সৌদি চুক্তিতে ২৪ ঘণ্টায় অবস্থান বদল ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের বহু প্রতীক্ষিত বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নতুন শর্ত জুড়ে দিয়ে আলোচনায় এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর আকস্মিক অবস্থান পরিবর্তনে চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বুধবার ওয়াশিংটনে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট উপস্থিত ছিলেন এবং সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী ভার্চ্যুয়ালি অংশ নেন। দীর্ঘদিনের আলোচনার পর হওয়া এই সমঝোতাকে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সহযোগিতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

তবে পরদিন ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ঘোষণা দেন, চুক্তি কার্যকর করতে হলে সৌদি আরবকে অবশ্যই ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে’ যোগ দিতে হবে। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করেন, সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া হবে না। এই ঘোষণায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে চুক্তির প্রকৃত শর্ত এবং প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তি ঘোষণার সময় নিয়েও হোয়াইট হাউস ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে মতপার্থক্য ছিল। অভিযোগ রয়েছে, প্রেসিডেন্টকে না জানিয়েই জ্বালানি মন্ত্রণালয় চুক্তি ঘোষণার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে। পরে বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। যদিও জ্বালানি মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, পুরো প্রক্রিয়ায় হোয়াইট হাউস ও পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করা হয়েছিল।
চুক্তিটি ঘিরে রক্ষণশীল মহলও সমালোচনা শুরু করে। ফক্স নিউজ ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রশ্ন তোলে, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার শর্ত ছাড়া কেন সৌদি আরবকে এমন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ মিললে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এদিকে ইসরায়েলের কয়েকটি সূত্রের দাবি, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে চুক্তিতে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার শর্ত যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। যদিও হোয়াইট হাউস এ দাবি অস্বীকার করে বলেছে, ট্রাম্প কেবল তাঁর দীর্ঘদিনের নীতিগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
সব মিলিয়ে, বহুল আলোচিত এই পারমাণবিক চুক্তি এখন কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে। নতুন শর্তের কারণে ওয়াশিংটন ও রিয়াদের পরবর্তী আলোচনাই নির্ধারণ করবে চুক্তির ভবিষ্যৎ কোন দিকে এগোয়।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যু, জামাত এমপি নজরুলের চার দিনের রিমান্ড

২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

সৌদি চুক্তিতে ২৪ ঘণ্টায় অবস্থান বদল ট্রাম্পের

আপডেট সময় ১২:০৩:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের বহু প্রতীক্ষিত বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নতুন শর্ত জুড়ে দিয়ে আলোচনায় এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর আকস্মিক অবস্থান পরিবর্তনে চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বুধবার ওয়াশিংটনে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট উপস্থিত ছিলেন এবং সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী ভার্চ্যুয়ালি অংশ নেন। দীর্ঘদিনের আলোচনার পর হওয়া এই সমঝোতাকে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সহযোগিতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

তবে পরদিন ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ঘোষণা দেন, চুক্তি কার্যকর করতে হলে সৌদি আরবকে অবশ্যই ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে’ যোগ দিতে হবে। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করেন, সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া হবে না। এই ঘোষণায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে চুক্তির প্রকৃত শর্ত এবং প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তি ঘোষণার সময় নিয়েও হোয়াইট হাউস ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে মতপার্থক্য ছিল। অভিযোগ রয়েছে, প্রেসিডেন্টকে না জানিয়েই জ্বালানি মন্ত্রণালয় চুক্তি ঘোষণার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে। পরে বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। যদিও জ্বালানি মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, পুরো প্রক্রিয়ায় হোয়াইট হাউস ও পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করা হয়েছিল।
চুক্তিটি ঘিরে রক্ষণশীল মহলও সমালোচনা শুরু করে। ফক্স নিউজ ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রশ্ন তোলে, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার শর্ত ছাড়া কেন সৌদি আরবকে এমন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ মিললে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এদিকে ইসরায়েলের কয়েকটি সূত্রের দাবি, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে চুক্তিতে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার শর্ত যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। যদিও হোয়াইট হাউস এ দাবি অস্বীকার করে বলেছে, ট্রাম্প কেবল তাঁর দীর্ঘদিনের নীতিগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
সব মিলিয়ে, বহুল আলোচিত এই পারমাণবিক চুক্তি এখন কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে। নতুন শর্তের কারণে ওয়াশিংটন ও রিয়াদের পরবর্তী আলোচনাই নির্ধারণ করবে চুক্তির ভবিষ্যৎ কোন দিকে এগোয়।

Share this news as a Photo Card