এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে ভুল করা পরীক্ষকদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পুনর্মূল্যায়নে যেসব খাতার নম্বর বদলেছে, সেগুলো আলাদা করা হয়েছে। ভুলের ধরন পর্যালোচনার পর সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ কথা জানান।
পর্যালোচনার পথে কমিটি
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পুনর্মূল্যায়নের পর দেখা গেছে, পরীক্ষকদের মূল্যায়নে দুর্বলতা রয়েছে। সে কারণেই নম্বর পরিবর্তন হওয়া খাতাগুলো আলাদা করা হয়েছে। একটি কমিটি এসব খাতা যাঁরা মূল্যায়ন করেছেন, তাঁদের ভুলের ধরন খতিয়ে দেখবে। এরপর তাঁদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। যাঁরা সঠিকভাবে খাতা মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা-ও বিবেচনায় থাকবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, এত শিক্ষার্থীর ফল বদলে যাওয়া প্রমাণ করে, পরীক্ষকদের মূল্যায়নপ্রক্রিয়া নতুন করে দেখা দরকার। দুর্বলতা ঠিক কোথায়, তা যাচাই করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আরও তথ্য পর্যালোচনার পর পরে জানানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আবেদন ও ফলাফলের হিসাব
শিক্ষামন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবার পুনর্মূল্যায়নের জন্য বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়ে। লিখিত পরীক্ষার খাতার জন্য আবেদন এসেছে প্রায় ১০ লাখ ৫৬ হাজার। ব্যবহারিক পরীক্ষার খাতার জন্য এসেছে প্রায় ২ লাখ ৩১ হাজার। সব মিলিয়ে আবেদন করা খাতার সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ ৮৭ হাজার।
পুনর্মূল্যায়নের পর ৫৬ হাজার ২৪৯টি খাতার নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। এর ফলে ৪ হাজার ৫৮৫ জন পরীক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছেন। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৯ জন।
আগের পদ্ধতি ও নতুন সুযোগ
শিক্ষামন্ত্রী জানান, আগে প্রচলিত পদ্ধতিতে মূলত নম্বর যোগ করার ভুল যাচাই করা হতো। খাতার ভেতরে দেওয়া নম্বর বা মূল্যায়নের যথার্থতা যাচাইয়ের সুযোগ ছিল সীমিত। এবার আইনি ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে খাতা পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে। এতে মূল্যায়নের দুর্বলতা চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে।
তাঁর ভাষ্য, পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের খাতা নতুন করে যাচাইয়ের পথ তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে খাতা মূল্যায়নের মান উন্নত করা এবং শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য নম্বর নিশ্চিত করতে এই প্রক্রিয়া চলবে।
উপস্থিত ছিলেন যাঁরা
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারাও ছিলেন।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 




















