগঞ্জের বেলকুচি পৌরসভার উন্নয়ন ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসক হিসেবে স্থানীয়দের মুখে উচ্চারিত হচ্ছে এক সাহসী ও ত্যাগী নেতার নাম মোঃ আলম প্রামাণিক (আলম কমিশনার)।
বেলকুচি উপজেলা যুবদলের বর্তমান সদস্য সচিব এবং টানা তিনবারের সফল কাউন্সিলর আলম প্রামাণিককে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য বর্তমান সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খান আলীমের নিকট জোর দাবি জানিয়েছে পৌরসভার সর্বস্তরের জনগণ ও স্থানীয় বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
তৃণমূল থেকে উঠে আসা এক লড়াকু সৈনিক
আলম প্রামাণিক কেবল একজন রাজনৈতিক নেতাই নন, তিনি বেলকুচির মানুষের আপদে-বিপদে আস্থার প্রতীক। আওয়ামী লীগের গত ১৭ বছরের শাসনামলে যখন বিরোধী দলের টিকে থাকা ছিল দুষ্কর, তখন তিনি প্রতিকূল পরিবেশে থেকেও জনগণের ভোটে টানা তিনবার ৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ক্ষমতাসীনদের রোষানল উপেক্ষা করে জনগণের এই বিপুল সমর্থনই প্রমাণ করে তিনি কতটা জনবান্ধব ও যোগ্য। বিশেষ করে নারীদের অধিকার রক্ষা ও উন্নয়নে তাঁর বিশেষ ভূমিকার কারণে সাধারণ নারীদের মাঝে তাঁর আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা রয়েছে।
ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল রাজনৈতিক জীবন
বিগত শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আন্দোলনে বেলকুচিতে সামনের সারি থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন আলম প্রামাণিক। এই দীর্ঘ সময়ে তাকে সইতে হয়েছে অমানুষিক জুলুম ও নির্যাতন। তার নামে দেওয়া হয়েছে ১৮টি রাজনৈতিক মামলা। অসংখ্যবার কারাভোগ করেছেন, ডিবি পুলিশের নিয়মিত অভিযানের কারণে ১৭ বছর নিজ বাড়িতে শান্তিতে ঘুমাতে পারেননি। স্ত্রী-সন্তান ও বৃদ্ধ বাবা-মাকে প্রতিটি দিন কাটাতে হয়েছে চরম আতঙ্কে। আওয়ামীলীগের ক্যাডার বাহিনী একাধিকবার তার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে, কিন্তু দমাতে পারেনি এই আপসহীন নেতাকে।
আমিরুল ইসলাম খান আলীমের আস্থাভাজন ও বিশ্বস্ত অগ্রসৈনিক
বেলকুচি-চৌহালী-এনায়েতপুরের গণমানুষের প্রিয় নেতা বিপুল ভোটে সদ্য বিজয়ী সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খান আলীমের দুঃসময়ের সবচাইতে কাছের মানুষ হিসেবে পরিচিত আলম প্রামাণিক। উপজেলার সমেশপুর এলাকায় যখন ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা এমপি আলীমের ওপর হামলা চালায়, তখন আলম প্রামাণিক নিজের জীবন বাজি রেখে ঢাল হিসেবে দাঁড়িয়ে নেতাকে রক্ষা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন এবং নিজে গুরুতর আহত হন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তামাই গ্রামে যুবলীগ ক্যাডারদের সশস্ত্র হামলার মুখেও তিনি পিছু হটেননি। এমনকি ঢাকায় গুমের উদ্দেশ্যে তাকে অপহরণ করার চেষ্টা করা হলেও অলৌকিকভাবে তিনি প্রাণে বেঁচে যান, যদিও পরবর্তীতে তাকে গ্রেফতার করে জেল-জুলুম চালানো হয়।
উন্নয়ন ও জনসেবার কারিগর
প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশ সত্বেও, কাউন্সিলর থাকাকালীন ৮ নং ওয়ার্ডে রাস্তাঘাট নির্মাণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন আলম প্রামাণিক। করোনা মহামারি কিংবা বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে সব সময় তিনি ত্রাণ ও আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে গিয়েছেন। এছাড়াও পৌরবাসীর যেকোনো বিপদ-আপদে রাত-দিন যেকোনো সময়ে ডাকলেই তাকে পাশে পাওয়া যায় বলে স্থানীয়দের আলোচনা ও বিভিন্ন সামজিক অনুষ্ঠানের মধ্যমণি হয়ে উঠেছেন তিনি।
জনগণের দাবি ও প্রত্যাশা
স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মতে, বেলকুচি পৌরসভার দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও স্থবিরতা কাটাতে আলম প্রামাণিকের মতো একজন সাহসী, সৎ ও অভিজ্ঞ প্রশাসকের বিকল্প নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তাকে প্রশাসক হিসেবে দেখার দাবি জোরালো হচ্ছে।
এলাকাবাসী বলছেন, “যিনি ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে রাজপথে রক্ত দিয়েছেন এবং বারবার কারানির্যাতিত হয়েছেন, সেই আলম কমিশনারকেই আমরা বেলকুচি পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে দেখতে চাই। তিনি এমপি আমিরুল ইসলাম খান আলীমের হাতকে শক্তিশালী করে একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন পৌরসভা উপহার দিতে পারবেন এবং এতে পৌরসভার উন্নয়নে নতুন গতির সঞ্চার হবে।”
এখন বেলকুচির মানুষের এই প্রাণের দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মাননীয় সংসদ সদস্য কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, সেটাই দেখার অপেক্ষায় পৌরবাসী।
জুবায়ের হোসাইন, জেলা প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ 
























